UP Encounter: পূর্বাঞ্চলে কফিনে শেষ পেরেক! UP পুলিশের এনকাউন্টারে নিহত মোস্ট ওয়ান্টেড মাওবাদী কমান্ডার, বাংলায় পাকড়াও ২

Varanasi Encounter: এটিএসের দাবি, নিষিদ্ধ মাওবাদী শাখা সংগঠন তৃতীয় প্রস্তুতি কমিটি (টিপিসি)-র শীর্ষ নেতা ছিল ব্রিজেশ গাঞ্জু। ঝাড়খণ্ডের চাতরা জেলার লওয়াংলং থানার লুটুর বাসিন্দা এই মাওবাদী নেতার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

Published on: Sep 20, 2026, 17:01:02 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Varanasi Encounter: তাঁর মাথার ছিল ৩০ লক্ষ টাকা। উত্তরপ্রদেশ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (ATS)-এর সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে নিহত হলেন ঝাড়খণ্ডের সেই কুখ্যাত মাওবাদী কমান্ডার তথা তৃতীয় প্রস্তুতি কমিটি (TPC)-র প্রধান ব্রিজেশ গাঞ্জু ওরফে গোপাল সিং (Brijesh Ganju Encounter)। রবিবার সকালে বারাণসীর রামনগর এলাকায় এই ‘এনকাউন্টার’টি ঘটে। ঝাড়খণ্ড সরকারের পাশাপাশি জাতীয় তদন্তকারী সংস্থাও (NIA) এই মোস্ট ওয়ান্টেড মাওবাদী নেতার খোঁজে দীর্ঘদিন ধরে তল্লাশি চালাচ্ছিল।

উত্তরপ্রদেশ পুলিশের এনকাউন্টারে নিহত মোস্ট ওয়ান্টেড মাওবাদী কমান্ডার (সৌজন্যে এক্স )
উত্তরপ্রদেশ পুলিশের এনকাউন্টারে নিহত মোস্ট ওয়ান্টেড মাওবাদী কমান্ডার (সৌজন্যে এক্স )

এটিএসের দাবি, নিষিদ্ধ মাওবাদী শাখা সংগঠন তৃতীয় প্রস্তুতি কমিটি (টিপিসি)-র শীর্ষ নেতা ছিল ব্রিজেশ গাঞ্জু। ঝাড়খণ্ডের চাতরা জেলার লওয়াংলং থানার লুটুর বাসিন্দা এই মাওবাদী নেতার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। তাঁর সন্ধানে দীর্ঘদিন ধরেই তল্লাশি চালাচ্ছিল ঝাড়খণ্ড পুলিশ। তাঁর মাথার দাম ২৫ লক্ষ টাকা ঘোষণা করেছিল ঝাড়খণ্ড সরকার। পাশাপাশি, ব্রিজেশের খোঁজে ছিল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)-ও। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তরফে তার মাথার দাম ধার্য করা হয়েছিল ৫ লক্ষ টাকা। দীর্ঘ দিন ধরে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক নাশকতামূলক কাজের অভিযোগ ছিল।

এটিএস সূত্রে জানা গিয়েছে, ব্রিজেশ রবিবার সকালে এক সঙ্গীকে নিয়ে মুঘলসরাইয়ের দিকে যাচ্ছিলেন। বারাণসীর কাছে রামনগরের লঙ্কা ময়দান এলাকায় পুলিশ তাঁদের আটকানোর চেষ্টা করলে ব্রিজেশ পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করেন। এরপর পুলিশও পাল্টা জবাব দেয়। উভয়পক্ষের গুলির লড়াইয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মকভাবে আহত হন ব্রিজেশ। দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। পুলিশ জানিয়েছে, এই সংঘর্ষের সময় এটিএসের ডেপুটি পুলিশ সুপার বিপিন রাই এবং হেড কনস্টেবল নিতেন্দ্র কৃষ্ণের গায়েও গুলি লেগেছিল। তবে দু’জনেই বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরে থাকায় বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ব্রিজেশের মৃত্যু এমন এক সময়ে হল, যখন মাওবাদী দমনে একের পর এক অভিযান চলছে পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রাজ্যে। শনিবারই মাওবাদী নেতা কিষানজি থেকে আকাশের দেহরক্ষী মঙ্গল মাহাতো-সহ তাঁর স্ত্রী মালতি মুর্মুকে পাকড়াও করেছে কলকাতা পুলিশের এসটিএফ। শনিবার দুপুরে ধৃত মাওবাদী মদন মাহাতোর এক আত্মীয়ের বাড়ি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার শালবনি থানার সরবেড়িয়া গ্রাম থেকে দু’জনকে পাকড়াও করা হয় বলে সূত্রের খবর। তবে তাঁরা গ্রেফতার হয়েছেন নাকি আত্মসমর্পণ করেছেন তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। শনিবার রাত পর্যন্ত সরকারি ভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে জানা গিয়েছে, আকাশের গ্রেফতারির পরেই বঙ্গ ব্রিগেডের মাও দম্পতি মঙ্গল ও মালতী জঙ্গলে অস্ত্র ফেলে ধৃত সহযোদ্ধার বাড়িতে আত্মগোপন করেছিলেন। অবশেষে আকাশের গ্রেফতারের দু’ দিনের মাথায় সশস্ত্র বিপ্লবে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন নিয়ে ‘একলা নিতাই ‘ হয়ে থাকা দুজন পুলিশের হাতে। এই দম্পতি পুলিশের হাতে চলে আসায় জঙ্গলমহলের পাশাপশি মাও বঙ্গ ব্রিগেডের সামরিক বাহিনীর শেষ পেরেক পুঁতল এসটিএফ। সাত লাখি এই মাও দম্পতি ধরা পড়ায় স্বস্তি মিলেছে বাংলা-ঝাড়খণ্ড পুলিশেরও।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবারই পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে মাওবাদী নেতা আকাশ ওরফে অসীম মণ্ডলকে। কলকাতা পুলিশের এসটিএফ তাকে শ্বশুরবাড়ি থেকে গ্রেফতার করে। ৬৪ বছরের আকাশের মাথার দাম ঝাড়খণ্ডে ১ কোটি এবং ওড়িশায় ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা ঘোষণা করা হয়েছিল। ফলে কয়েক দিনের ব্যবধানে দুই মাওবাদী নেতার গ্রেফতার ও এনকাউন্টারে মৃত্যুর ঘটনায় ফের নজরে এসেছে পূর্ব ভারতের মাওবাদী কার্যকলাপ। একের পর এক শীর্ষ মাওবাদী নেতার গ্রেফতার ও নিধনের ঘটনায় মাওবাদী নেটওয়ার্কে বড়সড় ধাক্কা লেগেছে বলে মনে করছে নিরাপত্তা বাহিনী।