AI data-collection headgear: ঘণ্টায় আয় ৩৫০! সবজি বিক্রির সঙ্গে AI ডেটা সংগ্রহ, বেঙ্গালুরুর ভিডিওয় তাজ্জব নেটপাড়া
AI data-collection headgear: ‘বৈভব’ নামে এক ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারী প্রথম এই দৃশ্যটি ক্যামেরাবন্দি করেন। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ওই সবজি বিক্রেতা মাথায় একটি বিশেষ হেডব্যান্ড পরে আছেন, যার সামনের অংশে একটি আইফোন এবং একটি মেমরি কার্ড ডিভাইস শক্ত করে বাঁধা রয়েছে।
AI data-collection headgear: টেক সিটি বেঙ্গালুরু যে প্রযুক্তির দিক থেকে সবসময় দু-কদম এগিয়ে থাকে, তা আরও একবার প্রমাণিত হলো। তবে এবার কোনও আইটি পার্কের ইঞ্জিনিয়ার নয়, খবরের শিরোনামে এলেন এক সাধারণ সবজি বিক্রেতা। রাস্তায় ঘুরে সবজি বিক্রি করার পাশাপাশি মাথায় এক অদ্ভুত যন্ত্র পরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ (এআই)-এর ট্রেনিংয়ের জন্য ডেটা সংগ্রহ করছেন তিনি। আর এই কাজের জন্য প্রতি ঘণ্টায় তাঁর আয় হচ্ছে ৩৫০ টাকা! সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনার একটি ভিডিও ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে, যা দেখে চোখ কপালে উঠেছে নেটিজেনদের।

সবজি বিক্রেতা ও ভাইরাল ভিডিও
‘বৈভব’ নামে এক ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারী প্রথম এই দৃশ্যটি ক্যামেরাবন্দি করেন। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ওই সবজি বিক্রেতা মাথায় একটি বিশেষ হেডব্যান্ড পরে আছেন, যার সামনের অংশে একটি আইফোন এবং একটি মেমরি কার্ড ডিভাইস শক্ত করে বাঁধা রয়েছে। ভিডিওটি শেয়ার করে বৈভব ক্যাপশনে লিখেছেন, 'আমি স্কুটি নিয়ে যাচ্ছিলাম, হঠাৎ এই দৃশ্য দেখে ব্রেক কষতে বাধ্য হই। কপালে আইফোন বাঁধা এক স্থানীয় সবজি বিক্রেতাকে দেখে কৌতুহলবশত থমকে দাঁড়াই এবং জিজ্ঞেস করি তিনি কী করছেন। উত্তর শুনে আমি স্তব্ধ! তিনি এআই মডেলকে ট্রেন করার জন্য রিয়েল-ওয়ার্ল্ড ডেটা (বাস্তব দুনিয়ার তথ্য) সংগ্রহ করছেন।' সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের দাবি অনুযায়ী, এই ডেটা সংগ্রহের কাজের জন্য ওই সবজি বিক্রেতা ঘণ্টায় ৩৫০ টাকা করে আয় করছেন। বৈভব সেই হিসাব টেনে লিখেছেন, দিনে ১০ ঘণ্টা কাজ করলে দৈনিক আয় দাঁড়ায় ৩,৫০০ টাকা। অর্থাৎ, মাসে ১,০৫,০০০ টাকারও বেশি। ওই পোস্টটিতে রসিকতা করে আরও লেখা হয়েছে, 'কর্পোরেট ইন্ডিয়ার অর্ধেক চাকুরিজীবীর চেয়েও একজন সাধারণ সবজি বিক্রেতা মাথায় স্মার্টফোন বেঁধে ঘুরে বেশি আয় করছেন-ভাবতেই অবাক লাগছে। ভবিষ্যৎ সত্যিই অদ্ভুত হতে চলেছে!'
‘ইগোসেন্ট্রিক ডেটা কালেকশন’ কী?
এই ভিডিওটি ভাইরাল হতেই নেটিজেনদের মধ্যে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, প্রযুক্তির ভাষায় একে বলা হয় 'ইগোসেন্ট্রিক ডেটা কালেকশন।' মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা অন্যান্য দেশের রোবোটিক্স এবং হিউম্যানয়েড তৈরি করা সংস্থাগুলি মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্ম যেমন-জিনিসপত্র নাড়াচাড়া করা, হাঁটাচলা বা কেনাবেচার ধরন বোঝার জন্য এই ধরনের ডেটা ব্যবহার করে। আইফোনে থাকা LiDAR সেন্সর এবং অন্যান্য প্রযুক্তির সাহায্যে মানুষের চারপাশের পরিবেশের গভীরতা ও গতির নিখুঁত তথ্য রেকর্ড করা হয়, যা পরবর্তীতে রোবটকে মানুষের মতো আচরণ করতে শেখায়।
এদিকে, ভিডিওটি ইতিমধ্যেই লক্ষ লক্ষ মানুষ দেখে ফেলেছেন। তবে এই ঘটনা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। একাংশ যেমন প্রযুক্তির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের এই বাড়তি উপার্জনকে স্বাগত জানিয়েছেন, তেমনই অন্য অংশের কপালে চিন্তার ভাঁজ দেখা গিয়েছে। এক নেটিজেন লিখেছেন, 'এখন বেশি টাকা দিয়ে কাজ করিয়ে নেওয়া হচ্ছে, পরে এই ডেটা ব্যবহার করেই রোবট এসে সাধারণ মানুষের রুটিরুজি কেড়ে নেবে।' অন্য একজন মন্তব্য করেছেন, 'কিছুদিনের জন্য হয়তো ভালো আয়, কিন্তু এআই সম্পূর্ণ ট্রেন হয়ে গেলে এই কাজও থাকবে না।'
E-Paper

