মেগা প্রকল্প! PM মোদীর হাতে উদ্বোধন, নয়ডা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রথম ঝলক
শনিবার উদ্বোধনের আগে প্রধানমন্ত্রী মোদী নতুন বিমানবন্দরটির বেশ কয়েকটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন। প্রাথমিক পর্যায়ে বার্ষিক ১.২০ কোটি যাত্রী পরিচালনার জন্য বিমানবন্দরটি তৈরি হচ্ছে।
শনিবার জেওয়ারে নয়ডা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রথম ফেজের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কেন্দ্রীয় সরকারের এই মেগা অবকাঠামো প্রকল্পকে দেশের অন্যতম বৃহত্তম গ্রিনফিল্ড বিমানবন্দর হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। উদ্বোধনের পর থেকেই ধাপে ধাপে পরিষেবা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিপূরক হিসাবে নয়ডা বিমানবন্দরটিকে দিল্লি-এনসিআর অঞ্চলের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসাবে গড়ে তোলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার একটি সরকারি বিবৃতি অনুসারে, সম্পূর্ণভাবে চালু হলে এই বিমানবন্দরের মাধ্যমে বছরে কোটিরও বেশি যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এর উপর দীর্ঘদিন ধরেই যাত্রী ও উড়ানের চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছিল। সেই চাপ অনেকটাই কমাতে সাহায্য করবে নয়ডা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। একই সঙ্গে উত্তরপ্রদেশ ও সংলগ্ন অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থাও আরও উন্নত হবে।
নয়ডা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অন্দরে
শনিবার উদ্বোধনের আগে প্রধানমন্ত্রী মোদী নতুন বিমানবন্দরটির বেশ কয়েকটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন। প্রাথমিক পর্যায়ে বার্ষিক ১.২০ কোটি যাত্রী পরিচালনার জন্য বিমানবন্দরটি তৈরি হচ্ছে। ২০৫০ সালের মধ্যে এটি বার্ষিক ৬-১২ কোটি যাত্রীকে পরিচালনা করতে সক্ষম হবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিবৃতি অনুসারে, বিমানবন্দরটিতে ৩,৯০০ মিটার দীর্ঘ একটি রানওয়ে রয়েছে যা বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর-এর মতো বিমান পরিচালনা করতে সক্ষম। এছাড়াও, এতে ইন্সট্রুমেন্ট ল্যান্ডিং সিস্টেম-সহ আধুনিক নেভিগেশন ব্যবস্থা এবং উন্নত এয়ারফিল্ড লাইটিং রয়েছে, যা দিনের যে কোনও সময়ে, যে কোনও আবহাওয়ায় নির্বিঘ্নে কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা করে। যাত্রী সুবিধার কথা মাথায় রেখে পার্কিং ব্যবস্থাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। টার্মিনাল ভবনের ঠিক আগে একটি নির্দিষ্ট পার্কিং এলাকা তৈরি করা হয়েছে, যেখানে একসঙ্গে প্রায় ১২০০টি গাড়ি রাখা সম্ভব। এই পার্কিং জোন সরাসরি টার্মিনালের সঙ্গে যুক্ত থাকায় যাত্রীদের দীর্ঘ পথ হাঁটার প্রয়োজন পড়বে না। ব্যক্তিগত গাড়িতে আসা যাত্রীরা সহজেই টার্মিনালে প্রবেশ করতে পারবেন।
টার্মিনালের ভিতরে যাতায়াত সহজ করতে একাধিক লিফট ও এসকেলেটর বসানো হয়েছে। ভারী লাগেজ নিয়েও যাত্রীরা যাতে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারেন, সেই দিকটি মাথায় রেখে এই ব্যবস্থাগুলি পরিকল্পনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভিড় এড়াতে এগুলির অবস্থান এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে যাত্রী চলাচল মসৃণ থাকে। এই বিমানবন্দরে আগমন ও প্রস্থান-দুই পরিষেবাই একটি একক টার্মিনালের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। টার্মিনালটি দুই তলায় বিভক্ত, যেখানে উপরের তলা প্রস্থানের জন্য এবং নীচের তলা আগমনের জন্য নির্ধারিত। এর ফলে যাত্রীদের বিভ্রান্তি কমবে এবং চলাচল আরও সহজ হবে। প্রস্থান টার্মিনালে মোট আটটি প্রবেশদ্বার রয়েছে, প্রতিটিতে একাধিক অ্যাক্সেস পয়েন্ট রাখা হয়েছে যাতে দ্রুত প্রবেশ সম্ভব হয়। সব গেটই ডিজি যাত্রা অ্যাপের সঙ্গে যুক্ত, ফলে কনট্যাক্টলেস প্রবেশের সুবিধা থাকবে। পাশাপাশি বিমান সংস্থার চেক-ইন কাউন্টার, সেলফ ব্যাগ ড্রপ এবং দ্রুত প্রসেসিংয়ের জন্য আধুনিক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থাতেও জোর দেওয়া হয়েছে। ১৩টি ডোর ফ্রেম মেটাল ডিটেক্টর এবং একাধিক স্ক্যানিং সিস্টেম বসানো হয়েছে, যাতে যাত্রী ও ব্যাগেজ পরীক্ষা দ্রুত সম্পন্ন করা যায়। নিরাপত্তা পরীক্ষার পর নির্দিষ্ট করিডর ধরে যাত্রীরা বোর্ডিং গেটের দিকে এগোবেন, যেখানে মোট ১০টি বোর্ডিং গেট এবং ২টি বাস গেট রয়েছে।
E-Paper

