Ajit Doval China Visit: নজরে সীমান্ত সুরক্ষা! চিনা ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক অজিত ডোভালের

Ajit Doval China Visit: সোমবার চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র লিন জিয়ান জানিয়েছিলেন, দুই দেশের নেতাদের মধ্যে হওয়া ঐকমত্যের ভিত্তিতে ভারত ও চিন সীমান্ত সমস্যা নিয়ে 'গভীর যোগাযোগ' অব্যাহত রাখবে।

Published on: Aug 25, 2026, 12:50:56 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Ajit Doval China Visit: চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র সঙ্গে ভারত-চিন (India-China) সীমান্ত সমস্যা নিয়ে ‘স্পেশাল রিপ্রেজেন্টেটিভ’ বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে সে দেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেং-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল (Ajit Doval)।

চিনা ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক অজিত ডোভালের (@EOIBeijing X)
চিনা ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক অজিত ডোভালের (@EOIBeijing X)

ভারত-চিন সীমান্ত প্রশ্নে ভারতের বিশেষ প্রতিনিধি অজিত ডোভাল সোমবার চিনের বিদেশমন্ত্রী এবং কমিউনিস্ট পার্টি অব চায়নার পলিটব্যুরোর সদস্য ওয়াং ই-র আমন্ত্রণে দু'দিনের সফরে বেজিং পৌঁছন। চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য ভারত সফরের আগে ডোভালের এই বেজিং সফর বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতে ব্রিকস সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সেই সম্মেলনে যোগ দিতে চিনের প্রেসিডেন্ট ভারতে আসতে পারেন। যদিও এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি বেজিং বা নয়া দিল্লির তরফে।

২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের পর থেকেই আলোচনার জন্য নিয়মিত বৈঠক করে আসছে দুই দেশ। তা আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে অজিত ডোভালের এই সফরে। জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার ভারত-চিন সীমান্ত প্রশ্নে বিশেষ প্রতিনিধিদের ২৫তম দফার বৈঠক হওয়ার কথা। এই বৈঠকে চিনের বিশেষ প্রতিনিধি ওয়াং ই-র সঙ্গে অজিত ডোভাল সীমান্ত সমস্যা নিয়ে আলোচনা করবেন। তার আগে চিনা ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি।

ভারত-চিন সীমান্ত ইস্যুতে আলোচনা

বেজিংয়ে ভারতীয় দূতাবাস এক্স-এ পোস্ট করে জানিয়েছে, ২৫ আগস্ট ভারত-চিন সীমান্ত প্রশ্নে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও বিশেষ প্রতিনিধি অজিত ডোভাল চিনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২৫তম দফার বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠকের আগে ডোভাল ও হান ঝেং সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতাবস্থা আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি দুই দেশের নেতাদের মধ্যে হওয়া ঐকমত্য অনুযায়ী অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও বহুপাক্ষিক ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও উন্নত করার বিষয়ে আলোচনা করেন।

এর আগে সোমবার চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র লিন জিয়ান জানিয়েছিলেন, দুই দেশের নেতাদের মধ্যে হওয়া ঐকমত্যের ভিত্তিতে ভারত ও চিন সীমান্ত সমস্যা নিয়ে 'গভীর যোগাযোগ' অব্যাহত রাখবে। তিনি বলেন, ভারত-চিন সীমান্ত প্রশ্নে বিশেষ প্রতিনিধিদের বৈঠক দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত নিয়ে আলোচনার প্রধান মাধ্যম এবং পারস্পরিক উদ্বেগের বিষয়গুলিতে যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। গত আগস্টে দুই দেশ সীমান্ত প্রশ্নে বিশেষ প্রতিনিধিদের ২৪তম বৈঠক সফলভাবে আয়োজন করেছিল এবং সেখানে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে খোলামেলা ও গভীর মতবিনিময়ের পাশাপাশি একাধিক বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছনো হয়েছিল। লিন জিয়ান আরও জানান, এবারের বৈঠকে দুই দেশের নেতাদের ঐকমত্যের ভিত্তিতে সীমান্ত সমস্যা নিয়ে গভীর আলোচনা চালিয়ে যাওয়া হবে এবং সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতাবস্থা যৌথভাবে বজায় রাখার চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয় নিয়েও মতবিনিময় হবে।

ভারত বরাবরই বলে এসেছে, সীমান্ত পরিস্থিতির প্রভাব দুই দেশের বৃহত্তর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উপরও পড়ে। চলতি মাসের গোড়ায় বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছিলেন, ভারত-চিন সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখাকে ভারত সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। গত ৬ আগস্ট ভারত-চিন সীমান্ত বিষয়ক ওয়ার্কিং মেকানিজম ফর কনসালটেশন অ্যান্ড কো-অর্ডিনেশন-এর ৩৬তম বৈঠকেও দুই পক্ষ প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এবং 'খোলামেলা আলোচনা' চালায়। রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছিলেন, সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখা দুই দেশের সামগ্রিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে ভারত ফের স্পষ্ট করেছে। পাশাপাশি, সীমান্তের বকেয়া সমস্যাগুলির সমাধান এবং এলএসি বরাবর ভুল বোঝাবুঝি ও ভুল হিসাব এড়াতে ডব্লিউএমসিসি, স্থানীয় কমান্ডার পর্যায়ের বৈঠক-সহ বিদ্যমান কূটনৈতিক ও সামরিক ব্যবস্থাগুলি ব্যবহার করে যাওয়ার বিষয়ে দুই পক্ষ সম্মত হয়েছে।