দিল্লিতে ইন্ডিয়া ব্লকের মিছিল ঘিরে ৪টি FIR, ৫০০ পোস্ট সরাতে পুলিশের চিঠি! পাক-যোগের সন্দেহ
প্রায় ৫০০টি পোস্ট ও অন্যান্য অনলাইন বিষয়বস্তু সরিয়ে দেওয়ার জন্য সমাজমাধ্যম সংস্থাগুলিকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এই প্রচারের পিছনে পাকিস্তান থেকে পরিচালিত কিছু অ্যাকাউন্টের হাত থাকতে পারে বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের। যদিও সেই অভিযোগ এখনও তদন্তের পর্যায়ে।
ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের আন্দোলন ঘিরে উত্তপ্ত রাজধানী। তারই মধ্যে দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের মিছিলকে কেন্দ্র করে চারটি এফআইআর দায়ের করল পুলিশ। অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমায়েতের পাশাপাশি পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙা এবং রাস্তা নোংরা করার মতো ঘটনা ঘটেছে। শুধু তাই নয়, আন্দোলনকে ঘিরে সমাজমাধ্যমে ছড়ানো ভুয়ো এবং বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপ করছে দিল্লি পুলিশ। প্রায় ৫০০টি পোস্ট ও অন্যান্য অনলাইন বিষয়বস্তু সরিয়ে দেওয়ার জন্য সমাজমাধ্যম সংস্থাগুলিকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এই প্রচারের পিছনে পাকিস্তান থেকে পরিচালিত কিছু অ্যাকাউন্টের হাত থাকতে পারে বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের। যদিও সেই অভিযোগ এখনও তদন্তের পর্যায়ে।

কী অভিযোগ পুলিশের?
সোমবার দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের মিছিলকে কেন্দ্র করে বিপুল সংখ্যক মানুষের জমায়েত হয়েছিল। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে বিভিন্ন বিরোধী দলের নেতা এবং সমর্থকেরা বারাখাম্বা রোড থেকে সুপ্রিম কোর্টের দিকে মিছিল করেন। তাঁদের দাবি ছিল, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ করতে হবে এবং এসআইআর প্রক্রিয়া বন্ধ করতে হবে। এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদনও জমা দেওয়া হয়।
পুলিশের দাবি, ওই এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারায় নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল। সেই অবস্থায় জমায়েত হওয়ায় আইন লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙা এবং সরকারি সম্পত্তি ও রাস্তার ক্ষতি করার অভিযোগেও মামলা দায়ের হয়েছে।
দিল্লি পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, এই ঘটনায় তিলক মার্গ থানায় দুটি এফআইআর করা হয়েছে। মন্দির মার্গ এবং বারাখাম্বা রোড থানায় দায়ের হয়েছে একটি করে এফআইআর। অর্থাৎ, মিছিল সংক্রান্ত অভিযোগে মোট চারটি মামলা হয়েছে।
৫০০টি পোস্ট সরানোর উদ্যোগ
মিছিলকে কেন্দ্র করে সমাজমাধ্যমে ছড়ানো নানা ভিডিয়ো এবং পোস্ট নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের সন্দেহ, ১০০টিরও বেশি সন্দেহজনক অ্যাকাউন্ট থেকে বিভ্রান্তিকর প্রচার চালানো হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি অ্যাকাউন্ট পাকিস্তান থেকে পরিচালিত হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, পুরনো দাঙ্গা এবং হিংসার ভিডিয়ো সম্পাদনা করে দিল্লির সাম্প্রতিক আন্দোলনের দৃশ্য বলে প্রচার করা হয়েছে। এমনকি ভারতীয় যুবকদের নামে ভুয়ো অ্যাকাউন্ট তৈরি করে সেই পোস্টগুলিকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার চেষ্টাও হয়েছে বলে অভিযোগ। এই ধরনের প্রচারের লক্ষ্য ছিল দেশে অশান্তি ছড়ানো এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করা, দাবি তদন্তকারীদের।
গত ১০ অক্টোবরও দিল্লিতে ব্যাপক হিংসা ছড়িয়েছে বলে সমাজমাধ্যমে একাধিক পোস্ট ছড়িয়ে পড়েছিল। একটি পোস্টে দাবি করা হয়, রাজধানীতে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে এবং বাজার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু দিল্লি পুলিশ জানায়, সংশ্লিষ্ট ভিডিয়োর সঙ্গে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কোনও সম্পর্ক নেই। ভিডিয়োটি ভুল প্রেক্ষাপটে ছড়ানো হচ্ছে বলেও জানানো হয়।
রাজনৈতিক সংঘাতের আবহ
ইন্ডিয়া জোটের মিছিল ঘিরে দিল্লিতে নিরাপত্তার ব্যবস্থা ছিল কড়া। পুলিশ সূত্রে খবর, নয়াদিল্লি এবং আশপাশের এলাকায় ১০ হাজারেরও বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল। ভগবান দাস রোডে পুলিশের গাড়ি ও বাসের উপর উঠে স্লোগান দেন কয়েক জন সমর্থক। পরে পুলিশ তাঁদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে ধাক্কাধাক্কির পরিস্থিতি তৈরি হয়।
এক দিকে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের আন্দোলন, অন্য দিকে সেই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ভুয়ো তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ। দুই ক্ষেত্রেই তদন্তে নেমেছে দিল্লি পুলিশ। আপত্তিকর ও বিভ্রান্তিকর বলে চিহ্নিত প্রায় ৫০০টি অনলাইন বিষয়বস্তু সরানোর আবেদন জানানো হয়েছে। তবে কোনও পোস্ট সরানো হয়েছে কি না, কিংবা পাকিস্তান-যোগের অভিযোগের সত্যতা কতটা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তদন্তের ফলের উপরেই নির্ভর করছে পরবর্তী পদক্ষেপ।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


