Adani Pact in AK-203 Project: একে২০৩ রাইফেল প্রকল্পে আদানির বড় চুক্তি, বদলাতে পারে ভারতের প্রতিরক্ষা সরবরাহের ছবি

AK-203 হল কালাশনিকভ সিরিজের আধুনিক অ্যাসল্ট রাইফেল। ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রয়োজন অনুযায়ী এই রাইফেলের উৎপাদন দেশের মাটিতেই করা হচ্ছে। AK-203 তৈরির দায়িত্ব রয়েছে ইন্দো-রাশিয়ান রাইফেলস প্রাইভেট লিমিটেডের হাতে।

Published on: Sep 5, 2026, 21:25:43 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আরও বড় ভূমিকা নিতে চলেছে গৌতম আদানি গোষ্ঠী। আদানি ডিফেন্স অ্যান্ড অ্যারোস্পেসের সঙ্গে ইন্দো-রাশিয়ান রাইফেলস প্রাইভেট লিমিটেডের (IRRPL) পাঁচ বছরের একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর জন্য তৈরি হতে থাকা AK-203 অ্যাসল্ট রাইফেলের প্রয়োজনীয় ছোট অস্ত্রের গোলাবারুদ সরবরাহ করবে আদানি ডিফেন্স। এই চুক্তিকে দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগের ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আরও বড় ভূমিকা নিতে চলেছে গৌতম আদানি গোষ্ঠী। (ANI Video Grab)
ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আরও বড় ভূমিকা নিতে চলেছে গৌতম আদানি গোষ্ঠী। (ANI Video Grab)

AK-203 হল কালাশনিকভ সিরিজের আধুনিক অ্যাসল্ট রাইফেল। ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রয়োজন অনুযায়ী এই রাইফেলের উৎপাদন দেশের মাটিতেই করা হচ্ছে। AK-203 তৈরির দায়িত্ব রয়েছে ইন্দো-রাশিয়ান রাইফেলস প্রাইভেট লিমিটেডের হাতে। ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে তৈরি এই সংস্থার ম্যানুফ্যাকচারিং প্ল্যান্ট উত্তরপ্রদেশের আমেঠি জেলার কোরওয়ায় অবস্থিত।

IRRPL একটি যৌথ উদ্যোগের সংস্থা। ভারতীয় অংশীদার হিসেবে রয়েছে অ্যাডভান্সড ওয়েপন্স অ্যান্ড ইকুইপমেন্ট ইন্ডিয়া লিমিটেড এবং মিউনিশনস ইন্ডিয়া লিমিটেড। রাশিয়ার পক্ষ থেকে এই সংস্থার অংশীদার কনসার্ন কালাশনিকভ এবং রোসোবোরোনএক্সপোর্ট। ২০১৯ সালে ভারত-রাশিয়ার আন্তঃসরকারি চুক্তির ভিত্তিতেই IRRPL গঠিত হয়।

দেশের প্রতিরক্ষা উৎপাদন ব্যবস্থায় AK-203 প্রকল্প ইতিমধ্যেই বড় মাপের পরিকল্পনা হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে সরকার IRRPL-এর সঙ্গে ৬,০১,৪২৭টি AK-203 রাইফেল তৈরির জন্য চুক্তি করে। কোরওয়া কারখানাতেই এই বিপুল সংখ্যক রাইফেল তৈরি হওয়ার কথা। ফলে সেই রাইফেলের জন্য প্রয়োজনীয় গোলাবারুদের নিরবচ্ছিন্ন দেশীয় সরবরাহ নিশ্চিত করার দিক থেকেও আদানি ডিফেন্সের নতুন চুক্তির গুরুত্ব রয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, আদানি ডিফেন্স ৭.৬২x৩৯ মিলিমিটার ছোট অস্ত্রের গোলাবারুদ সরবরাহ করবে। অর্থাৎ রাইফেল উৎপাদন এবং তার জন্য প্রয়োজনীয় অ্যামিউনিশনের জোগান—দুই ক্ষেত্রেই দেশীয় পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। এতদিন প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিদেশি সরবরাহের উপর নির্ভরতা ছিল। দেশেই রাইফেল এবং গোলাবারুদ তৈরির সক্ষমতা বাড়লে সেই নির্ভরতা ধীরে ধীরে কমানো সম্ভব হতে পারে।

আদানি ডিফেন্স ইতিমধ্যেই দেশে ছোট অস্ত্রের গোলাবারুদ উৎপাদনের পরিকাঠামো গড়ে তুলছে। উত্তরপ্রদেশের কানপুরেও সংস্থাটির ম্যানুফ্যাকচারিং প্ল্যান্ট রয়েছে। সংস্থার দাবি, বর্তমানে তাদের বছরে এক লক্ষ অস্ত্র তৈরির ক্ষমতা রয়েছে।

আদানি ডিফেন্স অ্যান্ড অ্যারোস্পেসের সিইও আশিস রাজবংশী জানিয়েছেন, সংস্থার লক্ষ্য শুধুমাত্র প্রতিরক্ষা হার্ডওয়্যার সরবরাহ করা নয়। ভারতে ছোট অস্ত্রের সম্পূর্ণ পরিসরের জন্য একটি শক্তিশালী ম্যানুফ্যাকচারিং ইকোসিস্টেম গড়ে তোলাই তাঁদের মূল উদ্দেশ্য। তাঁর বক্তব্য, গত ছয় বছরে সংস্থা শুধুমাত্র যন্ত্রাংশ নির্মাতা থেকে পূর্ণাঙ্গ বন্দুক প্রস্তুতকারী বা OEM-এ পরিণত হয়েছে।

লাইট মেশিনগান থেকে শুরু হওয়া সেই যাত্রা বর্তমানে অ্যাসল্ট রাইফেল, পিস্তল, স্নাইপার এবং কার্বাইনের মতো বিভিন্ন ছোট অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা গড়ে তোলার দিকে এগিয়েছে। AK-203-এর গোলাবারুদ সরবরাহের এই নতুন চুক্তি সেই বৃহত্তর দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পেরই আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন বলে মনে করা হচ্ছে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More