Greater Noida Fire: মধ্যরাতে বিভীষিকা! দাউদাউ করে জ্বলছে চলন্ত স্লিপার বাস, গভীর ঘুমের মধ্যেই জীবন্ত দগ্ধ ৯
Greater Noida Fire: বুধবার প্রায় ৩৫ জন যাত্রী নিয়ে স্লিপার বাসটি নয়ডা থেকে মাহোবার দিকে যাচ্ছিল। যমুনা এক্সপ্রেসওয়ের দয়ানতপুর গ্রামের কাছে আচমকা বাসটিতে আগুন ধরে যায়।
Greater Noida Fire: মধ্যরাতে বিভীষিকা। যাত্রীবাহী স্লিপার বাসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড (Bus Fire)। ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন কমপক্ষে ৯ জন। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন যাত্রী আহত হয়েছেন। তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বুধবার রাতে উত্তরপ্রদেশের গ্রেটার নয়ডার (Greater Noida) যমুনা এক্সপ্রেসওয়েতে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে (Yamuna Expressway)।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার প্রায় ৩৫ জন যাত্রী নিয়ে স্লিপার বাসটি নয়ডা থেকে মাহোবার দিকে যাচ্ছিল। যমুনা এক্সপ্রেসওয়ের দয়ানতপুর গ্রামের কাছে আচমকা বাসটিতে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা পুরো বাসটিকে গ্রাস করে নেয়। তখন সকলেই ঘুমোচ্ছিলেন। ফলে প্রাণ বাঁচানোর সুযোগও অনেকে পাননি। প্রাণ বাঁচাতে অনেক আতঙ্কিত যাত্রী চলন্ত বাস থেকেই নীচে ঝাঁপ দেন। তবে সকলেই পালিয়ে বাঁচতে পারেননি। বাসের মধ্যে আটকে, জীবন্ত দগ্ধ হয়েছেন একাধিক যাত্রী। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল এবং জেওয়ার থানার পুলিশ। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে তারা। আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসার পাশাপাশি আহতদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তের পর অনুমান করা যাচ্ছে, বাসের এয়ার কন্ডিশনিং সিস্টেমে বিস্ফোরণ ঘটে। সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এরপর আগুন ইঞ্জিনের লুব্রিকেটিং অয়েলে ধরে যাওয়ায় দ্রুত তা পুরো বাসে ছড়িয়ে পড়ে। তবে আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। শর্ট সার্কিট থেকেও আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। জীবিত যাত্রীদের বয়ান রেকর্ড করে ঘটনার নেপথ্যের প্রকৃত কারণ খোঁজা হচ্ছে।
উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষতিপূরণ ঘোষণা
এদিকে, গ্রেটার নয়ডার এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ (Yogi Adityanath)। শোকস্তব্ধ পরিবারগুলির প্রতি সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি আহত যাত্রীদের দ্রুত ও যথাযথ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে যে, তিনি নিজে নিহতদের আত্মীয়দের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং প্রশাসনকে সমস্ত সম্ভাব্য সহায়তা প্রদানের নির্দেশ জারি করেছেন। পাশাপাশি মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা করেন তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা
ভয়াবহ এই দুর্ঘটনা নিয়ে পেছনের সিটে থাকা এক যাত্রী জানান, গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন অবস্থায় হঠাৎ কারো তাগিদে তাঁদের ঘুম ভাঙে। এরপর বাসে আগুন লাগার কথা জানতে পেরে তাঁরা কোনওমতে বাইরে বেরিয়ে আসেন। ভেতরে পুরু ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন থাকার কারণে বের হওয়ার পথ প্রায় বন্ধ ছিল এবং চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে সবাই যে যেভাবে পেরেছেন বাঁচার চেষ্টা করেছেন। একইভাবে রিংকি রাজপুত নামক অপর এক মহিলা যাত্রী, যিনি নয়ডা থেকে নিজের বাড়িতে ফিরছিলেন, জানান যে চালকের আসনের সামনের অংশ থেকেই মূলত আগুনের সূত্রপাত ঘটেছিল। চারপাশ ঘন ধোঁয়ায় ঢেকে যাওয়ায় নিঃশ্বাস বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল এবং যাত্রীদের মধ্যে হুড়োহুড়ির জেরে তিনি জুতো বা কোনও জিনিসপত্র গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ না পেয়ে কেবল ফোনটি হাতে নিয়ে একরকম ধাক্কাধাক্কির মধ্যেই বাইরে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। তিনি আরও জানান যে, তাঁর পেছনের সারিতে থাকা বহু মানুষ প্রবল ভিড় ও অন্ধকারের কারণে বের হতে না পেরে ভেতরেই আটকে পড়েন। পরবর্তীতে বাসেই তাঁদের মৃত্যু হয়।
E-Paper

