IRS Officer Daughter Murder: 'দিদি যদি টাকা দিত...,' IRS অফিসার-কন্যা খুনে নির্লিপ্ত স্বীকারোক্তি অভিযুক্তের
IRS Officer Daughter Murder: নিহত তরুণীর বাবা ইন্ডিয়ান রেভিনিউ সার্ভিস (আইআরএস)-এর অফিসার। পুলিশ জানিয়েছে, আমলা-কন্যার বয়স ২২। আইআইটি দিল্লির স্নাতক। ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
IRS Officer Daughter Murder: খাস দিল্লির বিলাসবহুল কৈলাশ হিলস এলাকায় আইআরএস অফিসারের মেধাবী কন্যাকে নৃশংসভাবে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় শিউরে উঠছে গোটা দেশ। অভিযুক্ত প্রাক্তন পরিচারক রাহুল মীনাকে ইতিমধ্যেই দিল্লির দ্বারকা এলাকার একটি হোটেল থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে এক ভয়ঙ্কর পরিকল্পনার কথা, যেখানে লালসা, অনলাইন গেমের নেশা এবং প্রতিহিংসা মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে।

নিহত তরুণীর বাবা ইন্ডিয়ান রেভিনিউ সার্ভিস (আইআরএস)-এর অফিসার। পুলিশ জানিয়েছে, আমলা-কন্যার বয়স ২২। আইআইটি দিল্লির স্নাতক। ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। বুধবার তাঁকে নিথর অবস্থায় পাওয়া যায় নিজের বাড়িতেই। ঘটনার সময় ওই তরুণী বাড়িতে একাই ছিলেন। তাঁর বাবা-মা সকাল বেলাতেই জিমে গিয়েছিলেন। ৮টা নাগাদ বাড়ি ফিরে এসে দেখতে পান মোবাইলের চার্জার গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে মেয়েকে। তাঁকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ আনা হয়েছে। বুধবারই দিল্লির একটি হোটেল থেকে রাহুলকে গ্রেফতার করা হয়। তারপর তদন্ত যত গড়িয়েছে, ততই বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। বার্তা সংবাদ এএনআই-এর একটি প্রতিবেদনে উদ্ধৃত পুলিশ সূত্রে খবর,এই নৃশংস ঘটনার পর অভিযুক্তের মধ্যে বিন্দুমাত্র অনুশোচনা দেখা যায়নি। পুলিশের কাছে সে অত্যন্ত স্বাভাবিক ভঙ্গিতেই জানিয়েছে, তার উদ্দেশ্য ছিল কেবল টাকা চাওয়া। ঘটনাটি কীভাবে ঘটল, তা নিয়ে সে নির্লিপ্তভাবে জানিয়েছে, 'সবকিছু এমনি এমনিই ঘটে গেল।'
এএনআই-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযুক্ত রাহুল মীনা জিজ্ঞাসাবাদের সময় অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবে পুলিশকে বলেছে, 'দিদি যদি টাকা দিত, তবে এমনটা ঘটত না।' পুলিশের ভাষায়, ২৩ বছর বয়সি ওই যুবকের মধ্যে তাঁর করা নৃশংস অপরাধের জন্য কোনও অনুশোচনা দেখা যায়নি।
খুনের আগে রাজস্থানে
পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযোগ, গত ২১ এপ্রিল রাতে রাজস্থানের অলওয়ারে এক পরিচিতের স্ত্রীকে ধর্ষণ ও মারধর করে বছর ২৩-এর রাহুল মীনা। এরপর নিজের মোবাইল ফোন ১০ হাজার টাকায় বিক্রি করে সেই টাকায় ৬ হাজার টাকা দিয়ে ক্যাব ভাড়া করে সে সোজা দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। তার লক্ষ্য ছিল দক্ষিণ দিল্লিতে তার প্রাক্তন নিয়োগকর্তা, অর্থাৎ সেই আইআরএস অফিসারের বাড়ি। বুধবার ভোরে যখন গোটা শহর সবে জাগছে, ঠিক তখনই নিজের নারকীয় পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে পৌঁছায় রাহুল। রাহুল সেখানে প্রায় আট মাস পরিচারকের কাজ করেছিল, কিন্তু টাকা ধার করে শোধ না করার অভ্যাসের কারণে তাকে কাজ থেকে ছাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।
পরবর্তী পদক্ষেপ
এদিকে, বৃহস্পতিবার দিল্লির একটি আদালত রাহুল মীনাকে চার দিনের জন্য পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। প্রধান বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট দীপিকা ঠাকরন অভিযুক্তকে চার দিনের হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দিল্লি পুলিশের আবেদন মঞ্জুর করেছেন। পুলিশ আধিকারিকরা বলেন, মৃতার বাবা তাঁদের জানিয়েছেন যে, অভিযুক্ত যুবক প্রায় ১০ মাস তাঁদের বাড়িতে কাজ করেছে। প্রতিবেশীদের কাছ থেকে অল্প অল্প করে টাকা ধার করার অভ্যাসের কারণে দুই মাস আগে তাঁকে বরখাস্ত করা হয়।
E-Paper

