আইআরজিসি-কে সহযোগিতার অভিযোগে ভারত-সহ চার দেশের ৬ সংস্থা ও ব্যক্তির উপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

ইরানের বিমান সংস্থা মহান এয়ারকে সহযোগিতা করার অভিযোগে মোট ৬ সংস্থা ও ব্যক্তির উপর নতুন করে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন বিদেশ দফতরের মুখপাত্র টমি পিগট এক সরকারি বিবৃতিতে জানান, নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা সংস্থা ও ব্যক্তিরা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মহান এয়ারকে সহায়তা করেছে।

Published on: Jul 31, 2026, 08:59:43 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এবং ইরানকে ঘিরে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আবহে বড় পদক্ষেপ করল যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এবং তাদের সঙ্গে যুক্ত বিমান সংস্থা মহান এয়ারকে সহযোগিতা করার অভিযোগে ভারত, চিন, রাশিয়া এবং ইরানে অবস্থিত মোট ছয়টি সংস্থা ও ব্যক্তির উপর নতুন করে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, আইআরজিসির সামরিক ও সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করতেই এই পদক্ষেপ।

ইরানের বিমান সংস্থা মহান এয়ারকে সহযোগিতা করার অভিযোগে ভারত, চিন, রাশিয়া এবং ইরানে অবস্থিত মোট ছয়টি সংস্থা ও ব্যক্তির উপর নতুন করে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। (AP Photo/Julia Demaree Nikhinson)
ইরানের বিমান সংস্থা মহান এয়ারকে সহযোগিতা করার অভিযোগে ভারত, চিন, রাশিয়া এবং ইরানে অবস্থিত মোট ছয়টি সংস্থা ও ব্যক্তির উপর নতুন করে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। (AP Photo/Julia Demaree Nikhinson)

মার্কিন বিদেশ দফতরের মুখপাত্র টমি পিগট এক সরকারি বিবৃতিতে জানান, নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা সংস্থা ও ব্যক্তিরা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর এবং মহান এয়ারকে সহায়তা করেছে। তাঁর অভিযোগ, মহান এয়ার দীর্ঘদিন ধরেই আইআরজিসির পছন্দের বিমান সংস্থা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। অস্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম, সেনাকর্মী এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মালপত্র পরিবহণে এই বিমান সংস্থার ভূমিকা রয়েছে বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন।

এই অভিযানে বিশেষভাবে নিশানায় এসেছে ‘দাদনেগার স্টার্টআপ স্টুডিও’ নামে একটি সংস্থা। মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ, এটি আইআরজিসির একটি ‘ফ্রন্ট কোম্পানি’, যা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইজরায়েলি স্থাপনা এবং কর্মীদের অবস্থান শনাক্ত করে সেই তথ্য ইরানের সামরিক বাহিনীকে সরবরাহ করত। এর মাধ্যমে সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্য নির্ধারণে আইআরজিসিকে সহায়তা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ।

মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের বিবৃতিতে মহান এয়ারের বিরুদ্ধেও একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের দাবি, এই বিমান সংস্থা আইআরজিসির কুদস ফোর্সকে ভ্রমণ-সংক্রান্ত পরিষেবা দিয়ে সামরিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে সহায়তা করেছে। পাশাপাশি ড্রোন প্রযুক্তি ও ড্রোন পরিবহণের ক্ষেত্রেও মহান এয়ার সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে বলে অভিযোগ। মার্কিন প্রশাসনের মতে, মহান এয়ার এখন আইআরজিসির বৈশ্বিক সামরিক নেটওয়ার্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছে।

মার্কিন ট্রেজারি সচিব স্কট বেসেন্ট বলেন, আইআরজিসির সঙ্গে যুক্ত কোনও ব্যক্তি বা সংস্থাকে আর্থিক বা বাণিজ্যিক পরিষেবা দেওয়া মানে একটি ‘সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্ককে’ শক্তিশালী করা। তিনি স্পষ্ট জানান, এই ধরনের সহযোগীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি এবং আর্থিক কার্যকলাপ ব্যাহত করার প্রচেষ্টা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিও সতর্কবার্তা দিয়েছে ওয়াশিংটন। বিদেশ দফতরের মুখপাত্র টমি পিগট বলেন, মহান এয়ার বা অন্য কোনও নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত ইরানি বিমান সংস্থার সঙ্গে ব্যবসা করা সংস্থা ও ব্যক্তিদের এই ধরনের সম্পর্কের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন হওয়া উচিত। যুক্তরাষ্ট্র এমন সমস্ত সংস্থার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ চালিয়ে যাবে, যারা আইআরজিসিকে প্রযুক্তি, সরঞ্জাম বা গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে মার্কিন স্বার্থ, মিত্র দেশ এবং মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে বিপন্ন করতে সাহায্য করছে।

মার্কিন প্রশাসনের দাবি, আইআরজিসি শুধু ইরানের অভ্যন্তরেই নয়, গোটা মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা ছড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সেই কারণেই তাদের সহযোগী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে কড়া অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, আইআরজিসির সঙ্গে যুক্ত যে কোনও ব্যক্তি বা সংস্থাকে ভবিষ্যতে কঠোর আর্থিক ও আইনি পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More