Thailand Indian tourist kidnapping: সস্তায় ঘোরার ফাঁদ! থাইল্যান্ডে তিন ভারতীয়কে অপহরণের নেপথ্যে পাক যোগ? গ্রেফতার ৫
Thailand Indian tourist kidnapping: তদন্তে জানা গেছে, কম খরচে পাটায়ায় সাত দিনের একটি আকর্ষণীয় ছুটির প্যাকেজের প্রলোভন দিয়ে ওই তরুণদের থাইল্যান্ডে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু পৌঁছানোর পরই তাঁদের তুলে নিয়ে গিয়ে একটি বাড়িতে বন্দি করে রাখা হয়।
Thailand Indian tourist kidnapping: থাইল্যান্ডে কম খরচে ঘুরে আসার প্রলোভন যে এমন ভয়ঙ্কর স্বপ্নভঙ্গে পরিণত হবে, তা ঘুণাক্ষরেও আঁচ করতে পারেননি ভারতের তিন যুবক। কম খরচে ছুটি কাটানোর প্রলোভনে থাইল্যান্ডে ডেকে নিয়ে তিন ভারতীয় তরুণকে অপহরণ ও নির্মম নির্যাতন চালানোর অভিযোগে পাঁচ ভারতীয় নাগরিককে গ্রেফতার করেছে থাই পুলিশ। থাইল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম ব্যাংকক পোস্টের প্রতিবেদন অনুসারে, মঙ্গলবার ব্যাংককের খ্লং তান এলাকার একটি হোটেল থেকে দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করার সময় অভিযুক্তদের আটক করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, সস্তায় থাইল্যান্ড ট্যুর প্যাকেজের টোপ দিয়ে তিন ভারতীয়কে অপহরণ করে আটকে রাখা হয়। এরপরে পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণও দাবি করে অভিযুক্তরা।

এ ঘটনায় গ্রেফতার পাঁচ ভারতীয় নাগরিকের পরিচয় প্রকাশ করেছে থাই পুলিশ। অভিযুক্তরা হল- অবতার সিং (৩৮), জগজিৎ সিং (৩৮), রামবালক কুমার (২৪), সুখবীর সিং (৩৭) এবং কুলরা সিং (২৭)। পুলিশ সূত্রের খবর, অভিযুক্তরা জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে যে মাসখানেক আগে এক চ্যাট অ্যাপের মাধ্যমে পাকিস্তানি এক ব্যক্তির সঙ্গে তাদের যোগাযোগ হয়। সেই ব্যক্তির নির্দেশেই ওই তিন ভারতীয় তরুণকে অপহরণ করা হয়েছিল। পুলিশ মনে করছে, পুরো ঘটনার মূল চক্রান্তকারী দুবাইয়ে বসে কলকাঠি নাড়ছিল। অপহৃতদের পরিবার থেকে ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে মুক্তিপণ আদায় করাই ছিল তাঁর মূল লক্ষ্য। আর এই কাজ নিষ্পত্তির বদলে অপহৃতদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া টাকা-পয়সা, দামি জিনিসপত্র এবং থাইল্যান্ড ছেড়ে পালানোর বিমানের টিকিট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল ওই পাঁচ অভিযুক্তকে।
তদন্তে জানা গেছে, কম খরচে পাটায়ায় সাত দিনের একটি আকর্ষণীয় ছুটির প্যাকেজের প্রলোভন দিয়ে ওই তরুণদের থাইল্যান্ডে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু পৌঁছানোর পরই তাঁদের তুলে নিয়ে গিয়ে একটি বাড়িতে বন্দি করে রাখা হয়। সেখানে দিনভর চালানো হয় অমানুষিক নির্যাতন। সোমবার সন্ধ্যায় এক বিশেষ পুলিশি অভিযানে অবশেষে নরকযন্ত্রণা থেকে উদ্ধার পান তাঁরা। অপহৃত তরুণদের পরিবারের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর থাইল্যান্ডের ভারতীয় দূতাবাস ২১ জুলাই বিষয়টি চোনবুরি ইমিগ্রেশন পুলিশ ও পাটায়া সিটি পুলিশকে জানায়। এর পরেই প্রকাশ্যে আসে এই অপরাধের ঘটনা। পরিবারের সদ্যসরা পুলিশকে কয়েকটি ভিডিও কলের রেকর্ড দেখান-যেখানে দেখা যায় তরুণদের হাত-পা বেঁধে বেধড়ক মারধর করা হচ্ছে। মুক্তিপণ হিসেবে প্রতিটি পরিবারের কাছে দাবি করা হয়েছিল ৪০ লক্ষ টাকা (প্রায় ৪১,৮৩১ ডলার)।
সিসিটিভি ফুটেজ ও গোপন তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সোমবার পাটায়ার একটি দোতলা টাউনহাউসে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকে মোহিত (২৩), আশিস (২৪) ও হিমাংশু (২০) নামের তিন তরুণকে উদ্ধার করা হয়। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দোতলার একটি কক্ষে তাঁদের হাত-পা বাঁধা এবং মুখে কস্টেপ লাগানো অবস্থায় পাওয়া যায়। তাঁদের সারা শরীরে ছিল নির্মম আঘাতের চিহ্ন। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ কস্টেপ, নির্যাতনের কাজে ব্যবহৃত কাঠের লাঠি এবং লাল রঙের স্প্রে পেইন্ট উদ্ধার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, পরিবারের লোকজনকে ভয় দেখাতে ও দ্রুত টাকা আদায়ে বাধ্য করতে লাল স্প্রে ছিটিয়ে শরীরে ভুয়ো ক্ষতচিহ্ন তৈরি করা হতো। উদ্ধার পাওয়া তরুণেরা জানান, তাঁদের আগে আরও এক ভারতীয়কে একই বাড়িতে বন্দি করে রাখা হয়েছিল। পরে তাঁর পরিবার প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দেওয়ার পরই তাঁকে মুক্তি দেয়।
E-Paper

