Twisha Sharma’s Message: 'আমার দমবন্ধ হয়ে...,' রহস্যমৃত্যুর আগে মা'কে শেষ বার্তা নব বিবাহিতা তরুণীর, তোলপাড়...

Twisha Sharma’s Message: মৃত্যুর পাঁচদিন আগে নিজের মাকে মেসেজে ত্বিশা লিখেছিলেন, ‘ওরা সবাই খুব নিষ্ঠুর, মা। এই লোকগুলো আমাকে বাঁচতে দেবে না। আমাকে এখান থেকে নিয়ে যাও।’

Published on: May 18, 2026 9:21 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Twisha Sharma’s Message: 'আমার দমবন্ধ হয়ে আসছে মা।' ১২ মে মধ্যপ্রদেশের ভোপালে স্বামীর বাড়িতে মৃত অবস্থায় পাওয়া যাওয়ার আগে ৩৩ বছর বয়সি ত্বিশা শর্মাকে। তাঁর রহস্যমৃত্যু ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে দেশজুড়ে। ইতিমধ্যেই ত্বিশার মৃত্যুর আগে করা তাঁর একটি চ্যাট সামনে এসেছে। সেখানে তিশা তাঁর মা'কে মেসেজ করেন। সেই চ্যাট এখন ভাইরাল। পরিবারের সদস্য এবং তদন্তকারীদের হাতে আসা চ্যাট থেকে তাঁর মৃত্যুর আগের দিনগুলোতে ক্রমবর্ধমান মানসিক যন্ত্রণা, একাকিত্ব এবং উদ্বেগের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

ত্বিশা শর্মা
ত্বিশা শর্মা

ত্বিশা শর্মা নয়ডার বাসিন্দা ছিলেন। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ভোপালের আইনজীবী সমর্থ সিংয়ের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। জানা গিয়েছে, এই দম্পতি ২০২৪ সালে একটি ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে তাঁদের পরিচয় হয়েছিল। এমবিএ ডিগ্রিধারী ত্বিশা বিয়ের পর ভোপালে চলে আসার আগে বেশ কয়েক বছর দিল্লির একটি কোম্পানিতে কাজ করেছিলেন। গত মঙ্গলবার ত্বিশার মৃতদেহ উদ্ধার হয়। প্রাথমিক পোস্টমর্টেম রিপোর্টে অনুযায়ী, ফাঁস লাগার কারণেই মৃত্যু হয়েছে ত্বিশা শর্মার। তবে রিপোর্টে শরীরের বিভিন্ন অংশে একাধিক আঘাতের চিহ্নেরও উল্লেখ রয়েছে। ভিসেরা, রক্ত, নখের নমুনা সংরক্ষণ করে ফরেন্সিক পরীক্ষায় পাঠানো হয়েছে। পোশাক ও অন্যান্য নমুনাও পরীক্ষা করা হচ্ছে। এদিকে, ত্বিশার মৃত্যুর তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে মানসিক নির্যাতন, জোর করে গর্ভপাত, পণের দাবির অভিযোগ। মৃত্যুর আগে ত্বিশার আতঙ্কে ভরা শেষ বার্তাগুলি তারই সাক্ষ্য দিচ্ছে। এখন প্রকাশ্যে এসেছে ত্বিশার ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট, যা নিয়ে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

মৃত্যুর পাঁচদিন আগে নিজের মাকে মেসেজে ত্বিশা লিখেছিলেন, ‘ওরা সবাই খুব নিষ্ঠুর, মা। এই লোকগুলো আমাকে বাঁচতে দেবে না। আমাকে এখান থেকে নিয়ে যাও।’ তিনি মাকে আরও জানান, 'আমার দমবন্ধ হয়ে আসছে মা। এরা আমাকে কাঁদতেও দেবে না, হাসার কোনও কারণও দেবে না। আমি খুব খারাপভাবে ফেঁসে গেছি।' এমনকী ত্বিশা ঘটনার আগে তাঁর মায়ের কাছে শ্বশুরবাড়ির লোককে নিয়ে অনুযোগ করে মেসেজ করেছিলেন। তিনি লেখেন, ‘সমর্থ জিজ্ঞেস করে আমি কার বাচ্চা গর্ভে ধারণ করছি। আমি খুব বিচলিত, এই লোকগুলো খুব খারাপ।’ সেই মেসেজের ছত্রে ছত্রে রয়েছে, হয়রানি, নির্যাতনের বর্ণনা। এই চ্যাটগুলিকেই এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ বলে দাবি করছে পরিবার। শেষ মেসেজে যখন তাঁর মা ত্বিশাকে শ্বশুরবাড়ির সকলের সঙ্গে 'স্বাভাবিকভাবে' কথা বলতে এবং কোনও কিছুতে তাড়াহুড়ো না করতে পরামর্শ দিয়েছিলেন। তখন ত্বিশা জানান যে তাঁর সঙ্গে ভালোভাবে কথা বললে সেও তা-ই করবে। এমনকী মৃত্যুর ঠিক মিনিট পনেরো আগেও রাত ১০টা ৫ মিনিট নাগাদ মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছিল তাঁর। সেই ফোনে তিনি অত্যাচারের কথা জানান। কিন্তু স্বামী ঘরে ঢুকতেই ত্বিশা আচমকা ফোন কেটে দেন। এরপরেই ত্বিশা, সমর্থ ও ত্বিশার শাশুড়িকে বার বার ফোন করলেও কেউ ফোন ধরেননি। রাত ১০টা ১৫ মিনিটে শাশুড়ি ফোন ধরে জানান, ত্বিশার ঘরের দরজা বন্ধ। পরে রাত ১০টা ২০ মিনিট নাগাদ পরিবারকে বলা হয় ত্বিশা শ্বাস নিচ্ছেন না।

ত্বিশাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর ভাই হর্ষিত শর্মা ভারতীয় সেনাবাহিনীতে মেজর পদে কর্মরত। তাঁর অভিযোগ, বাড়ি থেকে হাসপাতালের দূরত্ব মাত্র ১০ মিনিট হলেও তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে অনেক দেরি করা হয়। অন্যদিকে, ত্বিশার স্বামী সমর্থ সিং এবং তাঁর মা, প্রাক্তন বিচারপতি গিরিবালা সিংয়ের বিরুদ্ধে আনা যৌতুক হয়রানির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে পুলিশ একটি বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) গঠন করেছে। ত্বিশার পরিবার ওই দুজনের বিরুদ্ধে তাঁকে হত্যার অভিযোগ করেছে। তাঁরা আরও অভিযোগ করেছেন যে, অভিযুক্তরা তাঁদের প্রভাবশালী ক্ষমতা ও যোগাযোগের কারণে তদন্তকে প্রভাবিত করতে পারেন এবং দাবি করা হয়েছে যে, তাঁদের ইতিমধ্যেই আগাম জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে। খতিয়ে দেখা হচ্ছে ত্বিশার অস্বাভাবিক মৃত্যুর কারণ। এই অপমৃত্যু আত্মহত্যা নাকি খুন, সেটাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।