Indian Musician on ICE Detention: আমেরিকায় ICE-এর হাতে ১৪ দিন বন্দি ভারতীয় বংশোদ্ভূত জ্যাজ শিল্পী, মুক্তির পর কী বললেন
প্রীতেশের দাবি, গত ২ অগস্ট লস অ্যাঞ্জেলেসে ফেরার পর তাঁকে আচমকাই আটক করা হয়। পরে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় অ্যাডেলান্তো আইসিই প্রসেসিং সেন্টারে। তাঁর বান্ধবী তাঁর হয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছিলেন। সেখানেই আটকের বিষয়টি প্রথম সামনে আসে।
আমেরিকায় ভিসার মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়ার অভিযোগে আটক করা হয়েছিল ভারতীয় বংশোদ্ভূত জ্যাজ সঙ্গীতশিল্পী প্রীতেশ ওয়ালিয়াকে। ১৪ দিন আইসিই হেফাজতে থাকার পর অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন তিনি। মুক্তির পরে একটি ভিডিয়ো বার্তায় নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন এই শিল্পী।

প্রীতেশের দাবি, গত ২ অগস্ট লস অ্যাঞ্জেলেসে ফেরার পর তাঁকে আচমকাই আটক করা হয়। পরে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় অ্যাডেলান্তো আইসিই প্রসেসিং সেন্টারে। তাঁর বান্ধবী তাঁর হয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছিলেন। সেখানেই আটকের বিষয়টি প্রথম সামনে আসে।
হেফাজতে থাকাকালীন সময়টাকে অত্যন্ত কঠিন বলে বর্ণনা করেছেন প্রীতেশ। তাঁর কথায়, তিনি ভয় পেয়েছিলেন। নিজেকে অসহায় মনে হয়েছিল। একসময় সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিলেন বলেও জানান তিনি। প্রায় দুই সপ্তাহ পর বন্ডে মুক্তি পান প্রীতেশ। মুক্তির পরে ইনস্টাগ্রামে তিনি লেখেন, এই ১৪ দিনের অভিজ্ঞতা তাঁকে চিরতরে বদলে দিয়েছে। তাঁর পরিবারের সদস্য, বান্ধবী, আইনজীবী এবং গোটা সঙ্গীত মহলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
মুক্তির পর ভিডিয়ো বার্তাতেও নিজের অভিজ্ঞতার কথা বিস্তারিত জানান এই শিল্পী। তাঁর কথায়, ডিটেনশন সেন্টারে থাকলে বাইরের পৃথিবীটা খুব ছোট মনে হয়। সহজেই আশা হারিয়ে ফেলতে হয়। তাঁর ক্ষেত্রেও বার বার এমন হয়েছে। তবে বাইরে থাকা মানুষজন তাঁর জন্য লড়াই করছেন—এই খবর তাঁকে মানসিক ভাবে শক্তি দিয়েছে বলে জানান প্রীতেশ। তাঁর পাশে সঙ্গীত জগতের বহু মানুষ দাঁড়িয়েছিলেন। অসংখ্য বার্তা পেয়েছিলেন তিনি। সেটাই তাঁকে কঠিন সময় পার করতে সাহায্য করেছে বলে জানিয়েছেন জ্যাজ শিল্পী।
প্রীতেশের কথায়, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর শক্তি এবং সহমর্মিতার উপর তাঁর বিশ্বাস আবার ফিরে এসেছে। মুক্তির পর কয়েক দিন তিনি বিশ্রাম নিতে চান। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতেও চান বলে জানিয়েছেন। প্রীতেশ ওয়ালিয়ার সঙ্গীতজীবন অবশ্য বেশ দীর্ঘ। নয়াদিল্লিতে জন্ম ও বেড়ে ওঠা তাঁর। মাত্র ১৩ বছর বয়সে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে প্রশিক্ষণ শুরু করেন তিনি। পরে উচ্চশিক্ষার জন্য আমেরিকায় পাড়ি দেন।
আমেরিকায় একাধিক নামী সঙ্গীত প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেছেন প্রীতেশ। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতার মধ্যে রয়েছে বার্কলি কলেজ অব মিউজিক এবং নিউ ইংল্যান্ড কনজারভেটরির ডিগ্রি। বর্তমানে তিনি লস অ্যাঞ্জেলেসে থাকেন এবং জ্যাজ গিটারিস্ট, সুরকার ও শিক্ষক হিসেবে কাজ করছেন।
সঙ্গীত জগতেও তাঁর পরিচিতি তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে পারফর্ম করেছেন তিনি। তাঁর নিজের সঙ্গীত প্রকল্পও রয়েছে। ২০২৪ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম অ্যালবাম ‘হোপ টাউন’। ২০২৬ সালেও তাঁর একাধিক নতুন কাজ প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর আটকের খবর প্রকাশ্যে আসার পর সঙ্গীত জগতের বহু মানুষ উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। পরিবার ও ঘনিষ্ঠরাও তাঁর মুক্তির জন্য আইনি লড়াই চালান।
শেষ পর্যন্ত বন্ডে মুক্তি পেলেও তাঁর অভিবাসন সংক্রান্ত মামলা এখনও চলমান। ফলে আইনি প্রক্রিয়া এখানেই শেষ হচ্ছে না। পরবর্তী সময়ে আদালতে এই মামলার কী ফল হয়, এখন সেদিকেই নজর। তবে ১৪ দিনের অভিজ্ঞতা প্রীতেশের মনে গভীর ছাপ ফেলেছে। নিজের বক্তব্যেই তিনি জানিয়েছেন, ওই সময় তাঁকে ভয়, অনিশ্চয়তা এবং একাকীত্বের সঙ্গে লড়তে হয়েছে। আর সেই কারণেই মুক্তির পর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন পরিবার, কাছের মানুষ এবং সঙ্গীতমহলের ভালোবাসাকে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


