Investment fraud case: ৮৮ কোটি টাকার জালিয়াতিতে মাস্টারমাইন্ডের স্ত্রী'কে আনা হচ্ছে ভারতে, কে এই বিশাখা?
Investment fraud case: স্বামী অবিনাশ রাঠোরের সঙ্গে যৌথভাবে ৮৮ কোটি টাকার বিনিয়োগ স্ক্যামে মূল অভিযুক্ত বিশাখা রাঠোর।
Investment fraud case: ৮৮ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রতারণা মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত বিশাখা রাঠোরকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি থেকে সফলভাবে ভারতে ফেরত নিয়ে এল সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই)। বিদেশ মন্ত্রক (এমইএ) এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের (এমএইচএ) যৌথ সমন্বয়ে অত্যন্ত সফলভাবে এই প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।

ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সুপারিশে ‘ইন্টারপোল’-এর পক্ষ থেকে বিশাখা রাঠোরের বিরুদ্ধে আগেই একটি ‘রেড কর্নার নোটিশ’ জারি করা হয়েছিল।
কী এই ৮৮ কোটির প্রতারণা মামলা?
স্বামী অবিনাশ রাঠোরের সঙ্গে যৌথভাবে ৮৮ কোটি টাকার বিনিয়োগ স্ক্যামে মূল অভিযুক্ত বিশাখা। তদন্তে নেমে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, মোটা অংকের নির্দিষ্ট মাসিক আয়ের লোভ দেখিয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বিভিন্ন স্কিমে টাকা খাটাতে বাধ্য করেছিলেন তাঁরা। পরবর্তীতে বিনিয়োগকারীদের সেই অর্থ অন্যায়ভাবে আত্মসাৎ করে একাধিক ব্যাঙ্ক ও ডিমেট অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বিদেশে পাচার ও ডাইভার্ট করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে।
কীভাবে গ্রেফতার হলেন বিশাখা রাঠোর?
প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার পর গত ৩ আগস্ট বিশাখা পুণেতে এসে পৌঁছান। সেখানে পৌঁছানো মাত্রই মহারাষ্ট্র পুলিশের একটি বিশেষ দল তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। বর্তমানে এই ঘটনার আন্তর্জাতিক সংযোগ খতিয়ে দেখতে জোরকদমে তদন্ত চলছে।
কীভাবে ধরা পড়েন অবিনাশ রাঠোর?
চলতি বছর ৪ জুন ইন্টারপোল অবিনাশ রাঠোর এবং তাঁর স্ত্রী বিশাখা রাঠোর-উভয়ের বিরুদ্ধেই ‘রেড কর্নার নোটিশ’ জারি করে। সেই নোটিশের ওপর ভিত্তি করে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি কর্তৃপক্ষ দুবাই থেকে অবিনাশকে আটক করে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, গত ২৩ জুলাই অবিনাশ রাঠোরকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতে প্রত্যর্পণ করা হয়। মুম্বই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পা রাখতেই পুণে পুলিশের ইকোনমিক অফেন্সেস উইং তাঁকে গ্রেফতার করে। এরপর তাঁকে পুণেতে নিয়ে গিয়ে আদালতে পেশ করা হলে বিচারক ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। তদন্তকারীদের দাবি, ৮৮ কোটি টাকার এই বিশাল বিনিয়োগ প্রতারণা মামলার 'মাস্টারমাইন্ড' হলেন এই অবিনাশ রাঠোর।
ভারতে ইন্টারপোলের 'ন্যাশনাল সেন্ট্রাল বিউরো' হিসেবে কাজ করে সিবিআই। নিজেদের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘ভারতপোল’-এর মাধ্যমে দেশের সমস্ত আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে সমন্বয় রক্ষা করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক স্তরে ইন্টারপোলের বিভিন্ন চ্যানেলের সাহায্যে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করে তারা। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, ভারতীয় আইন ফাঁকি দিয়ে বিদেশে গা ঢাকা দেওয়া অপরাধীদের বিচারব্যবস্থার মুখোমুখি করতে বিশেষ অভিযান শুরু করা হয়েছে। এই জোরদার অভিযানের অংশ হিসেবে ২০১৯ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুলাই মাসের মধ্যে ৩৬টি দেশ থেকে সফলভাবে ২৭৪ জন পলাতক ও মোস্ট ওয়ান্টেড অপরাধীকে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
E-Paper

