US Congresswoman Supports Dipke: অভিজিৎ দীপকের আন্দোলনে মার্কিন সাংসদের সমর্থন! এসআইআর নিয়ে মোদী সরকারকে নিশানা

বুধবার সমাজমাধ্যম এক্সে নিজের বক্তব্য প্রকাশ করেন ওয়াশিংটন প্রদেশের সাংসদ প্রমিলা। তাঁর দাবি, ভারতের ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় প্রায় ১৩ কোটি মানুষের নাম বাদ পড়েছে বলে যে খবর সামনে এসেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

Published on: Oct 15, 2026, 09:08:57 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর নিয়ে ভারতের রাজনৈতিক সংঘাত এ বার পৌঁছে গেল আমেরিকাতেও। এই প্রক্রিয়ায় বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন সাংসদ প্রমিলা জয়পাল। শুধু তা-ই নয়, ভোটাধিকার রক্ষার দাবিতে ভারতে যে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলছে, তার প্রতিও সমর্থন জানিয়েছেন তিনি। ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের আবহে প্রমিলার এই মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। আমেরিকার ডেমোক্র্যাট সাংসদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ দেওয়ার ঘটনা গণতন্ত্রের জন্য উদ্বেগজনক। তাঁর মন্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।

অভিজিৎ দীপকের আন্দোলনে মার্কিন সাংসদের সমর্থন (PTI)
অভিজিৎ দীপকের আন্দোলনে মার্কিন সাংসদের সমর্থন (PTI)

কী বলেছেন প্রমিলা?

বুধবার সমাজমাধ্যম এক্সে নিজের বক্তব্য প্রকাশ করেন ওয়াশিংটন প্রদেশের সাংসদ প্রমিলা। তাঁর দাবি, ভারতের ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় প্রায় ১৩ কোটি মানুষের নাম বাদ পড়েছে বলে যে খবর সামনে এসেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই পদক্ষেপের সঙ্গে আমেরিকায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগেরও তুলনা টেনেছেন তিনি।

প্রমিলার বক্তব্য, ভোটার তালিকা থেকে মানুষের নাম বাদ দিয়ে তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার দুর্বল করার চেষ্টা কোনও ভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ভারতে এসআইআরের বিরুদ্ধে যাঁরা অহিংস পথে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন, তাঁদের পাশে থাকার বার্তাও দিয়েছেন এই মার্কিন সাংসদ। তবে অভিজিৎ দীপকের ব্যক্তিগত নেতৃত্বের প্রতি আলাদা করে সমর্থন জানিয়েছেন কি না, তার চেয়ে তাঁর বক্তব্যের মূল লক্ষ্য ছিল ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে চলা আন্দোলন।

কেন বিতর্কে এসআইআর?

নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন চলছে। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম কয়েকটি পর্যায়ে ১৩টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের খসড়া ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ১৩ কোটি নাম বাদ পড়েছে। কমিশনের বক্তব্য, মৃত ভোটার, একাধিক জায়গায় নাম থাকা ব্যক্তি এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় আর বসবাস করেন না এমন ভোটারদের চিহ্নিত করতেই এই প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে।

কিন্তু বিরোধীদের অভিযোগ, এই সংশোধনের ফলে প্রকৃত ভোটারদেরও নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে দরিদ্র, পরিযায়ী শ্রমিক এবং প্রান্তিক মানুষের ভোটাধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তাঁরা। এই প্রেক্ষাপটেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি তুলেছে সিজেপি-সহ বিরোধী পক্ষের একাংশ।

অন্য দিকে, নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, খসড়া তালিকায় নাম বাদ পড়লেও যোগ্য ভোটারেরা নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় ফের নাম তোলার আবেদন করতে পারেন। তার জন্য ফর্ম ৬ জমা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে নাম বাদ পড়ার সংখ্যাকে সরাসরি স্থায়ী ভাবে ভোটাধিকার হারানোর সংখ্যা হিসাবে দেখানো ঠিক নয়।

বিদেশি সমর্থন নিয়ে নতুন প্রশ্ন

প্রমিলার মন্তব্য এমন সময়ে সামনে এল, যখন সিজেপির আন্দোলনের অর্থের উৎস নিয়েও বিতর্ক চলছে। মার্কিন গায়িকা মেরি মিলবেন অভিযোগ করেছেন, মোদী-বিরোধী কিছু মার্কিন দাতা অভিজিৎ দীপকের সংগঠনকে অর্থসাহায্য করছেন। তবে সেই দাবির পক্ষে প্রকাশ্যে কোনও আর্থিক নথি পেশ করা হয়নি। অভিজিৎও সংগঠনের অর্থের উৎস নিয়ে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

সব মিলিয়ে, এসআইআর নিয়ে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিরোধ এ বার আন্তর্জাতিক আলোচনাতেও জায়গা করে নিল। প্রমিলার বক্তব্য বিরোধীদের আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করলেও, ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্কের নিষ্পত্তি এখনও হয়নি। শেষ পর্যন্ত কত জন যোগ্য ভোটারের নাম বাদ পড়েছে এবং তাঁদের কত জনের নাম ফের তালিকায় ফিরবে, তার উপরেই নির্ভর করবে এই বিতর্কের পরবর্তী গতিপথ।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More