Cyclone Arnab: অর্ণবের তাণ্ডবে অন্ধ্রপ্রদেশে মৃত ৫, লণ্ডভণ্ড রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকা, বিপর্যস্ত ওড়িশাও

Cyclone Arnab: ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশার বিভিন্ন জেলায় ভারী বৃষ্টি হয়েছে। ঝড়ের আগেই দুই রাজ্যে ১ লক্ষ ৮০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।

Published on: Oct 28, 2026, 19:00:36 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

Cyclone Arnab: অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে আছড়ে পড়েছে ‘অতি শক্তিশালী’ ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব।’ বুধবার ভোরে উপকূলে আঘাত হানার পর ছয় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে এর স্থলভাগে প্রবেশের প্রক্রিয়া। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে এখনও পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর খবর এসেছে বিশাখাপত্তনম, আনারাপল্লি, কাকীনাডা, কোনাসীমা এবং পশ্চিম গোদাবরী থেকে। নিহতদের মধ্যে কেউ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে, আবার কেউ গাছ ভেঙে পড়ার ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।

অর্ণবের তাণ্ডবে অন্ধ্রপ্রদেশে মৃত ৫ (REUTERS)
অর্ণবের তাণ্ডবে অন্ধ্রপ্রদেশে মৃত ৫ (REUTERS)

আইএমডি বুধবার সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে প্রকাশিত বুলেটিনে জানিয়েছে, ‘অতি শক্তিশালী’ ঘূর্ণিঝড় হিসেবে অর্ণব অন্ধ্রপ্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূল অতিক্রম করেছে। আইএমডির শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী, এটি ঘূর্ণিঝড়ের তৃতীয় সর্বোচ্চ শ্রেণি। বুলেটিনে বলা হয়, ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্র নরসাপুর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার পূর্বে, ইয়ানামের দক্ষিণ-দক্ষিণ-পশ্চিমে ৪০ কিলোমিটার, কাকীনাডার দক্ষিণ-দক্ষিণ-পশ্চিমে ৬০ কিলোমিটার এবং মাচিলিপত্তনমের পূর্ব-উত্তর-পূর্বে ৯০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিল। আইএমডি জানিয়েছে, সর্বশেষ পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্র সম্পূর্ণভাবে স্থলভাগে প্রবেশ করেছে। উপকূল অতিক্রমের সময় এর একটানা সর্বোচ্চ বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার। দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠেছিল। বুধবার সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ ঘূর্ণিঝড়টি অতি প্রবল থেকে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয় বলে জানিয়েছে আইএমডি।

সরিয়ে নেওয়া হয় ১ লক্ষ ৮০ হাজারের বেশি মানুষ

ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশার বিভিন্ন জেলায় ভারী বৃষ্টি হয়েছে। ঝড়ের আগেই দুই রাজ্যে ১ লক্ষ ৮০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। বুধবার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে সর্বোচ্চ ৩১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এ ছাড়া বিজয়নগরমে ৩০১ মিলিমিটার, আনারাপল্লিতে ২৭৫ মিলিমিটার, শ্রীকাকুলামে ২৫৭ মিলিমিটার এবং কৃষ্ণা জেলায় ২২৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে ওডিশার কোরাপুটে ১৮৮ মিলিমিটার, গঞ্জামে ১৬১ মিলিমিটার এবং গজপতিতে ১৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়ের কারণে বুধবার বিশাখাপত্তনম ও বিজয়ওয়াড়াগামী বেশ কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল করেছে বিভিন্ন বিমান সংস্থা। বিদ্যুৎ সরবরাহও ব্যাহত হয়েছে এবং বহু গাছ উপড়ে পড়েছে। কিছু এলাকায় স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে, বাতিল করা হয়েছে কয়েকটি ট্রেনের চলাচলও। তবে ওড়িশা ও অন্ধ্রপ্রদেশে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে প্রাণহানির আর কোনও খবর পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বুধবার ও বৃহস্পতিবার ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

যেভাবে ঘূর্ণিঝড়ের নাম হলো 'অর্ণব'

ঘূর্ণিঝড়টির ‘অর্ণব’ নামটি প্রস্তাব করেছিল বাংলাদেশ। ২০২০ সালে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) এবং রাষ্ট্রসংঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের (এসকাপ) ঘূর্ণিঝড় বিষয়ক প্যানেল অনুমোদিত নামের তালিকায় এটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বাংলা ভাষায় ‘অর্ণব’ শব্দটি সমুদ্র বা সাগরের সঙ্গে সম্পর্কিত। উত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের তালিকায় রয়েছে ১৩টি দেশের প্রস্তাবিত নাম। দেশগুলো হলো বাংলাদেশ, ভারত, ইরান, মলদ্বীপ, মায়ানমার, ওমান, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও ইয়েমেন।

প্রতিটি দেশ ১৩টি করে নাম প্রস্তাব করায় তালিকায় মোট নামের সংখ্যা ১৬৯। বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগর-সহ উত্তর ভারত মহাসাগরে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হলে ধারাবাহিকভাবে এসব নাম ব্যবহার করা হয়। ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের উদ্দেশ্য হলো নির্দিষ্ট ঝড়কে সহজে শনাক্ত করা, এর গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে মানুষকে সচেতন রাখা এবং একই সময়ে একাধিক ঝড় সৃষ্টি হলে বিভ্রান্তি কমানো।