অভিষেকের বিদেশযাত্রার আবেদন ফের হাই কোর্টে, দ্রুত শুনানি করতে বলল সুপ্রিম কোর্ট
সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি. মোহনের বেঞ্চে অভিষেকের আবেদন ওঠে। শুনানির পর বেঞ্চ জানায়, যেহেতু বিষয়টি ইতিমধ্যেই কলকাতা হাই কোর্টে বিচারাধীন, তাই সেখানে শুনানিই আগে হওয়া উচিত। সেই কারণেই আবেদনটি হাই কোর্টে ফেরত পাঠানো হয়।
চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে শীর্ষ আদালত এই মামলায় সরাসরি হস্তক্ষেপ না করে আবেদনটি ফের কলকাতা হাই কোর্টে পাঠিয়ে দিয়েছে। একই সঙ্গে হাই কোর্টকে মামলাটি দ্রুত শুনানির জন্য বিবেচনা করার অনুরোধও জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি. মোহনের বেঞ্চে অভিষেকের আবেদন ওঠে। শুনানির পর বেঞ্চ জানায়, যেহেতু বিষয়টি ইতিমধ্যেই কলকাতা হাই কোর্টে বিচারাধীন, তাই সেখানে শুনানিই আগে হওয়া উচিত। সেই কারণেই আবেদনটি হাই কোর্টে ফেরত পাঠানো হয়।
বর্তমানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদেশযাত্রা সংক্রান্ত মামলা বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে চলছে। গত ২০ জুলাই শুনানির সময় আদালত জানতে চেয়েছিল, বিদেশে চিকিৎসার আগে তিনি কলকাতার কোনও বিশেষজ্ঞ চক্ষু চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েছেন কি না। এর জবাবে অভিষেকের আইনজীবী জানান, তাঁর মক্কেলের দীর্ঘদিন ধরেই আমেরিকায় চোখের চিকিৎসা চলছে। তাই সেই চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
তবে এই আবেদনের বিরোধিতা করেছে রাজ্য সরকার। রাজ্যের আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তাঁকে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দিলে তদন্তে সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই আদালতের উচিত বিষয়টি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা।
দু'পক্ষের বক্তব্য শোনার পর হাই কোর্ট জানিয়েছিল, বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি দেওয়ার আগে অভিষেককে এসএসকেএম হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের প্রধানের কাছে পরীক্ষা করাতে হবে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যদি মত দেন যে, এই রোগের চিকিৎসা কলকাতায় সম্ভব নয় এবং বিদেশে চিকিৎসা করানো জরুরি, তবেই সেই রিপোর্ট আদালত গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবে।
সেই সময় বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, আদালত বর্তমান পরিস্থিতি এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত নথির ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেবে। যদি প্রমাণ হয় যে বিদেশে চিকিৎসা ছাড়া অন্য কোনও উপায় নেই, তাহলে বিদেশযাত্রার অনুমতির বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।
এরই মধ্যে গত মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, ডি-জে (ডিজিটাল জালিয়াতি) মামলায় হাই কোর্টের সমস্ত নির্দেশ তিনি মেনে চলেছেন। তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন এবং প্রয়োজনীয় কণ্ঠস্বরের নমুনাও জমা দিয়েছেন। কিন্তু চিকিৎসার স্বার্থে করা বিদেশযাত্রার আবেদন দীর্ঘদিন ধরে নিষ্পত্তি না হওয়ায় তিনি শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হন।
তবে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তে স্পষ্ট হয়েছে, এই মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আপাতত কলকাতা হাই কোর্টই নেবে। এখন নজর থাকবে, হাই কোর্ট কবে এই মামলার শুনানি করে এবং চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা ও তদন্তের স্বার্থ—দুই দিক বিবেচনা করে কী নির্দেশ দেয়। আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের উপরই নির্ভর করবে, চোখের চিকিৎসার জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিদেশে যাওয়ার অনুমতি পান কি না।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


