Air Chief Marshal AP Singh: স্বপ্নপূরণ! চার দশক পর প্রশিক্ষকের সঙ্গে 'ইউনিফর্মে শেষ উড়ান' বায়ুসেনা প্রধানের
Air Chief Marshal AP Singh: চলতি মাসের শেষেই অবসর গ্রহণ করবেন এয়ার চিফ মার্শাল এপি সিং। অবসরের মাত্র কয়েক দিন আগে এই স্মরণীয় মুহূর্ত তৈরি হল তাঁর প্রাক্তন প্রশিক্ষক অবসরপ্রাপ্ত উইং কমান্ডার ভি এস কোচ্চারকে পাশে নিয়ে।
Air Chief Marshal AP Singh: চার দশক আগে যে বিমানে প্রথম উড়তে শিখেছিলেন, ইউনিফর্মে শেষ উড়ানটিও সেই বিমানেই সম্পন্ন করলেন ভারতীয় বায়ুসেনাপ্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এপি সিং (Air Chief Marshal AP Singh) । মঙ্গলবার হায়দরাবাদের কাছে দুনডিগুলে এয়ার ফোর্স অ্যাকাডেমিতে (AFA) কিরণ প্রশিক্ষণ বিমানে শেষবারের মতো উড়লেন তিনি। যে বিমান একদিন তাঁকে প্রথম নীল আকাশের দিশা দেখিয়েছিল, দীর্ঘ কর্মজীবনের শেষ প্রান্তে এসে এই উড়ান যেন সম্পূর্ণ করল তাঁর বিমানচালক জীবনের এক আবেগঘন বৃত্ত।

চলতি মাসের শেষের দিকে তাঁর অবসর নেওয়ার কথা রয়েছে। তার আগে প্রশিক্ষণ জীবনের স্মৃতিবিজড়িত কিরণ বিমানে শেষবার আকাশে ওঠা তাঁর কর্মজীবনের এক বিশেষ মুহূর্ত হয়ে থাকল। অবসরের মাত্র কয়েক দিন আগে এই স্মরণীয় মুহূর্ত তৈরি হল তাঁর প্রাক্তন প্রশিক্ষক অবসরপ্রাপ্ত উইং কমান্ডার ভি এস কোচরকে পাশে নিয়ে। প্রায় চার দশক আগে এই দুনডিগুলে এয়ার ফোর্স অ্যাকাডেমিতেই তরুণ ছাত্র এপি সিংকে বিমান ওড়ানোর প্রথম পাঠ শিখিয়েছিলেন ভি এস কোচর। ১৯৮৪ সালের ২০ জানুয়ারি শিক্ষক ভি এস কোচরের সঙ্গে কিরণ বিমানেই জীবনের প্রথম উড়ানের স্মৃতিচারণ করেন এয়ার চিফ মার্শাল। তিনি জানান, মঙ্গলবার জীবনের শেষ উড়ানের সময়েও পাশে পেয়েছেন তাঁর গুরুকে। বিমান মাটি স্পর্শ করার পর শিক্ষকের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। কিরণ বিমান নিয়ে অ্যাকাডেমিতে অবতরণের পর এপি সিংকে ওয়াটার ক্যানন স্যালুট দিয়ে অভ্যর্থনা জানানো হয়।
১৯৮৪ সালে এয়ার ফোর্স অ্যাকাডেমি থেকে পাশ করার সময় এপি সিং ‘সোর্ড অব অনার’ সম্মানও অর্জন করেছিলেন। এর আগে ইউনিফর্মে শেষ উড়ানের আগে গত ১২ অক্টোবর দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি তেজস যুদ্ধবিমানে শেষবারের মতো উড়েছিলেন এপি সিং। রাজস্থানের যোধপুর এয়ার ফোর্স স্টেশনে ‘তরঙ্গ শক্তি’ মহড়ার সময় ওই উড়ান সম্পন্ন করেন তিনি। তবে তেজসে তাঁর শেষ উড়ান ছিল যুদ্ধবিমানে, আর মঙ্গলবার কিরণ বিমানে উড়ানটি ছিল ইউনিফর্মে তাঁর শেষ উড়ান। যে কিরণ বিমানে কর্মজীবনের শুরু, সেই বিমানেই কর্মজীবনের সমাপ্তি—এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে এয়ার চিফ মার্শাল এপি সিং একে 'স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো ঘটনা' বলে অভিহিত করেন। উড়ান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এয়ার চিফ মার্শাল বলেন, 'আমি একই বিমানে আমার দীর্ঘ উড়ান-যাত্রা শুরু করেছিলাম। আমার মনে হয়, 'এটি সত্যিই একটি স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো। এই বিমানটিতেই আমার যাত্রা শুরু হয়েছিল। আমার বিশ্বাস, আমিই সম্ভবত একমাত্র চিফ যিনি অবসর নিচ্ছেন, অথচ তাঁর ওড়ানো প্রথম বিমানটি এখনও পরিষেবাতে রয়েছে। আমি আমার প্রশিক্ষক, উইং কমান্ডার কোচারের কাছে কৃতজ্ঞ।, যিনি এই জায়গাতেই আমাকে প্রথম ওড়ার পাঠ দিয়েছিলেন। আমি শুধু জীবনের এই বৃত্তটিকে সম্পূর্ণ করতে চেয়েছিলাম।'
অন্যদিকে, নিজের কৃতি ছাত্রকে 'জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ ছাত্র' এবং 'সেরা বায়ুসেনা প্রধান' হিসেবে বর্ণনা করেছেন ৭৩ বছর বয়সি অবসরপ্রাপ্ত উইং কমান্ডার ভি এস কোচ্চার। তিনি আবেগাপ্লুত কণ্ঠে জানান, চার দশক পর নিজের প্রিয় ছাত্রের সঙ্গে আরও একবার ককপিটে ওড়ার এই সুযোগ তাঁর কাছেও এক অনন্য স্বপ্নপূরণের মতো।
E-Paper

