আকাশছোঁয়া বিমানের টিকিট! যুদ্ধের আঁচে ‘ফুয়েল সারচার্জ’ বৃদ্ধি Air India-র, কোন রুটে বাড়তি কত খরচ?

বিদেশের বিমান ভাড়ায় বড়সড়ো ধাক্কা খেতে চলেছেন যাত্রীরা। আন্তর্জাতিক উড়ানের ক্ষেত্রে আরও বেশি হারে ফুয়েল সারচার্জ বাড়ানো হয়েছে।

Published on: Apr 07, 2026 9:03 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

পশ্চিম এশিয়ায় সংঘর্ষের আঁচ এবার সরাসরি সাধারণ মানুষের পকেটে। ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের জোগানে টান পড়ায় লাফিয়ে বাড়ছে বিমান জ্বালানির দাম। এই পরিস্থিতিতে অন্তর্দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক- উভয় ক্ষেত্রেই টিকিটের ওপর অতিরিক্ত ‘ফুয়েল সারচার্জ’ বৃদ্ধি করল এয়ার ইন্ডিয়া। যার জেরে ফের বিমানের ভাড়া বাড়তে চলেছে।

যুদ্ধের আঁচে ‘ফুয়েল সারচার্জ’ বৃদ্ধি Air India-র (REUTERS)
যুদ্ধের আঁচে ‘ফুয়েল সারচার্জ’ বৃদ্ধি Air India-র (REUTERS)

বিমান সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, এই সংশোধিত সারচার্জ ৮ এপ্রিল (বুধবার) সকাল ৯টা ১ মিনিট (ভারতীয় সময়) থেকে বেশিরভাগ রুটে কার্যকর হবে। এর আওতায় থাকবে এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস-এর উড়ানও। পাশাপাশি, গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক রুটে এই সংশোধিত সারচার্জ ১০ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে।

দেশীয় উড়ানে দূরত্ব ভিত্তিক কাঠামো

দেশীয় উড়ানের ক্ষেত্রে এতদিনের ফ্ল্যাট রেট সারচার্জ মডেল থেকে সরে এসে দূরত্ব ভিত্তিক কাঠামো চালু করছে এয়ার ইন্ডিয়া। সরকারের তরফে এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল (এটিএফ)-এর দাম বৃদ্ধির ওপর ২৫ শতাংশ সীমা নির্ধারণের সিদ্ধান্তের সঙ্গেও এই পরিবর্তন সঙ্গতিপূর্ণ। যাত্রীদের প্রতি সেক্টর (একটি যাত্রা) হিসেবে ৫০০ কিমি পর্যন্ত অতিরিক্ত ২৯৯ টাকা গুনতে হবে। ১০০০ কিমি পর্যন্ত ৩৯৯ টাকা, ১০০১-১৫০০ কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত যাত্রীকে অতিরিক্ত ৫৪৯ টাকা দিতে হবে, ১৫০১-২০০০ কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত যাত্রীকে অতিরিক্ত ৭৪৯ টাকা দিতে হবে এবং ২০০০ কিলোমিটার দূরত্বের বেশি হলে যাত্রীকে অতিরিক্ত ৮৯৯ টাকা দিতে হবে। কেউ যদি কানেক্টিং ফ্লাইট (যেমন কলকাতা থেকে দিল্লি হয়ে মুম্বই) বুক করেন, তবে তাঁকে প্রতিটি সেক্টরের জন্য আলাদা করে এই মাশুল দিতে হবে।

আন্তর্জাতিক রুটে পকেটে টান

বিদেশের বিমান ভাড়ায় বড়সড়ো ধাক্কা খেতে চলেছেন যাত্রীরা। আন্তর্জাতিক উড়ানের ক্ষেত্রে আরও বেশি হারে ফুয়েল সারচার্জ বাড়ানো হয়েছে। অঞ্চলভেদে এই চার্জের তারতম্য ঘটবে। এর পেছনে কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে বিশ্ববাজারে জেট ফুয়েলের দামের তীব্র বৃদ্ধি। সার্ক গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলোর জন্য এটি ২৪ ডলার থেকে শুরু হয়ে উত্তর আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ার রুটের জন্য ২৮০ ডলার পর্যন্ত যায়। অন্যান্য অঞ্চলের জন্য ফি হবে পশ্চিম এশিয়ার জন্য ৫০ ডলার, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু অংশের জন্য ১০০ ডলার, সিঙ্গাপুরের জন্য ৬০ ডলার, আফ্রিকার জন্য ১৩০ ডলার এবং ইউরোপের (ব্রিটেন সহ) জন্য ২০৫ ডলার। এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, এই সারচার্জগুলি জ্বালানি খরচের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধিকে সম্পূর্ণরূপে পূরণ করে না। তারা এখনও এই খরচের একটি অংশ বহন করছে।

কেন এই মূল্যবৃদ্ধি?

ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইএটিএ)-এর পরিসংখ্যান বলছে, গত এক মাসেই জেট ফুয়েলের গড় দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষে যা ছিল ব্যারেল প্রতি ৯৯.৪০ ডলার, মার্চের শেষে তা পৌঁছেছে ১৯৫.১৯ ডলারে। পশ্চিম এশিয়া থেকে তেল আমদানি ধাক্কা খাওয়ায় উড়ান চালানোর খরচ বহুগুণ বেড়ে যাওয়াতেই এই সিদ্ধান্ত।