Flydubai flight incident: ‘ঘুমোবেন না..,’ ভারতীয় ক্যাপ্টেনকে বাঁচাতে বিমানে ৪৫ মিনিটের লড়াই চিকিৎসকের

Flydubai flight incident: মাঝআকাশে সেই সংকটময় মুহূর্তে পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। হামলার জেরে গুরুতর আহত হওয়ার পরও ক্যাপ্টেন বুঝতে পেরেছিলেন বিমানটি নীচের দিকে নামছে। আহত অবস্থাতেই তিনি ককপিটের দরজা খোলার একটি মরিয়া চেষ্টা চালান।

Published on: Oct 7, 2026, 14:09:24 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

Flydubai flight incident: বিশ্বজুড়ে তাঁকে নিয়ে এখন আলোচনা চলছে। তাঁর সাহসিকতার প্রশংসায় পঞ্চমুখ সাধারণ মানুষ থেকে রাষ্ট্রনেতারা। গত ৩০ সেপ্টেম্বর তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে (Flydubai flight) ওমানি নাগরিক তথা কো-পাইলট হামাম আল-হাম্মামির নৃশংস হামলার শিকার হন ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর (Smit Machchhar)। এই আকস্মিক হামলায় তাঁর মাথা, গলা ও দুই হাতে গুরুতর জখম হয়। বিমানের ককপিটের ফ্লোরে যখন রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি শুয়েছিলেন, তখন ফার্স্ট রেসপন্ডার হিসেবে ত্রাতা হয়ে আবির্ভূত হন এক ডেন্টিস্ট। দীর্ঘ ৪৫ মিনিট ধরে তিনি আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যান ভারতীয় এই ক্যাপ্টেনের প্রাণ বাঁচানোর জন্য। বারবার তাঁকে জাগিয়ে রাখার চেষ্টা করেছেন, কথা বলেছেন, সাহস জুগিয়েছেন। আর এক সময় যখন পাইলটের পালস নেমে গিয়ে ঠোঁট নীল হয়ে আসে, তখন চিকিৎসক বুঝেছিলেন—আর বেশি সময় নেই।

ভারতীয় ক্যাপ্টেনকে বাঁচাতে বিমানে ৪৫ মিনিটের লড়াই চিকিৎসকের (সৌজন্যে এক্স )
ভারতীয় ক্যাপ্টেনকে বাঁচাতে বিমানে ৪৫ মিনিটের লড়াই চিকিৎসকের (সৌজন্যে এক্স )

ইজরায়েলে বসবাসকারী জর্জিয়ান ডেন্টিস্ট ড. শুটা মুসায়েভ দ্য ন্যাশনাল ও এবিসি নিউজ-কে জানিয়েছেন, ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ বিমানে হামলার পর কীভাবে আহত পাইলটকে বাঁচিয়ে রাখার এক অসম লড়াই সেদিন চালিয়েছিলেন তিনি। ড. শুটা মুসায়েভ ছিলেন ওই ফ্লাইটের একমাত্র চিকিৎসক। যাত্রীদের চিৎকার শুনে তিনি সঙ্গে সঙ্গে ককপিটের দিকে ছুটে যান এবং আক্রমণকারীকে বাগে আনতে অন্যদের সাহায্য করেন। এরপর তাঁর সম্পূর্ণ মনোযোগ নিবদ্ধ হয় মারাত্মকভাবে জখম ও রক্তক্ষরণ হতে থাকা ক্যাপ্টেন মচ্ছরের ওপর। মাথা ও বাঁ হাত থেকে প্রবল রক্ত বেরচ্ছিল। টি-শার্ট ও বরফের প্যাক ব্যবহার করে তিনি রক্তপাত নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালান, যখন ক্যাপ্টেনের নাড়ির গতি আশঙ্কাজনকভাবে কমে গিয়েছিল। পরবর্তীতে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির একটি হাসপাতালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দ্বারা ‘নায়ক’ হিসেবে প্রশংসিত হওয়া ক্যাপ্টেন এখন স্থিতিশীল রয়েছেন এবং ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন।

তবে মাঝআকাশে সেই সংকটময় মুহূর্তে পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। হামলার জেরে গুরুতর আহত হওয়ার পরও ক্যাপ্টেন বুঝতে পেরেছিলেন বিমানটি নীচের দিকে নামছে। আহত অবস্থাতেই তিনি ককপিটের দরজা খোলার একটি মরিয়া চেষ্টা চালান। সেই সময় অন্য এক যাত্রী ইয়ানিভ হায়ুন আক্রমণকারীকে টেনে দূরে সরিয়ে নেন এবং তৃতীয় একজন পাইলট দায়িত্ব নেওয়ার আগে বিমানটিকে নিয়ন্ত্রণে এনে সোজা করেন। এরপর ড. মুসায়েভ পুরোপুরি মনোনিবেশ করেন মচ্ছরের চিকিৎসায়। তেল আভিভের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর হোলন থেকে এক সাক্ষাৎকারে ডেন্টিস্ট জানান, স্মিতের মাথা ও বাঁ হাত থেকে প্রবল বেগে রক্তপাত হচ্ছিল। রক্ত বন্ধ না হওয়ায় তিনি কেবিন ক্রুদের কাছে বরফ চান। গভীর কাটাছেঁড়ার জন্য অনেক বরফের প্যাকের প্রয়োজন হয়েছিল এবং তিনি টি-শার্ট ও বরফ দিয়ে হালকাভাবে চাপ প্রয়োগ করে টানা ৪৫ মিনিট ধরে রক্তপাত থামিয়ে রাখার চেষ্টা চালান।

অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের জেরে দুর্বল হয়ে পড়ছিলেন পাইলট। তাঁকে জ্ঞান হারাতে না দেওয়াই তখন মুসায়েভের অন্যতম লক্ষ্য ছিন। সাক্ষাৎকারে জানান, তিনি বারবার পাইলটকে বলছিলেন, 'ঘুমোবেন না, আমাদের আপনাকে দরকার। বাঁচতেই হবে।' ক্যাপ্টেনকে অবচেতন হতে না দেওয়ার গুরুত্ব বুঝে তিনি তাঁর পরিবার ও সন্তানদের নাম ধরে নানা কথা জিজ্ঞেস করতে থাকেন এবং দ্রুত অবতরণের আশ্বাস দিয়ে সাহস জোগান। নিজের নাম, বয়স, দুবাই নিবাসী ও ভারতীয় পরিচয়ের কথা জানানোর পর মচ্ছর আকুতি জানিয়ে বলেছিলেন, ‘হেল্প মি, প্লিজ। হেল্প মি, প্লিজ। আই ডোন্ট ওয়ান্ট টু ডাই হিয়ার।’ মুসায়েভও তাঁকে আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, 'ভয় পাবেন না, আপনি পরিবারের কাছে ফিরে যাবেন। আমরা খুব তাড়াতাড়ি নামছি।'

এক সময় পাইলটের পালস বিপজ্জনকভাবে কমে যায়। মুসায়েভ তাঁর পা তুলে ধরেন। কিছুক্ষণ পর আবার পালস ফিরে আসে। কিন্তু পরিস্থিতি ফের খারাপ হতে শুরু করে। স্মিতের ঠোঁট নীল হয়ে যেতে দেখে চিকিৎসক কেবিন ক্রুকে দ্রুত বিমান অবতরণের ব্যবস্থা করতে বলেন। ব্যথায় কাতরাচ্ছিলেন পাইলট। ব্যথার ওষুধ চাইলেও তা দিতে রাজি হননি মুসায়েভ। তাঁর আশঙ্কা ছিল, অতিরিক্ত রক্তপাতের মধ্যে ওষুধ দেওয়া বা আহত অবস্থায় তাঁকে নাড়াচাড়া করলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। পরিবর্তে তিনি অল্প অল্প জল খাইয়ে এবং শারীরিক সূচকগুলো পর্যবেক্ষণ করে পরিস্থিতি সামলান। বিমানটি সৌদি আরবের মাটিতে অবতরণ করার পর তিনি ক্যাপ্টেনকে চিকিৎসকদের হাতে তুলে দেন। এই ঘটনার পর তাঁর ও তাঁর স্ত্রীর কিছুদিন পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস থাকলেও, ডেন্টিস্টের কাছে সবচেয়ে বড় স্বস্তির বিষয় ছিল যে— যাঁকে বাঁচানোর জন্য তিনি লড়েছিলেন, সেই মানুষটিই আগে তাঁর পরিবার-সহ সমস্ত যাত্রীদের জীবন বাঁচিয়েছিলেন। ভবিষ্যতে স্মিতের সঙ্গে আবার দেখা করার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন ওই ডেন্টিস্ট। তাঁর কথায়, স্মিত নিজে আহত হয়েও বিমানের যাত্রীদের প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর সঙ্গে দেখা হলে কৃতজ্ঞতা জানাতে চান তিনি। মুসায়েভ বলেন, 'আমরা ওঁকে বলব, সবকিছুর জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।' গত মঙ্গলবার সংযুক্ত আরব আমিরশাহির ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে যে ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর সুস্থতার পথে অবিচলভাবে এগিয়ে চলেছেন।