ধর্মেন্দ্র প্রধানের পর এবার ‘সরকার বদল’-এর হুঁশিয়ারি সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের
নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে ছাত্রদের আন্দোলনের মুখ হয়ে ওঠা সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবার আরও কড়া রাজনৈতিক বার্তা দিলেন। তাঁর দাবি, সরকার যদি ছাত্রদের প্রতি বর্তমান মনোভাব না বদলায়, তবে ভবিষ্যতে শুধু কোনও মন্ত্রীর পদত্যাগ নয়, ছাত্ররাই সরকার বদলের ক্ষমতা রাখে।
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে টানা ৩৬ দিনের আন্দোলনের পর নিজেদের সাফল্যে উজ্জীবিত ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে ছাত্রদের আন্দোলনের মুখ হয়ে ওঠা সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবার আরও কড়া রাজনৈতিক বার্তা দিলেন। তাঁর দাবি, সরকার যদি ছাত্রদের প্রতি বর্তমান মনোভাব না বদলায়, তবে ভবিষ্যতে শুধু কোনও মন্ত্রীর পদত্যাগ নয়, ছাত্ররাই সরকার বদলের ক্ষমতা রাখে।

আন্দোলন শেষে নিজের মহারাষ্ট্রের সম্ভাজীনগরের বাড়িতে ফিরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দীপকে অভিযোগ করেন, আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্রদের বিভিন্ন রাজ্যে পুলিশ হয়রানি করছে। তাঁর দাবি, ছাত্রদের বাড়িতে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে, হেফাজত ও গ্রেফতারের ভয় দেখানো হচ্ছে। তিনি বলেন, “ওরা কোনও সন্ত্রাসবাদী নয়। ওরাই দেশের ভবিষ্যৎ। যদি সরকার এভাবেই দেশের ভবিষ্যৎকে ভয় দেখাতে থাকে, তবে আজ আমরা শুধু ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ আদায় করেছি, আগামী দিনে ছাত্ররাই সরকার বদলে দিতে পারে।”
অভিজিৎ দীপকের দাবি, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাত্র আন্দোলনের একটি বড় সাফল্য হলেও তাতেই আন্দোলনের লক্ষ্য শেষ হয়ে যায়নি। তাঁর কথায়, ছাত্রদের ক্ষোভ শুধু ধর্মেন্দ্র প্রধানকে ঘিরে ছিল না, বরং গোটা সরকারের শিক্ষানীতির বিরুদ্ধেই ছিল। তিনি বলেন, “সরকার এমন পরিস্থিতি তৈরি করছে, যাতে আমাদের আবার আন্দোলনে বসতে হয়। ছাত্রদের সমস্যার সামনে ফেলবেন না। এটা ভাববেন না যে ছাত্ররা শান্ত হয়ে গিয়েছে। তাদের ক্ষোভ এখনও রয়েছে।”
আসলে দিল্লি সরকারের সাম্প্রতিক ঘোষণাকে কেন্দ্র করেই নতুন করে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে সিজেপির মধ্যে। সরকার জানিয়েছে, আন্দোলনে অংশ নেওয়া সাধারণ ছাত্রদের বিরুদ্ধে কোনও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। তবে যাঁদের অপরাধমূলক অতীত রয়েছে অথবা আন্দোলনের সময় হিংসাত্মক ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই শর্তেই আপত্তি জানিয়েছে সিজেপি। সংগঠনের দাবি, আন্দোলনে দায়ের হওয়া সমস্ত এফআইআর নিঃশর্তভাবে প্রত্যাহার করতে হবে এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়া কোনও ছাত্র বা সমর্থকের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে কোনও আইনি পদক্ষেপ করা যাবে না। সংগঠনের আশঙ্কা, ‘অপরাধমূলক অতীত’ বা ‘হিংসার অভিযোগ’-এর মতো শর্তকে সামনে রেখে পুলিশ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে পারে।
অন্যদিকে দিল্লি সরকার জানিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের ২৮ জুলাইয়ের নির্দেশ মেনেই এই অবস্থান নেওয়া হয়েছে। আদালতও নির্দেশ দিয়েছিল, যাঁদের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধমূলক অভিযোগ নেই, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও জোরপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। সেই নির্দেশের ভিত্তিতেই সরকার পদক্ষেপ করছে বলে দাবি প্রশাসনের।
তবে সিজেপি এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয়। সংগঠন স্পষ্ট জানিয়েছে, ছাত্রদের বিরুদ্ধে পুলিশি নজরদারি বা আইনি পদক্ষেপ বন্ধ না হলে তারা ফের বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটতে পারে। ফলে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পরও ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ যে পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি, অভিজিৎ দীপকের সাম্প্রতিক মন্তব্যে সেই ইঙ্গিতই আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


