Abhishek Banerjee Update: বিলবোর্ড-কাণ্ডে অবশেষে থানায় অভিষেক, ৪৮ ঘণ্টা সময় চেয়ে সোমবার এড়িয়েছিলেন হাজিরা

অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে নোটিস দেওয়ার আবেদন জানান তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। তার পরেই ফের তাঁর বাড়িতে গিয়ে নোটিস দেয় পুলিশ। সেই নির্দেশ মেনে বুধবার থানায় হাজির হলেন অভিষেক। বিলবোর্ড-কাণ্ডে তাঁকে ঘিরে তদন্ত কোন দিকে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

Updated on: Oct 14, 2026, 11:30:18 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূলের কার্যালয়ের সামনে বিলবোর্ড সরানোকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় অবশেষে পুলিশের মুখোমুখি হলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার সকাল ১১টা নাগাদ শেক্সপিয়র সরণি থানায় হাজির হন ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ। এর আগে সোমবার তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় ডাকা হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত দিনে হাজিরা না দিয়ে পুলিশকে ইমেল পাঠিয়ে আরও সময় চেয়েছিলেন তিনি। অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে নোটিস দেওয়ার আবেদন জানান তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। তার পরেই ফের তাঁর বাড়িতে গিয়ে নোটিস দেয় পুলিশ। সেই নির্দেশ মেনে বুধবার থানায় হাজির হলেন অভিষেক। বিলবোর্ড-কাণ্ডে তাঁকে ঘিরে তদন্ত কোন দিকে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

বিলবোর্ড-কাণ্ডে অবশেষে থানায় অভিষেক, ৪৮ ঘণ্টা সময় চেয়ে সোমবার এড়িয়েছিলেন হাজিরা (PTI)
বিলবোর্ড-কাণ্ডে অবশেষে থানায় অভিষেক, ৪৮ ঘণ্টা সময় চেয়ে সোমবার এড়িয়েছিলেন হাজিরা (PTI)

কেন থানায় তলব অভিষেককে?

ঘটনার সূত্রপাত গত ২৭ অগস্ট। কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূলের কার্যালয়ের সামনে একটি বিলবোর্ড সরাতে গিয়েছিলেন কলকাতা পুরসভার কর্মীরা। অভিযোগ, সেই সময় তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে পুরকর্মীদের বচসা থেকে সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গেও ধস্তাধস্তি হয় বলে অভিযোগ।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনটি এফআইআর দায়ের করে পুলিশ। তার মধ্যে দুটিতে অভিষেকের নাম রয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে। পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া, পুলিশ ও পুরকর্মীদের মারধর এবং এক মহিলা পুলিশ আধিকারিকের শ্লীলতাহানির চেষ্টার মতো অভিযোগও রয়েছে। তবে এগুলি অভিযোগ, আদালতে প্রমাণিত ঘটনা নয়। এই ঘটনায় ইতিমধ্যে ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে আগেই জানিয়েছিল সংবাদমাধ্যম।

সোমবার কেন যাননি অভিষেক?

তদন্তের প্রয়োজনে শেক্সপিয়র সরণি থানার তরফে অভিষেককে সোমবার হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত দিনে থানায় যাননি তিনি। পরিবর্তে ইমেল করে নিজের অসুবিধার কথা জানান। তাঁর বক্তব্য ছিল, খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে নোটিস পাঠানোয় আগে থেকে নির্ধারিত কর্মসূচি বদলানো কঠিন। তাই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে নোটিস দেওয়ার আবেদন করেন তিনি। এই সময় চাওয়ার বিষয়টি ঘিরেও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়।

এর পর রবিবার অভিষেকের কালীঘাটের বাড়িতে যায় পুলিশ। তাঁকে নতুন করে নোটিস দেওয়া হয়। পুলিশ সূত্রের খবর, সেই নোটিস তাঁর ভাই আকাশ বন্দ্যোপাধ্যায় গ্রহণ করেন। বুধবার থানায় হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল তাতে। শেষ পর্যন্ত বুধবার সকালে থানায় পৌঁছন অভিষেক।

রাজনৈতিক চাপানউতোরও তুঙ্গে

বিলবোর্ড সরানোকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের ঘটনা এখন শুধু আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই। তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের নাম জড়ানোয় বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরও বেড়েছে। এক দিকে পুলিশি তদন্ত, অন্য দিকে বিরোধীদের কটাক্ষ—দুইয়ের মধ্যে বুধবারের হাজিরা তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

অভিষেকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলির সত্যতা তদন্তের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে। থানায় তাঁর হাজিরার পর পুলিশ কী কী প্রশ্ন করে এবং তদন্তে নতুন কোনও তথ্য উঠে আসে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে ক্যামাক স্ট্রিটের বিলবোর্ড-বিতর্কে নতুন করে গতি এল বুধবারের এই হাজিরায়।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More