ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের রায়? ১০০ আসনের ৮৪টিতেই জয়ী ডেমোক্র্যাটরা

হিসাব বলছে, ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি, এমন ১০০টি কংগ্রেসীয় আসনের মধ্যে ৮৪টিতে জয় পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। অন্য দিকে, রিপাবলিকানদের ঝুলিতে গিয়েছে ১৫টি আসন। অ্যারিজোনার একটি আসনে এখনও চূড়ান্ত ফল ঘোষণা হয়নি। সেখানে ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রার্থী আমিশ শাহ এগিয়ে রয়েছেন।

Published on: Nov 5, 2026, 09:50:07 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির বড় ধাক্কা। শুধু জাতীয় স্তরেই নয়, ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের বসবাস বেশি, এমন নির্বাচনী এলাকাগুলিতেও ডেমোক্র্যাটদের দাপট দেখা গেল। হিসাব বলছে, ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি, এমন ১০০টি কংগ্রেসীয় আসনের মধ্যে ৮৪টিতে জয় পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। অন্য দিকে, রিপাবলিকানদের ঝুলিতে গিয়েছে ১৫টি আসন। অ্যারিজোনার একটি আসনে এখনও চূড়ান্ত ফল ঘোষণা হয়নি। সেখানে ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রার্থী আমিশ শাহ এগিয়ে রয়েছেন। ফলে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের রায়? ১০০ আসনের ৮৪টিতেই জয়ী ডেমোক্র্যাটরা (AP Photo/Alex Brandon)
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের রায়? ১০০ আসনের ৮৪টিতেই জয়ী ডেমোক্র্যাটরা (AP Photo/Alex Brandon)

আমেরিকার ৪৩৫টি কংগ্রেসীয় আসনে ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের জনসংখ্যার ভিত্তিতে এই সমীক্ষা করেছে সংবাদমাধ্যমটি। ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের আমেরিকান কমিউনিটি সার্ভের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। দেখা গিয়েছে, যে ১০০টি আসনে ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, সেখানে বসবাস করেন আমেরিকার এই জনগোষ্ঠীর অর্ধেকেরও বেশি মানুষ। ক্যালিফোর্নিয়ার সিলিকন ভ্যালি থেকে নিউ জার্সি, টেক্সাস, জর্জিয়া, ইলিনয় এবং ওয়াশিংটনের বিভিন্ন এলাকা রয়েছে এই তালিকায়। তবে কোনও আসনেই ভারতীয় বংশোদ্ভূতরা সংখ্যাগরিষ্ঠ নন। কিন্তু হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ক্ষেত্রে তাঁদের ভোট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

ডেমোক্র্যাটদের সবচেয়ে বড় সাফল্য ক্যালিফোর্নিয়ায়। ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের উপস্থিতি বেশি, এমন ২০টি আসনের মধ্যে ১৯টিতেই জিতেছে তারা। এই তালিকায় রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার ১৭ নম্বর আসন। আমেরিকার কংগ্রেসীয় এলাকাগুলির মধ্যে এখানেই ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। প্রায় ১ লক্ষ ৪৬ হাজার ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষের বাস এই এলাকায়। সেখান থেকেই টানা ষষ্ঠ বার কংগ্রেসে নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট নেতা রো খান্না।

এ ছাড়া নিউ ইয়র্ক, ইলিনয়, নিউ জার্সি এবং পেনসিলভেনিয়ার তালিকাভুক্ত সব আসনেই জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা। এই নির্বাচনে পেনসিলভেনিয়ার ব্রায়ান ফিটজপ্যাট্রিক এবং নিউ জার্সির টম কিন জুনিয়রের মতো রিপাবলিকান নেতাদেরও হারতে হয়েছে। দু’জনেই কংগ্রেসের ‘ইন্ডিয়া ককাস’-এর সদস্য ছিলেন।

তবে টেক্সাসে ছবিটা কিছুটা আলাদা। সেখানে ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের বসবাস বেশি, এমন ১৩টি আসনের মধ্যে ৯টিতে জিতেছে রিপাবলিকানরা। বেথ ভ্যান ডুয়েন এবং ট্রেভর নেহলসের মতো রিপাবলিকান প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন। নেহলসের নির্বাচনী এলাকায় প্রায় ৪৫ হাজার ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষের বাস। অন্য দিকে, টেক্সাসের ৩২ নম্বর আসনে ডেমোক্র্যাট জুলি জনসনকে হারিয়ে জয় পেয়েছেন রিপাবলিকান জেস ইয়ারব্রো।

ভারতীয় বংশোদ্ভূত ভোটারদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের প্রতি ঝোঁক কেন বাড়ল, তার ইঙ্গিত মিলেছে কার্নেগি এনডাওমেন্ট এবং ইউগভের একটি সমীক্ষায়। অক্টোবরের ওই সমীক্ষা অনুযায়ী, ৬২ শতাংশ ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক কংগ্রেসের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। রিপাবলিকানদের পক্ষে ছিলেন মাত্র ১৯ শতাংশ। সেনেট নির্বাচনের ক্ষেত্রেও ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন ছিল ৬৩ শতাংশ, রিপাবলিকানদের ২১ শতাংশ।

ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা নিয়েও ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের মধ্যে অসন্তোষের ইঙ্গিত মিলেছে। ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত চালানো আগের এক সমীক্ষায় মাত্র ২৯ শতাংশ ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক ট্রাম্পের কাজকর্মে সন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। অসন্তুষ্ট ছিলেন ৭১ শতাংশ। মূল্যবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, অর্থনীতি, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং অভিবাসন ছিল তাঁদের প্রধান উদ্বেগের বিষয়। অনলাইনে ভারতীয়দের বিরুদ্ধে বর্ণবিদ্বেষমূলক মন্তব্য নিয়েও উদ্বেগের কথা জানিয়েছিলেন অনেকে।

সব মিলিয়ে, ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের বসবাস বেশি, এমন এলাকাগুলিতে ডেমোক্র্যাটদের এই সাফল্য আমেরিকার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে। জাতীয় স্তরেও প্রতিনিধি পরিষদ এবং সেনেটের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ায় ট্রাম্পের আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে বাধা বাড়তে পারে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More