Afghanistan-Pakistan War Updates: পাকের পাশে ট্রাম্প, আর আফগান সীমান্তে সংঘাত থামাতে কূটনৈতিক চেষ্টা রাশিয়া-চিনের
রুশ বিদেশ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা এক বিবৃতিতে বলেছেন, সাধারণ নাগরিকসহ উভয় পক্ষের অনেকেই প্রাণ হারিয়েছেন এই সংঘাতে। আমাদের বন্ধুপ্রতিম দেশ আফগানিস্তান ও পাকিস্তানকে এই সংঘাত বন্ধ করতে এবং রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উপায়ে সব মতপার্থক্য সমাধানের জন্য আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।
পাক-আফগান সংঘাত নিয়ে একদিকে যেখানে আমেরিকা দাঁড়িয়েছে ইসলামাবাদের পাশে, অপরদিকে এই সংঘাত থামাতে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। এরই মাঝে চিন এবং রাশিয়া নাকি কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে এই সংঘাত থামানোর চেষ্টা শুরু করেছে। রুশ বিদেশ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা এক বিবৃতিতে বলেছেন, সাধারণ নাগরিকসহ উভয় পক্ষের অনেকেই প্রাণ হারিয়েছেন এই সংঘাতে। আমাদের বন্ধুপ্রতিম দেশ আফগানিস্তান ও পাকিস্তানকে এই বিপজ্জনক সংঘাত বন্ধ করতে এবং রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উপায়ে সব মতপার্থক্য সমাধানের জন্য আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। অন্যদিকে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার আবেদন জানিয়েছে চিনও।

এছাড়া রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মুখপাত্রের মতে, সব পক্ষেরই আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা উচিত এবং সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা উচিত। দুই দেশকেই কূটনৈতিকভাবে মতপার্থক্য নিষ্পত্তি করার আহ্বান জানানো হয়েছে রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিবের তরফ থেকে। এদিকে এই সংঘাতের আবহে তালিবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ কান্দাহারে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, 'আমরা বারবার শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর জোর দিয়েছি এবং এখনও চাই সংলাপের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান হোক।'
প্রসঙ্গত, গত ২২ ফেব্রুয়ারি ভোর হতে না হতেই আফগানিস্তান সীমান্তে বিমান হামলা চালিয়েছিল পাকিস্তান। তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের (টিটিপি) ঘাঁটিতে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছিল পাকিস্তান। গত ২১ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ায় আত্মঘাতী হামলার জবাবে এই এয়ারস্ট্রাইকের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। এদিকে ২২ তারিখের পাক হামলার জবাবে আফগানিস্তানও পালটা হামলা চালায় পাকিস্তানের ওপরে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে ডুরান্ড লাইন বরাবর পাকিস্তানি ও আফগান সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে যে ভয়াবহ সংঘর্ষ বেঁধেছিল, তার কেন্দ্রে ছিল 'তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান' (টিটিপি)। পাকিস্তানের দাবি, টিটিপিকে আশ্রয় দিচ্ছে আফগান তালিবান। আর সেই সব জঙ্গি তারপর পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। এদিকে তালিবানের পালটা অভিযোগ, পাকিস্তান সরকার এবং সেনা ইসলামিক স্টেটের মতো জঙ্গি সংগঠনকে সাহায্য করছে। ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে বাইতুল্লাহ মেহসুদের নেতৃত্বে পাকিস্তানের ফেডারেল শাসিত উপজাতি এলাকার বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীকে একত্র করে টিটিপি গঠিত হয়। এই গোষ্ঠীকে আন্তর্জাতিকভাবে একটি সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। আল-কায়েদা জঙ্গিদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানি সামরিক অভিযানের প্রতিক্রিয়া হিসেবে এর জন্ম হয়েছিল। বর্তমানে টিটিপির মূল লক্ষ্য হল পাকিস্তানের সরকারকে সরিয়ে তাদের নিজস্ব মতাদর্শে একটি ইসলামি শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।
এই আবহে গত ২০২৫ সালের ৯ অক্টোবর মধ্যরাতের দিকে কাবুলের পূর্বাঞ্চলে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর পাক সীমান্তে সেনা আউটপোস্টে পালটা হামলা চালায় আফগনরা। সেই হামলায় পাকিস্তানের ৫৮ সেনা জওয়ান নিহত বলে দাবি করে তালিবান। এদিকে পাক সেনা দাবি করে, তাদের ২৩ জন জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে। তারপর গত ১৪ অক্টোবর রাতে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়েছিল। তাতে কমপক্ষে ১৫ আফগান নাগরিক এবং পাকিস্তানি আধাসামরিক বাহিনীর ৬ জন নিহত হয়েছিল। পরে নভেম্বরের শুরুতেও ফের আফগানিস্তানের স্পিন বলডক অঞ্চলে পাকিস্তানের তরফ থেকে গুলি চালানো হয়েছিল। আর এবার আফগান সীমান্তের কাছে টিটিপি ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালাল পাকিস্তান।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


