Agni 4 Missile Launch: অগ্নি ৪ ব্যালিস্টিক মিসাইলের সফল লঞ্চ, বঙ্গোপসাগর থেকে ওঠা গর্জনে ঘুম উড়তে পারে চিনের
অগ্নি-৪ একটি দুই ধাপের (টু-স্টেজ) ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। এর পাল্লা প্রায় ৪,০০০ কিলোমিটার এবং এটি পারমাণবিক ও প্রচলিত—উভয় ধরনের ওয়ারহেড বহনে সক্ষম। গোটা পাকিস্তান এবং চিনের একটা বড় অংশ এই মিসাইলের রেঞ্জে আসে।
ভারতের কৌশলগত প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য যোগ হল। বৃহস্পতিবার ওড়িশার চাঁদিপুরে অবস্থিত ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জ (আইটিআর) থেকে সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হল মধ্য-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (MRBM) অগ্নি-৪। ভারতের স্ট্র্যাটেজিক ফোর্সেস কমান্ডের (SFC) তত্ত্বাবধানে এই পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করা হয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, এই পরীক্ষায় ক্ষেপণাস্ত্রের সমস্ত অপারেশনাল এবং প্রযুক্তিগত মানদণ্ড সফলভাবে যাচাই করা হয়েছে।

অগ্নি-৪ একটি দুই ধাপের (টু-স্টেজ) ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। এর পাল্লা প্রায় ৪,০০০ কিলোমিটার এবং এটি পারমাণবিক ও প্রচলিত—উভয় ধরনের ওয়ারহেড বহনে সক্ষম। গোটা পাকিস্তান এবং চিনের একটা বড় অংশ এই মিসাইলের রেঞ্জে আসে। ভারতের কৌশলগত প্রতিরোধ ক্ষমতা (Strategic Deterrence) আরও শক্তিশালী করতেই এই ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা হয়েছে।
অগ্নি-৪ প্রকল্পের সূচনা হয় ২০০৭ সালে। তখন প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO) প্রায় ৫,০০০ কিলোমিটার পাল্লার একটি নতুন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কাজ শুরু করে। পরে ২০১১ সালে হায়দরাবাদের অ্যাডভান্সড মিসাইল ল্যাবরেটরিতে তৈরি উন্নত সংস্করণের অগ্নি-২ প্রাইম-এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় অগ্নি-৪। নতুন সংস্করণে আরও শক্তিশালী প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের মোটর, উন্নত গাইডেন্স ও ইলেকট্রনিক সিস্টেম এবং আধুনিক থ্রাস্ট ভেক্টর কন্ট্রোল প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়।
২০১০ সালে প্রথম পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের পর থেকে অগ্নি-৪ একাধিকবার সফলভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে। ২০১৪ সালের ২০ জানুয়ারি একটি রোড-মোবাইল লঞ্চার থেকে উৎক্ষেপণের সময় ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ৮৫০ কিলোমিটার উচ্চতায় পৌঁছে ৪,০০০ কিলোমিটার দূরে ভারত মহাসাগরে নির্ধারিত লক্ষ্যে আঘাত হানে। এরপর ২০১৪ সালের ২ ডিসেম্বর ভারতীয় সেনাবাহিনীর স্ট্র্যাটেজিক ফোর্সেস কমান্ড প্রথম ‘ইউজার ট্রায়াল’ সফলভাবে সম্পন্ন করে। পরবর্তীতে ২০১৫, ২০১৭ এবং ২০১৮ সালেও একাধিক সফল পরীক্ষা চালানো হয়।
প্রযুক্তিগত দিক থেকে অগ্নি-৪ ভারতের অন্যতম আধুনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। প্রায় ২০ মিটার দীর্ঘ এবং ১৭ টন ওজনের এই ক্ষেপণাস্ত্র সর্বোচ্চ ১,০০০ কেজি ওজনের ওয়ারহেড বহন করতে পারে। প্রথম ধাপে ব্যবহৃত হয়েছে উচ্চ-শক্তির মারেজিং স্টিল, আর দ্বিতীয় ধাপে রয়েছে কার্বন-ফাইবার কম্পোজিট কাঠামো, যা ক্ষেপণাস্ত্রকে আরও হালকা ও কার্যকর করে তোলে।
অগ্নি-৪-এ অত্যাধুনিক রিং লেজার জাইরোস্কোপ-ভিত্তিক ইনর্শিয়াল নেভিগেশন সিস্টেম, ফ্লেক্সসিল থ্রাস্ট ভেক্টর কন্ট্রোল এবং উন্নত গাইডেন্স প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি, ৪,০০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুর ক্ষেত্রেও এর সার্কুলার এরর প্রোবেবল (CEP) ১০০ মিটারেরও কম, অর্থাৎ অত্যন্ত নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সফল উৎক্ষেপণ শুধু অগ্নি-৪-এর নির্ভরযোগ্যতাই প্রমাণ করেনি, বরং ভারতের কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনীর প্রস্তুতি ও প্রতিরোধ ক্ষমতাকেও আরও শক্তিশালী করেছে। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহে এই সফল পরীক্ষা ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও দেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


