Abhinandan Varthaman left IAF: অভিনন্দন বর্তমানের নয়া ইনিংস, ভারতীয় বায়ুসেনা ছেড়েছেন F16 ধ্বংস করা পাইলট

সংশ্লিষ্ট সূত্রের খবর, গত ৩১ মার্চ ভারতীয় বায়ুসেনা থেকে অবসর নেন অভিনন্দন। এরপর তিনি আঞ্চলিক বিমান পরিষেবা সংস্থা ‘ফ্লাই৯১’-এ যোগ দিয়েছেন। তবে তাঁর এই চাকরি পরিবর্তনের বিষয়ে সংস্থার পক্ষ থেকে এখনও কোনও বিস্তারিত মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

Published on: Sep 3, 2026, 08:10:51 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Abhinandan Varthaman left IAF: ২০১৯ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি ভারত-পাকিস্তান আকাশযুদ্ধে পাকিস্তানের এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন ভারতীয় বায়ুসেনার গ্রুপ ক্যাপ্টেন অভিনন্দন বর্তমান। সেই সাহসিকতার জন্য পেয়েছিলেন দেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ যুদ্ধকালীন বীরত্ব পুরস্কার ‘বীর চক্র’। এবার সামরিক জীবনের ইতি টেনে বেসরকারি বিমান পরিষেবায় নতুন অধ্যায় শুরু করলেন তিনি।

গত ৩১ মার্চ ভারতীয় বায়ুসেনা থেকে অবসর নেন অভিনন্দন।
গত ৩১ মার্চ ভারতীয় বায়ুসেনা থেকে অবসর নেন অভিনন্দন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের খবর, গত ৩১ মার্চ ভারতীয় বায়ুসেনা থেকে অবসর নেন অভিনন্দন। এরপর তিনি আঞ্চলিক বিমান পরিষেবা সংস্থা ‘ফ্লাই৯১’-এ যোগ দিয়েছেন। তবে তাঁর এই চাকরি পরিবর্তনের বিষয়ে সংস্থার পক্ষ থেকে এখনও কোনও বিস্তারিত মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিনন্দনের নাম ভারতের সামরিক বিমান ইতিহাসে বিশেষভাবে উজ্জ্বল হয়ে রয়েছে ২০১৯ সালের সেই সংঘর্ষের কারণে। ১৪ ফেব্রুয়ারি পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলায় ৪০ জন সিআরপিএফ জওয়ানের মৃত্যু হয়। তার জবাবে ২৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের বালাকোটে জইশ-ই-মহম্মদের প্রশিক্ষণ শিবিরে হামলা চালায় ভারতীয় বায়ুসেনার মিরাজ-২০০০ যুদ্ধবিমান। পরের দিন, ২৭ ফেব্রুয়ারি, নিয়ন্ত্রণরেখার কাছে ভারতীয় ও পাকিস্তানি বায়ুসেনার মধ্যে তীব্র আকাশযুদ্ধ শুরু হয়।

তখন উইং কমান্ডার পদে থাকা অভিনন্দন শ্রীনগর বায়ুসেনা ঘাঁটিতে মিগ-২১ বাইসন স্কোয়াড্রনের সঙ্গে ‘অপারেশনাল রেডিনেস প্ল্যাটফর্ম’-এর দায়িত্বে ছিলেন। পাকিস্তানি বায়ুসেনার একাধিক যুদ্ধবিমানের একটি বড় দল নিয়ন্ত্রণরেখার দিকে এগিয়ে আসার খবর পাওয়ার মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যে তাঁকে বাধা দেওয়ার জন্য আকাশে পাঠানো হয়।

ভারতের সরকারি বীরত্বের উদ্ধৃতিতে বলা হয়েছিল, বিপুল সংখ্যাগত ও প্রযুক্তিগত সুবিধা থাকা সত্ত্বেও পাকিস্তানি যুদ্ধবিমানগুলির মোকাবিলায় অভিনন্দন অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে লড়াই করেন। তিনি একটি পিছিয়ে যাওয়া শত্রু যুদ্ধবিমানকে ধাওয়া করেন এবং মুখোমুখি লড়াইয়ে সেটিকে গুলি করে নামান। পরে সেটি পাকিস্তানের এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বলে দাবি করা হয়।

তবে লড়াইয়ের সময় পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান থেকে ছোড়া একাধিক দূরপাল্লার আকাশ-থেকে-আকাশ ক্ষেপণাস্ত্রের একটি অভিনন্দনের মিগ-২১ বাইসনকে আঘাত করে। বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার আগে অভিনন্দন প্যারাশুটে বেরিয়ে আসেন এবং পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় পড়ে যান। তাঁকে আটক করে পাকিস্তান প্রায় ৬০ ঘণ্টা হেফাজতে রাখে। অবশেষে ১ মার্চ, তাঁকে ভারতের হাতে তুলে দেয় ইসলামাবাদ।

এই ঘটনায় অভিনন্দন জাতীয় বীরের মর্যাদা পান। একই বছরের ডিসেম্বরে প্রকাশিত ভারতের সরকারি গেজেটের উদ্ধৃতিতে তাঁর অসাধারণ সাহস, আক্রমণাত্মক কৌশল এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালনের প্রশংসা করা হয়। তাঁর এই ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে ‘বীর চক্র’ প্রদান করা হয়।

প্রায় সাত বছর পর সামরিক পোশাকের সেই অধ্যায়ের ইতি টেনে এবার যাত্রীবাহী বিমান পরিষেবায় অভিনন্দনের নতুন যাত্রা। যুদ্ধক্ষেত্রের আকাশ থেকে এবার বেসামরিক বিমান চলাচলের আকাশে—ভারতীয় বিমানচালনার ইতিহাসে তাঁর কেরিয়ারের নতুন অধ্যায় নিঃসন্দেহে নজর কাড়ছে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More