Mahadev Betting App Case: মহাদেব বেটিং অ্যাপের মাথা চন্দ্রকরকে দেশে ফেরাল ভারত, এবার নিশানায় দুবাইয়ে থাকা রবি উপ্পল
প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার এই বেটিং কেলেঙ্কারিতে উপ্পল-সহ মোট ১১৬ জনের নাম রয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) তালিকায়। তদন্তকারীদের দাবি, চন্দ্রকর মূলত অ্যাপের প্রচার এবং পরিচালনার দিকটি দেখতেন।
মহাদেব অনলাইন বেটিং অ্যাপের বিরুদ্ধে তদন্তে বড় সাফল্য পেল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি। ওমান থেকে এই চক্রের অন্যতম মূল অভিযুক্ত সৌরভ চন্দ্রকরকে ভারতে ফিরিয়ে আনার পর এ বার নজর দুবাইয়ে থাকা আর এক প্রতিষ্ঠাতা রবি উপ্পলের দিকে। তাঁকেও দেশে ফেরাতে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছে ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি। কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের আশা, চন্দ্রকর এবং উপ্পল দু’জনেই ভারতে থাকলে এই বেটিং চক্রের সঙ্গে যুক্ত আরও অনেকের নাম সামনে আসবে।

মহাদেব অনলাইন বুক নামে বেটিং অ্যাপের অন্যতম মালিক উপ্পল বর্তমানে দুবাইয়ে রয়েছেন বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। ২০১৯ সালে ভারত ছেড়ে দুবাইয়ে চলে গিয়েছিলেন ছত্তীসগঢ়ের ভিলাইয়ের বাসিন্দা উপ্পল। পরে গত বছর কোনও এক সময়ে তিনি দুবাই ছেড়ে অন্য দেশে চলে যান বলে খবর পাওয়া গিয়েছিল। তদন্তকারীদের কাছে তথ্য ছিল, ভানুয়াতুতে থাকতে পারেন তিনি। ওই দেশের পাসপোর্টও রয়েছে তাঁর কাছে। তবে সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ফের দুবাইয়ে ফিরে এসেছেন উপ্পল।
প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার এই বেটিং কেলেঙ্কারিতে উপ্পল-সহ মোট ১১৬ জনের নাম রয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) তালিকায়। তদন্তকারীদের দাবি, চন্দ্রকর মূলত অ্যাপের প্রচার এবং পরিচালনার দিকটি দেখতেন। অন্য দিকে, উপ্পলের দায়িত্বে ছিল বিপুল অঙ্কের হাওয়ালা লেনদেন। ছত্তীসগঢ়ের রাজনীতিকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার কাজও করতেন তিনি বলে অভিযোগ। ইডির এক আধিকারিকের দাবি, উপ্পলকে দেশে ফেরানো গেলে এই চক্রের আর্থিক লেনদেন এবং রাজনৈতিক যোগসূত্র সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
উপ্পলের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড কর্নার নোটিস জারি হয়েছিল ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে। তার দু’মাস পর দুবাইয়ে তাঁকে আটক করা হয়। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে তাঁকে ভারতে ফেরানোর জন্য সংযুক্ত আরব আমিরশাহির কাছে আবেদন জানায় ইডি। কিন্তু ৪৫ দিনের মধ্যেই তিনি মুক্তি পেয়ে যান। গত বছরের নভেম্বর মাসে খবর পাওয়া যায়, উপ্পল দুবাই ছেড়ে অজ্ঞাত কোনও স্থানে চলে গিয়েছেন। এ বার তাঁর ফের দুবাইয়ে ফেরার তথ্য হাতে আসায় নতুন করে তৎপর হয়েছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি।
এ দিকে, রবিবার ওমান থেকে সৌরভ চন্দ্রকরকে দেশে ফিরিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। ইন্টারপোলের রেড কর্নার নোটিসের ভিত্তিতে জুন মাসের শেষ দিকে ওমানের রাজধানী মাসকটে তাঁকে আটক করেছিল সে দেশের পুলিশ। সিবিআই জানিয়েছে, বিশেষ তদন্তকারী দল ওমানে গিয়ে চন্দ্রকরকে ভারতে নিয়ে এসেছে। সোমবার তাঁকে রায়পুরের বিশেষ আদালতে পেশ করার কথা। ইডিও শীঘ্রই তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাতে পারে।
মহাদেব অ্যাপ নিষিদ্ধ করার পরেও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বেআইনি বেটিংয়ের কাজ চলছে বলে তদন্তকারীদের দাবি। এই ঘটনায় ছত্তীসগঢ়ের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেলের নামও জড়িয়েছে। ইডির অভিযোগ, অ্যাপের প্রচারকেরা রাজনীতিক এবং আমলাদের ঘুষ দিয়েছিলেন। তবে বাঘেল বার বার তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এখনও পর্যন্ত ছ’টি চার্জশিট জমা দিয়েছে ইডি। উপ্পল ও চন্দ্রকরকে জেরা করে এই চক্রের আর্থিক লেনদেন, রাজনৈতিক যোগাযোগ এবং অন্যান্য সুবিধাভোগীদের সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যায় কি না, এখন সেটাই দেখার।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


