Jeffrey Epstein’s girlfriend: এপস্টেইনের ১০ কোটি ডলারের সম্পত্তির মালিক হতে পারেন এক মহিলা, কে তিনি?

Jeffrey Epstein’s girlfriend: জেফরি এপস্টেইনের উইলের শর্তানুযায়ী, কারিনা শুলিয়াক একটি ৩৩ ক্যারেটের হিরের আংটি-সহ ১০০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হতে পারেন। বছরের পর বছর ধরে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত এই ব্যক্তির সঙ্গে তার সম্পর্ককে প্রায় পুরোপুরি আড়ালে রেখেছিলেন।

Published on: Jul 28, 2026, 23:31:40 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Jeffrey Epstein’s girlfriend: জেফরি এপস্টেইনের সম্পত্তির নথিপত্রে একটি বিপুল মূল্যের হিরের আংটি রয়েছে, যা ‘বিয়ের জন্য আগ্রহী’ এক মহিলার জন্য নির্ধারিত ছিল। সেই মহিলা হলেন ডা. কারিনা শুলিয়াক। বেলারুশের ৩৭ বছর বয়সি ওই মহিলা পেশায় একজন দন্তচিকিৎসক। তার সঙ্গে এপস্টেইনের প্রায় আট বছর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্যমতে, ২০১৯ সালে কারাগারের সেলে মারা যাওয়ার আগে ফোনে এপস্টেইন তার সঙ্গে সর্বশেষ কথা বলেছিলেন।

জেফরি এপস্টেইনের ১০ কোটি ডলারের সম্পত্তির মালিক হতে পারেন এক মহিলা (সৌজন্যে টুইটার)
জেফরি এপস্টেইনের ১০ কোটি ডলারের সম্পত্তির মালিক হতে পারেন এক মহিলা (সৌজন্যে টুইটার)

এপস্টেইনের উইলের শর্তানুযায়ী, কারিনা শুলিয়াক একটি ৩৩ ক্যারেটের হিরের আংটি-সহ ১০০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হতে পারেন। বছরের পর বছর ধরে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত এই ব্যক্তির সঙ্গে তার সম্পর্ককে প্রায় পুরোপুরি আড়ালে রেখেছিলেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ যখন এপস্টেইনের বিরুদ্ধে তাদের তদন্তের সময় সংগৃহীত ৩০ লক্ষ পৃষ্ঠার ফাইল ও ই-মেইল প্রকাশ করে, তখন সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। এর ভেতরে শুলিয়াক ও এপস্টেইনের মধ্যে আদান-প্রদান হওয়া হাজার হাজার ব্যক্তিগত বার্তা এবং তাদের সম্পর্কের প্রমাণস্বরূপ কয়েক ডজন ছবি পাওয়া যায়।

ম্যানহাটনে আকস্মিক সাক্ষাৎ

শুলিয়াক নিউইয়র্কে মাত্র ৯ মাস ধরে বসবাস করার একপর্যায়ে ২০১১ সালের মার্চের শেষের দিকে এপস্টেইনের সঙ্গে তার দেখা হয়। তখন এপস্টেইনের বয়স ছিল ৫৮ বছর। শুলিয়াক বেলারুশ থেকে একটি অস্থায়ী শিক্ষার্থী ভিসায় ইংরেজি পড়তে এসেছিলেন। এ সময় শুলিয়াক ঘণ্টায় প্রায় ১৫ ডলারের বিনিময়ে একজন ডেন্টাল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি ওয়েট্রেসের চাকরির জন্য আবেদন করছিলেন। তার শুরু করা ডেন্টাল প্রশিক্ষণটি কীভাবে শেষ করবেন তা নিয়ে চিন্তিত ছিলেন। এপস্টেইনের গোপন ফাইলের তথ্য অনুযায়ী, সাইবেরিয়ার এক তরুণী তাদের দু'জনের পরিচয় করিয়ে দেন। সেই মহিলা পরে নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন, মাঝেমধ্যে তাকে অন্য তরুণীদের এপস্টেইনের কাছে নিয়ে যেতে বলা হতো, সম্ভবত যাতে তিনি যৌন উত্তেজক ম্যাসাজ করাতে পারেন। ধারণা করা হচ্ছে, শুলিয়াকের ক্ষেত্রেও তার একই উদ্দেশ্য ছিল।

শুলিয়াক ছোটবেলা থেকেই একজন দন্তচিকিৎসক হতে চেয়েছিলেন। নিউইয়র্কে যাওয়ার আগে তিনি মিনস্কে পাঁচ বছরের দন্তচিকিৎসা প্রশিক্ষণের মধ্যে চার বছর সম্পন্ন করেছিলেন। ২০১২ সালের শীতের মধ্যে তিনি এপস্টাইনকে তাকে ডেন্টাল স্কুলে ভর্তি হতে সাহায্য করার সুযোগ দেন। কলম্বিয়ার কলেজ অব ডেন্টাল মেডিসিন প্রথমে শুলিয়াককে প্রত্যাখ্যান করে। তাই এপস্টাইন তার নিজের দন্তচিকিৎসক, যিনি ওই প্রতিষ্ঠানের একজন বিশিষ্ট প্রাক্তন শিক্ষার্থী ছিলেন, তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাকে ডিনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে বলেন এপস্টেইন। এপস্টেইন ওই প্রতিষ্ঠানকে ১০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত অনুদান দেওয়ার প্রস্তাব দেন। নথি থেকে দেখা যায়, শেষ পর্যন্ত তিনি প্রায় ২ লক্ষ ১০ হাজার ডলার দিয়েছিলেন। বিচার বিভাগ কর্তৃক প্রকাশিত নথিপত্রে এমন কিছু টেক্সট মেসেজ রয়েছে, যা থেকে দেখা যায়—স্কুলের প্রশাসক ডা. ম্যাগন্যানি ও ডা. জেমস ফাইন শুলিয়াককে একজন ট্রান্সফার শিক্ষার্থী হিসেবে তার ব্যবহারিক দক্ষতা যাচাই করার জন্য আয়োজিত ২০১২ সালের এপ্রিল মাসের একটি পরীক্ষায় কোন কোন বিষয় আসবে, সে সম্পর্কে আগে থেকেই জানিয়ে দিয়েছিলেন।

ভর্তি হওয়ার পর এপস্টেইন তার মাকে বেলারুশ থেকে বেড়াতে নিয়ে আসেন। পরবর্তী তিন বছরের জন্য তার টিউশন ফি প্রদান করেন এপস্টেইন। ২০১২ সালের জুন মাসে শুলিয়াক এপস্টেইনকে লিখেছিলেন, 'তুমি সব পুরুষের মধ্যে সবচেয়ে পবিত্র মানুষ। তোমার সমস্ত ভালোবাসা ও যত্ন, আমার বাবা-মা, স্কুল, অ্যাপার্টমেন্ট। সবকিছুর জন্য তোমাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।'

যে বিয়ে তার নাগরিকত্ব নিশ্চিত করেছিল

২০১২ সালে যখন শুলিয়াক কলম্বিয়ার কলেজ অব ডেন্টালে আবেদন করে, ততদিনে তার স্টুডেন্ট ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল। ২০১৩ সালের শুরুর দিকে এপস্টেইন তাকে দেশে রাখার একটি উপায় বের করে। সে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যে, সেখানকার দুই মহিলার মধ্যে বিয়েই নাগরিকত্ব পাওয়ার সবচেয়ে সহজ পথ। সে তার নিজের একজন সহকারী এবং একজন ভুক্তভোগীকে কনে হিসেবে বেছে নেয়। ই-মেইল থেকে দেখা যায়, এপস্টাইন ওই মহিলাকে ২০১৩ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে নিউইয়র্ক সিটি ম্যারেজ ব্যুরোতে শুলিয়াকের সঙ্গে দেখা করতে নির্দেশ দিয়েছিল। তিন সপ্তাহ পরে সিটি ক্লার্কের অফিসে দুই মহিলার বিয়ে হয় এবং সেই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে ছবি তোলা হয়। এরপরে, এপস্টেইনের হয়ে কাজ করা একজন অভিবাসন আইনজীবী শুলিয়াককে ওই মহিলার স্ত্রী এবং সুবিধাভোগী হিসেবে উল্লেখ করে কাগজপত্র দাখিল করেন। এর কয়েক মাস পরে তিনি একটি গ্রিন কার্ড পান। ২০১৮ সালের মে মাসে শুলিয়াক মার্কিন নাগরিক হন। এক বছর পর এ দম্পতির বিবাহবিচ্ছেদ হয়। ওই মহিলা দাবি করেন, তিনি বুঝতে পারেননি শুলিয়াকের নিজের নির্বাসন শুনানির মাত্র কয়েক দিন আগে তাদের বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল।

শেষ ফোন কল

২০১৯ সালের শুরুর দিকে, বাহ্যিকভাবে এই জুটিকে একটি দম্পতি হিসেবেই মনে হচ্ছিল। শুলিয়াক বেশিরভাগ সময় এপস্টেইনের নিউইয়র্কের ম্যানশনে থাকতেন। ২০১৫ সালে ডেন্টাল স্কুল শেষ করার পর, তিনি ততদিনে ইউএস ভার্জিন আইল্যান্ডস, ফ্লোরিডা ও নিউ মেক্সিকোতে একজন লাইসেন্সপ্রাপ্ত দন্তচিকিৎসক হিসেবে যোগ্যতা অর্জন করেছিলেন, যদিও তিনি নিজের কোনও বড় ক্লায়েন্ট বেস তৈরি করেছিলেন এমন কোনও প্রমাণ নেই। এর পরিবর্তে, তার বেশিরভাগ সময় কাটত এপস্টেইনের সংসারের কাজকর্ম সামলাতে। তিনি এপস্টেইনের প্রাসাদের জন্য ফুলের সজ্জার ব্যবস্থা করতেন, তার দ্বীপের জন্য আসবাবপত্রের অর্ডার দিতেন এবং ফ্ল্যাটগুলোর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও মেরামতের সময়সূচি পরিচালনা করতেন। ২০১৯ সালের জুনের মাঝামাঝি সময়ে, তারা দু'জন একসঙ্গে প্যারিসে গিয়েছিলেন, যেখানে এপস্টেইনের একটি অ্যাপার্টমেন্ট ছিল। ৬ জুলাই তিনি বিমানে করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসেন, আর শুলিয়াক ইউরোপেই থেকে যান। নিউ জার্সির টেটারবোরো বিমানবন্দরে এপস্টেইনের বিমান অবতরণ করলে, ফেডারেল এজেন্টরা তাকে গ্রেফতার করার জন্য অপেক্ষা করছিল।

প্রায় এক মাস পরে লোয়ার ম্যানহাটনের একটি জেল থেকে ২০ মিনিটের একটি ফোন কলে এপস্টেইন শুলিয়াককে বলেন, তার বিরুদ্ধে মামলাটির নিষ্পত্তি হতে তার প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সময় লাগবে এবং এই সময়ের মধ্যে থাকার জন্য তাকে অন্য কোনো জায়গা খুঁজে নিতে পরামর্শ দেন। তিনি তাকে শক্ত থাকতে বলেছিলেন। পরদিন সকালে, ২০১৯ সালের ১০ আগস্ট এপস্টেইনকে কারাগারের সেলে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়; তিনি আত্মহত্যা করেছিলেন। তার মৃত্যুর অল্প কিছুদিন আগে, তিনি তার উইল সংশোধন করে শুলিয়াককে তার প্রায় ৬০ কোটি ডলারের সম্পত্তির একটি বড় অংশ দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। এর মধ্যে ৩৩ ক্যারেটের হিরের আংটিটিও ছিল, যা একটি হাতে লেখা নোটে ‘বিবাহের প্রত্যাশায়’ দেওয়া হয়েছে বলে বর্ণনা করা হয়েছে।

তবে শুলিয়াক ঠিক কত অর্থ পাবেন তা এখনও স্পষ্ট নয়। তার শিকারদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পর, সম্পত্তির বর্তমান মূল্য ১২ থেকে ২০ কোটি ডলারের মধ্যে দাঁড়িয়েছে এবং আরও কয়েক ডজন সুবিধাভোগী রয়েছেন।