আইসক্রিম বিক্রেতার মুণ্ডু কেটে বাড়িতে রান্না! উত্তরপ্রদেশে হাড়হিম-কাণ্ড প্রৌঢ়ের, শিউড়ে উঠছে পুলিশ

খবর পেয়েই বারাবাঁকির পুলিশ সুপার অর্পিত বিজয়বর্গীয়র নির্দেশে তড়িঘড়ি এলাকায় পৌঁছয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। গোটা গ্রাম ঘিরে ফেলা হয়।

Published on: Mar 29, 2026, 14:17:11 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

আবারও হাড়হিম-কাণ্ড যোগীরাজ্যে। ঘটনার কথা শুনে শিউড়ে উঠছে পুলিশও। প্রকাশ্যে রাস্তায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে ২৫ বছরের এক আইসক্রিম বিক্রেতার মুণ্ডু কেটে খুনের অভিযোগে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। এখানেই থেমে নেই ঘটনাটি। ৫০ বছর বয়সি অভিযুক্ত ব্যক্তি আইসক্রিম বিক্রেতাকে খুনের পর, তাঁর কাটা মুণ্ডুটি হাতে ঝুলিয়ে বাড়িতে নিয়ে যান। এরপর সেই মুণ্ডু পাশে রেখেই রান্না করেন নিজের বাড়িতে।

উত্তরপ্রদেশে হাড়হিম-কাণ্ড প্রৌঢ়ের (সৌজন্যে টুইটার)
উত্তরপ্রদেশে হাড়হিম-কাণ্ড প্রৌঢ়ের (সৌজন্যে টুইটার)

শনিবার নৃশংস ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের বারাবাঁকি জেলার পারসোওয়াল গ্রামে। পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতের নাম বাবলু। পারসাওয়াল গ্রামে নিত্যদিন আইসক্রিম বিক্রি করতে যেতেন ওই যুবক। প্রতিদিনের মতো গতকালও গ্রামে আইসক্রিম বিক্রি করতে গিয়েছিলেন। সেখানে শঙ্কর যাদব নামের এক স্থানীয় বাসিন্দার সঙ্গে সামান্য কথা কাটাকাটি হয়েছিল তাঁর। বচসা চলাকালীন আচমকাই দা দিয়ে বাবলুর গলায় কোপ বসিয়ে দেন শঙ্কর। জনসমক্ষে বাবলুর গলায় কোপ দিয়েই, মুণ্ডু কেটে আলাদা করে দেন। এরপর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে না গিয়ে কাটা মুণ্ডুটি রাস্তা থেকে কুড়িয়ে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। তাও আবার সকলের চোখের সামনে, হাতে ঝুলিয়ে। যা দেখে হতভম্ব হয়ে যান স্থানীয়রা।

অভিযোগ, বাড়িতে গিয়ে উনুন জ্বালিয়েই ওই কাটা মুণ্ডু পাশে রেখে রান্না করতে শুরু করেন শঙ্কর। এদিকে, সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়েই বারাবাঁকির পুলিশ সুপার অর্পিত বিজয়বর্গীয়র নির্দেশে তড়িঘড়ি এলাকায় পৌঁছয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। গোটা গ্রাম ঘিরে ফেলা হয়। ধীরে ধীরে শঙ্কর যাদবের বাড়ি ঘিরে পুলিশ আধিকারিকরা বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করেন। সেখানে গিয়ে তাঁরা থ বনে যান। রান্নাঘরে ঢুকেই শঙ্করকে নির্লিপ্তভাবে রান্না করতে দেখে তারা। আর উনুনের পাশেই পড়ে ছিল বাবলুর কাটা মুণ্ড। যেন কিছুই হয়নি এই রকম মনোভাব নিয়েই বসেছিলেন অভিযুক্ত ব্যক্তি। দ্রুত অভিযুক্ত শঙ্করকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পাশাপাশি খুনে ব্যবহৃত অস্ত্র, কাটা মুণ্ডুটিও উদ্ধার করে তারা। পুলিশ জানিয়েছে, তিন ভাইয়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় ছিলেন বাবলু। তাঁর স্ত্রী, দুই সন্তান রয়েছে। সংসারের একমাত্র রোজগেরে বাবলু আইসক্রিম বেচে ও অন্যান্য কায়িক শ্রমের মাধ্যমে কোনওক্রমে সংসার চালাত। ইতিমধ্যে বাবলুর দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। কী কারণে শঙ্কর ও বাবলুর মধ্যে বচসা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। জোরকদমে চলছে তদন্ত।