AAP MP join BJP: যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করে আম আদমি পার্টির জন্ম হয়েছিল, সেই দলের ভিতই নড়ে গেল ১৪ বছরের মাথায়। অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে বড় ধাক্কা দিয়ে দল ছেড়েছেন রাঘব চাড্ডা-সহ রাজ্যসভার সাত জন দাপুটে সাংসদ। তবে রাঘবের দলত্যাগ প্রত্যাশিতই ছিল। কিন্তু তাঁর সঙ্গে আর যাঁরা হাত মিলিয়েছেন, তাঁদের কাছ থেকে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছেন আপ সুপ্রিমো। রাঘবকে সরিয়ে যে সাংসদকে রাজ্যসভায় আপের ডেপুটি লিডার করেছিলেন, যাঁর বাড়িতে এক বছরেরও বেশি সময় আশ্রয় নিয়েছিলেন সপরিবার, সেই অশোক মিত্তল শেষ মুহূর্তে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের হাত ছেড়ে দিয়েছেন।
অশোক মিত্তল ও অরবিন্দ কেজরিওয়াল (PTI)
রাজ্যসভার সাংসদ হিসাবে অশোক মিত্তল দিল্লির ৫ ফিরোজ শাহ রোডের সরকারি বাংলোটি পেয়েছিলেন। ২০২৪ সালে আবগারি দুর্নীতি মামলায় জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তারপর থেকে সপরিবারে অশোকের সেই সরকারি বাংলোতেই তিনি থাকতেন। এক বছরের বেশি সময় ওই বাড়িতে ছিলেন তাঁরা। সেই অশোক মিত্তল শুক্রবার আপের হাত ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। আপ বর্তমানে একটি জাতীয় দল। যে কোনও জাতীয় দলের প্রধানকে কেন্দ্রের তরফে একটি সরকারি বাংলো দেওয়া হয়। সম্প্রতি কেরিয়ালের জন্য দিল্লির লোধি এস্টেটে বাংলো দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। আর শুক্রবারই পরিবার নিয়ে সেই সরকারি বাংলোতে চলে আসেন দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তাঁর এক বছরের আশ্রয়দাতা, আস্থাভাজন অশোক আপ ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। এরপর থেকেই আপ সমর্থকেরা দাবি করছেন, কেজরিওয়ালের সঙ্গে সবচেয়ে বড় ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ করেছেন অশোকই।
আপ-র অন্দরে ভাঙন
শুক্রবার রাঘব চাড্ডা ছাড়াও দল ছাড়ার তালিকায় রয়েছেন অশোক মিত্তল, সন্দীপ পাঠক, হরভজন সিং, রাজেন্দ্র গুপ্ত, বিক্রম সাহনি, স্বাতী মালিওয়াল। বিজেপির সদর দফতরে দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন অত্যন্ত উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান দলত্যাগী সাংসদদের। মিষ্টি মুখ করিয়ে তাঁদের বরণ করে নেওয়া হয়। সম্প্রতিই আপ সরকারিভাবে রাজ্যসভা সচিবালয়কে চিঠি দিয়ে রাঘব চাড্ডাকে উপনেতার পদ থেকে সরিয়ে অশোক মিত্তালকে নিয়োগ করার কথা জানায়। সেদিন সন্ধ্যার মধ্যেই রাজ্যসভার ওয়েবসাইটেও এই বদল নথিভুক্ত হয়ে যায়। তারপর থেকেই অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হ়য়েছিল রাঘব চাড্ডার। এরমধ্যেই মাত্র ১৫ দিনের মাথায় অশোক মিত্তালের দলত্যাগ আপের জন্য আরও বড় ধাক্কা হয়ে এল। এছাড়াও স্বাতীর সঙ্গে দলের দূরত্ব তৈরি হয়েছিল ২০২৪ সালের মে মাসেই। অরবিন্দ কেজরিওয়ালের বাসভবনে তাঁর আপ্ত সহায়ক বিরুদ্ধে হেনস্থার অভিযোগ এনেছিলেন তিনি। তবে বাকিদের দলত্যাগ একরকম অপ্রত্যাশিত ছিল। রাজ্যসভায় আপের মোট সদস্য সংখ্যা ছিল ১০। দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সদস্য বিজেপি-তে চলে যাওয়ায় রাঘবদের দলত্যাগ বিরোধী আইনের কোপে পড়তে হবে না।