Abu Dhabi royal family: অতিরিক্ত কোকেন সেবনই কাল! লন্ডনের রাস্তায় বেহুঁশ UAE-র রাজবধূ, পাশেই খেলছিল সন্তান
Abu Dhabi royal family: এ ঘটনার পর লন্ডনের সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্টে একটি মামলা দায়ের হয়। গত মঙ্গলবার ওই মামলার শুনানিতে শিশুকে অবহেলার অভিযোগ স্বীকার করেন মেহরা আল নাহিয়ান।
Abu Dhabi royal family: কড়া মাত্রার কোকেন সেবনের পর সন্তানকে নিয়ে লন্ডনের রাস্তায় অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেল সংযুক্ত আরব আমিরশাহির (ইউএই) এক রাজবধূকে। ৩২ বছর বয়সি ওই রাজবধূ হলেন মেহরা আল নাহিয়ান। ‘এ’ শ্রেণিভুক্ত মাদক কোকেন সেবনের পর তিনি পশ্চিম লন্ডনের একটি রাস্তায় অচেতন অবস্থায় পড়ে ছিলেন। কাছেই খালি পায়ে খেলা করছিল তার তিন বছরের সন্তান। তার কিছু দূরে পড়েছিলেন আরেক অচেতন পুরুষ। মেহরা আল নাহিয়ান বিবাহ সূত্রে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির রাজ পরিবারের সদস্য।

এ ঘটনার পর লন্ডনের সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্টে একটি মামলা দায়ের হয়। গত মঙ্গলবার ওই মামলার শুনানিতে শিশুকে অবহেলার অভিযোগ স্বীকার করেন মেহরা আল নাহিয়ান। আদালতে জানানো হয়, রাজবধূ মেহরাকে গত ১৩ জুন রাস্তায় অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন পথচারীরা। রাত পৌঁনে দুটোয় পুলিশ পৌঁছানোর আগে পর্যন্ত স্থানীয় পথচারীরা শিশুটিকে দেখাশোনা করেন। ৩০ মিনিটের মতো অচেতন ছিলেন মেহরা। জ্ঞান ফিরলে তিনি বলে ওঠেন, ‘এটা তো কোনও কসাইখানা নয়, আপনারা কেন এত চিন্তা করছেন? আপনাদের এত মাথা ব্যথা কিসের?’ ভিডিওতে দেখা যায়, একটি গ্রিলে ঠেস দিয়ে মাথা নিচু করে বসে রয়েছেন মেহরা। তিনি ব্রিটেনে প্রতি মাসে ৮ হাজার পাউন্ড সরকারি ভাতা পান।
এই মামলার এক কৌঁসুলি আদালতে বলেন, শিশুটিকে অভিভাবকহীন অবস্থায় খালি পায়ে রাস্তায় ঘুরতে দেখেন পথচারীরা। এক পর্যায়ে সে দ্রুতগতির যানবাহনের কাছাকাছি চলে যাওয়ায় এবং দুর্ঘটনার ভয়ে পথচারীরা এগিয়ে আসেন। মেহরা আল নাহিয়ানকে তল্লাশি করে মাদক সেবনের সরঞ্জাম পাওয়া গেলেও অবৈধ মাদক পাওয়া যায়নি। তবে এই ঘটনার পর তাঁকে একটি মাদক নিরাময় ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। মেহরার পক্ষের আইনজীবী স্টিফেন ভুলো কেসি জানান, যেদিন তাঁকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায় সেদিন তিনি মাদক সেবন করেননি। তবে তার আগে কয়েকদিন কোকেন সেবন করার কারণে অনেক ক্লান্ত ছিলেন। স্টিফেন আরও বলেন, মেহরা তার ভুলের জন্য গভীরভাবে অনুতপ্ত এবং মাদকাসক্তি কাটিয়ে ওঠার বিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সেদিন যে তিনি এক মারাত্মক ভুল করে ফেলেছেন, তা এখন বুঝতে পারছেন।
মামলার বিচারক জাস্টিস জনসন কেসি পর্যবেক্ষণে বলেন, ‘পথচারীরা যদি সময়মতো এগিয়ে না আসতেন, তবে শিশুটির গুরুতর শারীরিক ক্ষতি বা তার চেয়ে খারাপ কিছু ঘটে যেতে পারত। শিশুটি হয়তো হারিয়ে যেত, কোনও অপরিচিত ব্যক্তি তার ক্ষতি করতে পারত অথবা তাকে তুলে নিয়ে যেতে পারত। তাছাড়া দু'জনকে এভাবে অচেতন অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে শিশুটি মানসিকভাবে আতঙ্কগ্রস্ত হতে পারত।’ মেহরা আল নাহিয়ানকে দুই বছরের ‘কমিউনিটি অর্ডার’ (কমিউনিটি পরিষেবা দেওয়ার নির্দেশ) এবং পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি, তাঁকে ৬ হাজার ১১৪ পাউন্ড জরিমানা করা হয়েছে।
E-Paper

