Landlord-Tenant Case:ভাড়াটিয়ার সঙ্গে ৪০ বছরের বিরোধের পর মালিকের ‘প্রকৃত প্রয়োজন’-এর পক্ষে ঐতিহাসিক রায় সুপ্রিম কোর্টের
Landlord-Tenant Case: সুপ্রিম কোর্ট ২০২৩ সালের একটি রায়ের ওপর ভিত্তি করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওই মামলা ৩৮ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিচারাধীন ছিল।
Landlord-Tenant Case: ভাড়াটের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী আইনি লড়াই চললেই যে বাড়ির মালিকের সম্পত্তি ফিরে পাওয়ার বৈধ প্রয়োজন শেষ হয়ে যায়, এমনটি মনে করার কোনও কারণ নেই। এমনটাই স্পষ্ট জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট। উত্তরপ্রদেশের পিলিভিটের প্রায় চার দশক পুরনো এক বাড়িওয়ালা-ভাড়াটে বিরোধ মামলায় শীর্ষ আদালত এই রায় দিয়েছে। বিচারপতি সতীশ চন্দ্র শর্মা এবং বিচারপতি নোংমেইকাপাম কোতিশ্বর সিং-এর বেঞ্চ এলাহাবাদ হাইকোর্টের ২০২৫ সালের মার্চ মাসে দেওয়া একটি রায় খারিজ করে দিয়েছে এবং নিম্ন আদালতের দেওয়া ভাড়াটে উচ্ছেদের নির্দেশ পুনর্বহাল করেছে।

৬ অক্টোবর দেওয়া আদেশে বেঞ্চ বলেছে, 'সময়ের অতিবাহিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রাথমিক বাধাগুলো দূর হয়ে যায়, তবে দীর্ঘস্থায়ী আইনি লড়াই বাড়ির মালিকের বৈধ প্রয়োজনকে নস্যাৎ করতে পারে না।' মামলার সূত্রপাত ১৯৮৪ সালে। ওই বছরের জুলাই মাসে সম্পত্তিটির মালিকানা পান বাড়ির মালিক। এরপর উত্তরপ্রদেশের ১৯৭২ সালের আরবান বিল্ডিংস (রেগুলেশন অফ লেটিং, রেন্ট অ্যান্ড ইভিকশন) আইনে ভাড়াটেকে নোটিস পাঠান তিনি। তিন বছরের মধ্যে বাড়ি খালি করার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু ভাড়াটে বাড়ি ছাড়েননি। ১৯৮৮ সালেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সামনে বাড়ি ছাড়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। এরপর ২০১০ সালে বাড়ি খালি করার জন্য আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেন মালিক। তিনি জানান, তাঁর ছেলে, যিনি একজন নিউরোসার্জন, তাঁর জন্য একটি মেডিকেল ক্লিনিক খোলার উদ্দেশ্যে এই জায়গাটি তাঁর প্রয়োজন। ২০১২ সালের ডিসেম্বর মাসে কর্তৃপক্ষ বাড়ির মালিকের এই প্রয়োজনকে স্বীকার করে উচ্ছেদের নির্দেশ দেয়। আপিল কর্তৃপক্ষও সেই নির্দেশ বহাল রাখে।
ভাড়াটিয়ার আবেদনের প্রেক্ষিতে, ২০২৫ সালের মার্চ মাসে এলাহাবাদ হাইকোর্ট এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে এবং উচ্ছেদের নির্দেশ খারিজ করে দেয়। এরপর বাড়ির মালিক সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। বেঞ্চ উল্লেখ করেছে যে, বাড়ির মালিক ১৯৮৪ সালে সম্পত্তিটি অর্জন করেন এবং ১৯৮৬ সালে একটি দেওয়ানি মামলা দায়ের করেন। তখন থেকেই ভাড়াটে সম্পত্তিটি দখল করে আছেন। আদালত জানিয়েছে, গত ৪০ বছর ধরে সম্পত্তিটি খালি না হওয়ায় বাড়ির মালিকের ছেলে সেখানে তার ক্লিনিক তৈরি করতে পারেননি। সুপ্রিম কোর্ট ২০২৩ সালের একটি রায়ের ওপর ভিত্তি করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওই মামলা ৩৮ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিচারাধীন ছিল। সেই মামলায় আদালত বলেছিল যে, এত দীর্ঘ বিলম্বের পর বাড়ির মালিককে নতুন করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করতে বলাটা 'ন্যায়বিচারের পরিপন্থী হবে।' বেঞ্চ বলেছে, 'হাইকোর্টের বিতর্কিত আদেশটি বাতিল করে নিম্ন আদালতের উচ্ছেদ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ও আদেশগুলো পুনর্বহাল করাই হবে ন্যায়বিচারের স্বার্থে সঠিক পদক্ষেপ।'
আদালত ভাড়াটেকে নির্দেশ দিয়েছে যে, এই আদেশের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে সম্পত্তি খালি করে বাড়ির মালিকের কাছে শান্তিপূর্ণভাবে হস্তান্তর করতে হবে। এছাড়া, ভাড়াটে-কে এই সময়ের মধ্যেই বকেয়া ভাড়ার পুরো অর্থ এবং বর্তমানে পাওনা ভাড়ার টাকাও পরিশোধ করতে হবে। চার দশকের এক ক্লান্তিকর লড়াইয়ের পর অবশেষে নিজের সম্পত্তিতে ফিরতে চলেছেন প্রবীণ বাড়িওয়ালা।
E-Paper

