Adani Airlines Speculation: বিমান সংস্থা গড়তে বড় পদক্ষেপ আদানির? কেন্দ্রের কাছে নিয়ম বদলের আবেদনে জল্পনা

সরকারি সূত্র এবং শিল্পমহলের একাধিক সূত্রের দাবি, বর্তমানে দেশের দুটি ব্যস্ততম বিমানবন্দর—দিল্লি ও মুম্বই বিমানবন্দরের পরিচালনাকারী সংস্থাগুলির ক্ষেত্রে একটি নিয়ম রয়েছে।

Published on: Jul 23, 2026, 10:54:22 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Adani Airlines Speculation: ভারতের বিমান পরিবহণ ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। আদানি গোষ্ঠী নাকি নিজস্ব বিমান সংস্থা চালু করার পরিকল্পনা করছে। সেই লক্ষ্যেই কেন্দ্রের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম শিথিল করার আবেদন জানিয়েছে সংস্থাটি। যদি সরকার সেই প্রস্তাবে সম্মতি দেয়, তাহলে ভবিষ্যতে আদানি গোষ্ঠীও দেশের আকাশপথে যাত্রীবাহী বিমান পরিষেবা শুরু করতে পারে বলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।

FILE PHOTO: India's Prime Minister Narendra Modi greets Indian businessman Gautam Adani, during the inauguration event of the Navi Mumbai International Airport in Ulwe, Raigad district, India, October 8, 2025. REUTERS/Francis Mascarenhas/File Photo (REUTERS)
FILE PHOTO: India's Prime Minister Narendra Modi greets Indian businessman Gautam Adani, during the inauguration event of the Navi Mumbai International Airport in Ulwe, Raigad district, India, October 8, 2025. REUTERS/Francis Mascarenhas/File Photo (REUTERS)

সরকারি সূত্র এবং শিল্পমহলের একাধিক সূত্রের দাবি, বর্তমানে দেশের দুটি ব্যস্ততম বিমানবন্দর—দিল্লি ও মুম্বই বিমানবন্দরের পরিচালনাকারী সংস্থাগুলির ক্ষেত্রে একটি নিয়ম রয়েছে। সেই নিয়ম অনুযায়ী, এই বিমানবন্দরগুলির অপারেটর কোনও নির্ধারিত বিমান সংস্থায় ১০ শতাংশের বেশি অংশীদারিত্ব রাখতে পারে না। ২০০৬ সালে এই দুই বিমানবন্দর বেসরকারিকরণের সময় ওই শর্ত চুক্তিতে যুক্ত করা হয়েছিল।

আদানি গোষ্ঠী এখন সেই শর্তে পরিবর্তন আনার আবেদন করেছে। বর্তমানে মুম্বই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৭৪ শতাংশ শেয়ারের মালিক আদানি গোষ্ঠী। অন্যদিকে দিল্লি বিমানবন্দরের ৭৪ শতাংশ মালিকানা রয়েছে জিএমআর এয়ারপোর্টসের হাতে।

সরকার বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। জানা গিয়েছে, এই নিয়মে অতীতের চুক্তি সংশোধন করা আইনগতভাবে সম্ভব কি না, তা নিয়ে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতার মতামত চেয়েছে কেন্দ্র। যদি নিয়ম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হয়, তাহলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অনুমোদনও লাগবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারও হয়তো বিমান পরিবহণ ক্ষেত্রে আরও প্রতিযোগিতা তৈরি করতে আগ্রহী। বর্তমানে দেশের অভ্যন্তরীণ বিমান বাজারের প্রায় ৯০ শতাংশই ইন্ডিগো এবং এয়ার ইন্ডিয়ার দখলে। ফলে নতুন কোনও আর্থিকভাবে শক্তিশালী সংস্থা বাজারে এলে প্রতিযোগিতা বাড়তে পারে।

আদানি গোষ্ঠী ইতিমধ্যেই বিমান পরিবহণ খাতে নিজেদের উপস্থিতি বাড়িয়েছে। তারা দেশের আটটি বিমানবন্দর পরিচালনা করছে। এছাড়া পাইলট প্রশিক্ষণ, বিমান মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ (এমআরও), গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের মতো ক্ষেত্রেও কাজ করছে। এবার যদি নিজস্ব বিমান সংস্থা চালু হয়, তাহলে বিমান শিল্পে তাদের উপস্থিতি আরও শক্তিশালী হবে।

শিল্পমহলের সূত্রে জানা গিয়েছে, ব্রাজিলের বিমান নির্মাতা এমব্রায়ারের সঙ্গে যৌথভাবে ভারতে বিমান তৈরির একটি প্রকল্প নিয়েও ভাবছে আদানি গোষ্ঠী। তবে ওই প্রকল্প সফল করতে বড় সংখ্যায় বিমানের অর্ডার প্রয়োজন। সেই কারণেই নিজস্ব বিমান সংস্থা চালু করার পরিকল্পনা গুরুত্ব পাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

যদিও গত বছরের ডিসেম্বরে গৌতম আদানির ছেলে জিত আদানি প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন, বিমান সংস্থা চালানোর কোনও পরিকল্পনা নেই। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে সেই অবস্থানে পরিবর্তন এসেছে কি না, তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। যদিও আদানি গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।

অন্যদিকে এই প্রস্তাব নিয়ে আপত্তি তুলতে পারে দেশের বর্তমান বিমান সংস্থাগুলি। তাদের আশঙ্কা, যদি কোনও বিমানবন্দর পরিচালনাকারী সংস্থাই বিমান পরিষেবা চালায়, তাহলে স্লট বরাদ্দের ক্ষেত্রে তারা বাড়তি সুবিধা পেতে পারে। বিমান ওঠানামার নির্দিষ্ট সময় বা 'স্লট' অত্যন্ত মূল্যবান সম্পদ হিসেবে ধরা হয়। তাই প্রতিযোগিতায় ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

তবে সরকারি সূত্রের দাবি, নিয়মে পরিবর্তন করা হলেও বিমানবন্দর পরিচালনা এবং বিমান সংস্থার ব্যবসাকে আলাদা রাখার জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি স্লট বরাদ্দের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় নিয়মও কার্যকর থাকবে। এখন কেন্দ্র কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার দিকেই নজর রয়েছে গোটা বিমান পরিবহণ শিল্পের।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More