8th Pay Commission Update: সরকারি কর্মীদের নয়া বেতন কমিশন ঘিরে বাড়ছে প্রত্যাশা, উঠল ‘ওয়ান র্যাঙ্ক ওয়ান পেনশন’-এর দাবি
কর্মী সংগঠন এবং পেনশনভোগীদের বিভিন্ন সংগঠন নিজেদের দাবি কমিশনের সামনে তুলে ধরছে। এর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবি হল সিভিলিয়ান কর্মীদের জন্য ‘ওয়ান র্যাঙ্ক ওয়ান পেনশন’ বা একই পদ ও সমমানের চাকরির জন্য তুলনামূলকভাবে সমান পেনশন ব্যবস্থা চালু করা।
কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী ও পেনশনপ্রাপকদের মধ্যে ৮ম বেতন কমিশনকে ঘিরে আলোচনা ক্রমশ বাড়ছে। ২০২৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ৮ম বেতন কমিশন গঠনের ১০ মাস পূর্ণ হয়েছে। ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর গঠিত এই কমিশনের কাজ হল সরকারি কর্মীদের বেতন, পেনশন, ভাতা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় পর্যালোচনা করে সরকারের কাছে সুপারিশ পেশ করা। কমিশনকে রিপোর্ট দেওয়ার জন্য ১৮ মাস সময় দেওয়া হয়েছে। সেই হিসেবে বর্তমান সময়সূচি অনুযায়ী ২০২৭ সালের মে-জুন নাগাদ কমিশনের চূড়ান্ত রিপোর্ট আসতে পারে।

এর মধ্যেই কর্মী সংগঠন এবং পেনশনভোগীদের বিভিন্ন সংগঠন নিজেদের দাবি কমিশনের সামনে তুলে ধরছে। এর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবি হল সিভিলিয়ান কর্মীদের জন্য ‘ওয়ান র্যাঙ্ক ওয়ান পেনশন’ বা একই পদ ও সমমানের চাকরির জন্য তুলনামূলকভাবে সমান পেনশন ব্যবস্থা চালু করা।
পেনশনপ্রাপকদের অভিযোগ, একই স্তর বা পদে সমপরিমাণ সময় কাজ করেও আলাদা সময়ে অবসর নেওয়া কর্মীদের পেনশনের মধ্যে বড় পার্থক্য তৈরি হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে বলা হচ্ছে, ২০১৬ সালে ৭ম বেতন কমিশনের আওতায় লেভেল-৬-এর কোনও কর্মী অবসর নিলে তাঁর বেসিক পেনশন যদি ২৪,৫০০ টাকা হয়, তাহলে ৫৮ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা যোগ করে মোট মাসিক পরিমাণ প্রায় ৩৮,৭১০ টাকা হতে পারে। অন্যদিকে, একই স্তরের কোনও কর্মী ২০২৬ সালে অবসর নিলে ৮ম বেতন কমিশনের পরে তাঁর পেনশন অনেক বেশি হতে পারে।
এই পরিস্থিতিতেই ‘ওয়ান র্যাঙ্ক ওয়ান পেনশন’-এর দাবি জোরালো হয়েছে। কর্মী সংগঠনগুলির বক্তব্য, একই পদ, একই ধরনের যোগ্যতা এবং প্রায় সমান মেয়াদের চাকরি হলে শুধুমাত্র অবসরের বছর আলাদা হওয়ার কারণে পেনশনে বড় বৈষম্য থাকা উচিত নয়। সশস্ত্র বাহিনীতে চালু থাকা ওয়ান র্যাঙ্ক ওয়ান পেনশনের ধাঁচে সিভিলিয়ান কর্মীদের ক্ষেত্রেও এই ব্যবস্থা চালুর দাবি উঠেছে।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এখনও পর্যন্ত সিভিলিয়ান কর্মীদের জন্য ওয়ান র্যাঙ্ক ওয়ান পেনশন চালুর কোনও সরকারি সিদ্ধান্ত হয়নি। এটি কর্মী ও পেনশনভোগী সংগঠনগুলির দাবি মাত্র। ৮ম বেতন কমিশন এই বিষয়ে কী সুপারিশ করে, তার উপর অনেকটাই নির্ভর করবে পরবর্তী সিদ্ধান্ত।
এই দাবির সঙ্গে ‘ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর’-এর বিষয়টিও জড়িয়ে রয়েছে। জাতীয় পরিষদ-যৌথ পরামর্শদাতা ব্যবস্থার পক্ষ থেকে ৩.৮৩৩ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ২০২৬ সালের আগে অবসর নেওয়া পুরনো পেনশনপ্রাপকদেরও সংশোধিত সুবিধার আওতায় আনার দাবি রয়েছে। কর্মী সংগঠনগুলির আরও একটি বড় দাবি হল, বর্তমানে ১০ বছর অন্তর বেতন-পেনশন সংশোধনের বদলে প্রতি পাঁচ বছর অন্তর তা সংশোধন করা।
৩.৮৩৩ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর মেনে নেওয়া হলে ২০২৬ সালে অবসর নেওয়া কোনও লেভেল-৬ কর্মীর পেনশন প্রস্তাবিত হিসাব অনুযায়ী প্রায় ৯৩,৯০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। কিন্তু ২০১৬ সালে অবসর নেওয়া একই স্তরের পেনশনপ্রাপক যদি বর্তমান ব্যবস্থাতেই থেকে যান, তাহলে তাঁর পেনশন অনেক কম থাকবে। ফলে দুই প্রজন্মের পেনশনপ্রাপকদের মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
এই জায়গাতেই ‘নোশনাল ফিক্সেশন’-এর দাবি সামনে এসেছে। এর অর্থ হল, পুরনো পেনশনপ্রাপকদের পেনশনও নতুন বেতন কাঠামোর ভিত্তিতে একটি হিসাব কষে পুনর্নির্ধারণ করা। এর ফলে ৮ম বেতন কমিশনের সুবিধা শুধু নতুন অবসরপ্রাপকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে পুরনো পেনশনপ্রাপকদেরও তুলনামূলকভাবে সমান সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করা যেতে পারে।
চণ্ডীগড়ে ১৬ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর এবং বেঙ্গালুরুতে ৭ থেকে ৮ অক্টোবরের বৈঠকগুলিতেও পেনশন সংক্রান্ত এই দাবিগুলি গুরুত্ব পেতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত সিভিলিয়ান কর্মীরা ওয়ান র্যাঙ্ক ওয়ান পেনশন পাবেন কি না, তা এখনই বলা সম্ভব নয়। কমিশনের সুপারিশ এবং তার পরে কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তের উপরই নির্ভর করবে বিষয়টির চূড়ান্ত ফলাফল।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


