বিবাহিত পুরুষের সঙ্গে লিভ-ইন অপরাধ নয়, বড় পর্যবেক্ষণ এলাহাবাদ হাইকোর্টের
ওই যুগলের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অপহরণ মামলায় আপাতত গ্রেফতারের উপর স্থগিতাদেশ দিয়েছে আদালত।
একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণে এলাহাবাদ হাইকোর্ট জানিয়েছে, কোনও বিবাহিত পুরুষ যদি প্রাপ্তবয়স্ক এক মহিলার সঙ্গে সম্মতিপূর্ণ লিভ-ইন সম্পর্কে থাকেন, তা আইনত অপরাধ নয়। একইসঙ্গে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, সামাজিক নীতি বা নৈতিকতা আদালতের কাছে নাগরিকের অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে প্রাধান্য পাবে না।

উত্তরপ্রদেশের শাহজাহানপুরের সম্পর্কে থাকা এক যুগলের দায়ের করা একটি ফৌজদারি রিট পিটিশনের শুনানি করছিল এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি জেজে মুনির ও বিচারপতি তরুণ সাক্সেনার ডিভিশন বেঞ্চ। ওই যুগল অনামিকা ও নেত্রপাল, পুলিশের করা মামলাটি খারিজ করার আবেদন জানান এবং একই সঙ্গে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য আদালতের হস্তক্ষেপ চান। এই প্রেক্ষিতে আদালত জানিয়েছে, 'যদি দুই প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি পারস্পরিক সম্মতিতে একসঙ্গে বসবাস করেন, তা কোনওভাবেই অপরাধ নয়।' আদালতের মতে, আইন ও নৈতিকতা-দুটি ভিন্ন বিষয়। আইনের চোখে যদি কোনও অপরাধ না থাকে, তাহলে সামাজিক মতামত বা নৈতিকতার ভিত্তিতে আদালত সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।
ঘটনার সূত্রপাত ৮ জানুয়ারি, যখন অনামিকার মা কান্তি জৈতিপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, নেত্রপাল তার মেয়েকে ‘প্রলোভন দেখিয়ে’ নিয়ে গিয়েছেন এবং এই কাজে আরেকজন, ধর্মপাল, তাকে সাহায্য করেছেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৮৭ নম্বর ধারায় মামলা দায়ের হয়। তবে উচ্চ আদালতে অনামিকা জানান, তাঁর বয়স ১৮ বছর এবং তিনি স্বেচ্ছায় নেত্রপালের সঙ্গে লিভ-ইন সম্পর্কে রয়েছেন। অর্থাৎ, সম্পর্কটি সম্পূর্ণ সম্মতিপূর্ণ। এই তথ্যের ভিত্তিতে আদালত প্রাথমিকভাবে মনে করে, এখানে কোনও অপরাধের উপাদান নেই। শুনানির সময় প্রতিপক্ষের তরফে যুক্তি দেওয়া হয় যে, নেত্রপাল বিবাহিত হওয়ায় অন্য এক মহিলার সঙ্গে লিভ-ইন করা অপরাধের মধ্যে পড়ে। কিন্তু এলাহাবাদ আদালত এই যুক্তি খারিজ করে জানায়, প্রাপ্তবয়স্ক দু’জন মানুষের সম্মতিপূর্ণ লিভ-ইন-এর ক্ষেত্রে এমন কোনও ফৌজদারি ধারা নেই যার আওতায় অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করা যায়। আদালত আরও জানায়, সমাজের নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং আইন এক জিনিস নয়। আদালতের দায়িত্ব নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষা করা, তা সামাজিক মতামত দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে না।
এছাড়া, যুগলের পক্ষ থেকে ‘অনার কিলিং’-এর আশঙ্কার কথাও আদালতের সামনে তুলে ধরা হয়। অনামিকা অভিযোগ করেন, তার পরিবার থেকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিয়ে আদালত সংশ্লিষ্ট পুলিশ সুপারকে তিরস্কার করে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেয়। এছাড়া ওই যুগলের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অপহরণ মামলায় আপাতত গ্রেফতারের উপর স্থগিতাদেশ দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে মহিলার পরিবারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাঁরা যেন কোনওভাবে দম্পতির ক্ষতি না করেন বা তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা না করেন। আগামী ৮ এপ্রিল এই মামলার পরবর্তী শুনানি।
E-Paper

