Afghan Taliban Threatens Pak: 'সঠিক সময়ে আক্রমণ', পাকিস্তানকে 'জবাব' দেওয়ার হুঁশিয়ারি আফগান তালিবানের
তালিবান জানিয়েছে, পাকিস্তান বারমাল ও আরগুন জেলায় বিমান হামলা চালিয়েছে। এই আবহে পাকিস্তানকে 'কড়া জবাব' দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তালিবান মুখপাত্র।
আফগানিস্তান সীমান্ত এলাকায় পাকিস্তানের বিমান হামলায় বেজায় চটেছে তালিবান। এই হামলায় বহু সাধারণ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এই আবহে তালিবান মুখপাত্র জুবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেন, 'গত রাতে পাকিস্তান নানগারহার ও পাকতিকা প্রদেশে আকস্মিক বিমান হামলা চালিয়েছে। এতে নারী ও শিশুসহ অনেকজন মানুষ মারা গেছেন।' টোলো নিউজের প্রতিবেদন অনুসারে, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী নানগারহারের একটি আবাসিক ভবনে হামলা চালায়, সেখানে একটি পরিবারের প্রায় ২৩ জন লোক বাস করত। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে সেই পরিবারটি। এখনও পর্যন্ত মাত্র চারজনকে উদ্ধার করা হয়েছে সেখান থেকে। তালিবান জানিয়েছে, পাকিস্তান বারমাল ও আরগুন জেলায় বিমান হামলা চালিয়েছে। এই আবহে পাকিস্তানকে 'কড়া জবাব' দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তালিবান মুখপাত্র।

জাবিউল্লাহ মুজাবিত বলেন, পাকিস্তান অসৎ কাজ করে নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে। তিনি বলেন, 'পাকিস্তান সেনাবাহিনী আফগানিস্তানে অনুপ্রবেশ করেছে। পাকিস্তানের জেনারেলরা একই ধরনের কাজ করে নিজেদের দেশে তাদের ভাবমূর্তি ভালো করতে চান। পাকিস্তান আফগানিস্তানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে। এমন পরিস্থিতিতে আফগানিস্তানেরও জবাব দেওয়ার অধিকার রয়েছে। সঠিক সময় এলে আক্রমণ করা হবে।' এদিকে পাকিস্তান জানিয়েছে, শনিবার খাইবার-পাখতুনখোয়ার বান্নু এলাকায় আত্মঘাতী হামলায় এক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ও সেনাবাহিনীর এক জওয়ান নিহত হয়েছেন। এর প্রতিশোধ নিতে এই বিমান হামলা চালানো হয়েছে।
পাক তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের কাছে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ রয়েছে যে ইসলামাবাদের শিয়া মসজিদে হামলা এবং শনিবার বান্নুর ঘটনাসহ এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আফগানিস্তানে থাকা হ্যান্ডলারদের নির্দেশে চালানো হয়। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আফগানিস্তানের তালিবান সরকারকে পাকিস্তান বারবার অনুরোধ করেছে যাতে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এবং বিদেশি এজেন্টদের তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে না দেওয়া হয়। কিন্তু বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও তারা তাদের বিরুদ্ধে কোনও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পাকিস্তান-আফগান সীমান্ত অঞ্চলে সাতটি সন্ত্রাসী শিবিরে অভিযান চালানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে ডুরান্ড লাইন বরাবর পাকিস্তানি ও আফগান সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে যে ভয়াবহ সংঘর্ষ বেঁধেছিল, তার কেন্দ্রে ছিল 'তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান' (টিটিপি)। পাকিস্তানের দাবি, টিটিপিকে আশ্রয় দিচ্ছে আফগান তালিবান। আর সেই সব জঙ্গি তারপর পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। এদিকে তালিবানের পালটা অভিযোগ, পাকিস্তান সরকার এবং সেনা ইসলামিক স্টেটের মতো জঙ্গি সংগঠনকে সাহায্য করছে। ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে বাইতুল্লাহ মেহসুদের নেতৃত্বে পাকিস্তানের ফেডারেল শাসিত উপজাতি এলাকার বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীকে একত্র করে টিটিপি গঠিত হয়। এই গোষ্ঠীকে আন্তর্জাতিকভাবে একটি সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। আল-কায়েদা জঙ্গিদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানি সামরিক অভিযানের প্রতিক্রিয়া হিসেবে এর জন্ম হয়েছিল। বর্তমানে টিটিপির মূল লক্ষ্য হল পাকিস্তানের সরকারকে সরিয়ে তাদের নিজস্ব মতাদর্শে একটি ইসলামি শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।
এই আবহে গত ২০২৫ সালের ৯ অক্টোবর মধ্যরাতের দিকে কাবুলের পূর্বাঞ্চলে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর পাক সীমান্তে সেনা আউটপোস্টে পালটা হামলা চালায় আফগনরা। সেই হামলায় পাকিস্তানের ৫৮ সেনা জওয়ান নিহত বলে দাবি করে তালিবান। এদিকে পাক সেনা দাবি করে, তাদের ২৩ জন জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে। তারপর গত ১৪ অক্টোবর রাতে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়েছিল। তাতে কমপক্ষে ১৫ আফগান নাগরিক এবং পাকিস্তানি আধাসামরিক বাহিনীর ৬ জন নিহত হয়েছিল। পরে নভেম্বরের শুরুতেও ফের আফগানিস্তানের স্পিন বলডক অঞ্চলে পাকিস্তানের তরফ থেকে গুলি চালানো হয়েছিল। আর এবার আফগান সীমান্তের কাছে টিটিপি ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালাল পাকিস্তান।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


