Air India Bomb Threat Emergency Landing: বোমাতঙ্কে আকাশপথ বদল, জয়পুরে জরুরি অবতরণ এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানের

গন্তব্যের পথে না এগিয়ে বিমান ঘুরিয়ে নিয়ে যাওয়া হল জয়পুরের দিকে। সেখানে জরুরি অবতরণ করল এয়ার ইন্ডিয়ার আন্তর্জাতিক উড়ান AI-2030। বুধবার সকালে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়ায়। বিমানটি নিরাপদে মাটিতে নামার পরেই তৎপর হয়ে ওঠেন নিরাপত্তারক্ষীরা।

Published on: Oct 14, 2026, 11:19:16 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

মাঝ আকাশে আচমকাই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ। বিমান ছিনতাইয়ের সতর্কবার্তা, তার সঙ্গে বোমা থাকার আশঙ্কা। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে আর ঝুঁকি নেননি পাইলট। গন্তব্যের পথে না এগিয়ে বিমান ঘুরিয়ে নিয়ে যাওয়া হল জয়পুরের দিকে। সেখানে জরুরি অবতরণ করল এয়ার ইন্ডিয়ার আন্তর্জাতিক উড়ান AI-2030। বুধবার সকালে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়ায়। বিমানটি নিরাপদে মাটিতে নামার পরেই তৎপর হয়ে ওঠেন নিরাপত্তারক্ষীরা। অন্য বিমান থেকে আলাদা করে নির্দিষ্ট জায়গায় রাখা হয় সেটিকে। শুরু হয় তল্লাশি। তবে বিমানে সত্যিই কোনও বিস্ফোরক ছিল কি না, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি।

বিমান ছিনতাইয়ের সতর্কবার্তা, তার সঙ্গে বোমা থাকার আশঙ্কার জেরে জরুরি অবতরণ এয়ার ইন্ডিয়ার উড়ানের (HT_PRINT)
বিমান ছিনতাইয়ের সতর্কবার্তা, তার সঙ্গে বোমা থাকার আশঙ্কার জেরে জরুরি অবতরণ এয়ার ইন্ডিয়ার উড়ানের (HT_PRINT)

কী ঘটেছিল মাঝ আকাশে?

টিভি৯ বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার ১৪ অক্টোবর এয়ার ইন্ডিয়ার আন্তর্জাতিক উড়ান AI-2030-কে ঘিরে বোমাতঙ্ক তৈরি হয়। বিমানে বোমা থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করেন পাইলট। পাশাপাশি সামনে আসে হাইজ্যাক অ্যালার্টের বিষয়টিও। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে বিমানটিকে জয়পুর বিমানবন্দরে নামানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিমানের যাত্রীদের মধ্যে প্রথমে যাতে আতঙ্ক ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য বিষয়টি আড়ালে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। কিন্তু বিমান যখন নির্ধারিত যাত্রাপথ থেকে সরে যায়, তখন অনেক যাত্রীর মধ্যেই উদ্বেগ তৈরি হয়। কেন বিমান ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। নিরাপত্তাজনিত কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বুঝতে পেরে পরিস্থিতি নিয়ে উৎকণ্ঠা আরও বাড়ে। শেষ পর্যন্ত জয়পুর বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে বিমানটি। বড় কোনও দুর্ঘটনা ঘটেনি বলেই প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে।

বিমানবন্দরে কড়া নিরাপত্তা

বিমানটি মাটিতে নামার পরেই শুরু হয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলির তৎপরতা। সাধারণ বিমান চলাচল থেকে আলাদা করে নির্দিষ্ট জায়গায়, অর্থাৎ আইসোলেশন বে-তে নিয়ে যাওয়া হয় বিমানটিকে। সেখানে পৌঁছন নিরাপত্তাকর্মীরা। নির্ধারিত সুরক্ষা বিধি মেনে বিমানের ভিতরে তল্লাশি শুরু হয়। বোমা থাকার আশঙ্কা কতটা বাস্তব, তা খতিয়ে দেখছেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকেরা।

বিমান ছিনতাইয়ের সতর্কবার্তা এবং বোমাতঙ্কের মতো ঘটনায় কোনও রকম ঝুঁকি নিতে চায় না বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। কারণ, সতর্কবার্তা ভুয়ো হলেও প্রাথমিক ভাবে তাকে গুরুত্ব দিয়েই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে হয়। বিমানের ভিতরে যাত্রী, কর্মী এবং বিমানবন্দরের অন্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তখন প্রধান লক্ষ্য হয়ে ওঠে।

তবে এই ঘটনায় ঠিক কী ধরনের সতর্কবার্তা পাওয়া গিয়েছিল, সেটি কোথা থেকে এসেছিল, কিংবা বিমানের ভিতরে কোনও সন্দেহজনক বস্তু পাওয়া গিয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশিত হয়নি।

উত্তর অধরা, তদন্তে নিরাপত্তা সংস্থা

ঘটনার পরে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। বিমানটিতে বোমা থাকার আশঙ্কা কী ভাবে তৈরি হল? হাইজ্যাক অ্যালার্টের সঙ্গে কি ওই আশঙ্কার কোনও যোগ ছিল? নাকি কোনও নির্দিষ্ট বার্তার ভিত্তিতেই পাইলটকে জরুরি অবতরণের সিদ্ধান্ত নিতে হয়? এই প্রশ্নগুলির উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়।

উল্লেখ্য, বোমাতঙ্ক বা বিমান ছিনতাইয়ের সতর্কবার্তা পাওয়া গেলে বিমানকে নিরাপদ বিমানবন্দরে নামানো এবং আলাদা জায়গায় রেখে তল্লাশি চালানো আন্তর্জাতিক বিমান নিরাপত্তার প্রচলিত প্রক্রিয়ার অংশ। এ ক্ষেত্রেও সেই পথেই এগিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকেরা বলে প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানা যাচ্ছে।

সব মিলিয়ে, পাইলটের সতর্ক সিদ্ধান্তে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানটি নিরাপদে জয়পুরে অবতরণ করলেও ঘটনার পিছনের কারণ এখনও অজানা। তল্লাশি ও তদন্তের পরেই জানা যাবে, এটি সত্যিকারের নিরাপত্তা-ঝুঁকি ছিল, নাকি ভুয়ো সতর্কবার্তার জেরে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More