Ancient hominin burial practices: ‘সবাই নারী!’ ৩ লক্ষ বছরের পুরনো ২০টি কঙ্কাল, থমকে গেছেন বিজ্ঞানীরা, পুরুষরা কোথায় গেল
Homo naledi skeletons all female: আজ থেকে প্রায় ৩ লক্ষ বছর প্রাচীন এই মানব তুতো-ভাইবোনদের নিয়ে এমনিতেই রহস্যের শেষ ছিল না। এবার নতুন এই আবিষ্কার বিজ্ঞানীদের আরও বড় ধাঁধার মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
South African cave discovery 2026: প্রাগৈতিহাসিক মানব বিবর্তনের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় ও চমকপ্রদ তথ্য উদ্ঘাটিত হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার একটি অতি দুর্গম গুহা থেকে উদ্ধার হওয়া প্রাচীন মানব প্রজাতি ‘হোমো নালেডি’ (Homo naledi)-র সমস্ত কঙ্কাল পরীক্ষা করে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, তারা প্রত্যেকেই ছিল নারী! বিবর্তন বিজ্ঞানের ইতিহাসে এমন একচেটিয়া এক লিঙ্গের কঙ্কাল সমষ্টি পাওয়ার ঘটনা এর আগে কখনো ঘটেনি।

আজ থেকে প্রায় ৩ লক্ষ বছর প্রাচীন এই মানব তুতো-ভাইবোনদের নিয়ে এমনিতেই রহস্যের শেষ ছিল না। এবার নতুন এই আবিষ্কার বিজ্ঞানীদের আরও বড় ধাঁধার মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। প্রাগৈতিহাসিক এই অনন্য আবিষ্কার ও তার পেছনের রোমাঞ্চকর বিজ্ঞান নিয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন নিচে দেওয়া হলো।
২০১৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার ‘রাইজিং স্টার’ (Rising Star) গুহা সমষ্টির গভীর থেকে প্রথমবার হোমো নালেডি প্রজাতির জীবাশ্ম ও হাড়গোড় উদ্ধার করেন ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের এক্সপ্লোরার লি বার্জার এবং তাঁর দল। শিম্পাঞ্জির চেয়ে সামান্য বড় মস্তিষ্ক এবং মানুষের মতো শারীরিক গঠনযুক্ত এই প্রাচীন আদিম প্রজাতিটি নিয়ে বিগত এক দশক ধরে নানা গবেষণা চলছে। কিন্তু অতি সম্প্রতি বিখ্যাত বিজ্ঞান জার্নাল ‘সেল’ (Cell)-এ প্রকাশিত একটি গবেষণা পুরো সমীকরণটিকেই বদলে দিয়েছে।
দাঁতের এনামেল প্রোটিন থেকে মিলল আসল সত্য
উষ্ণ আবহাওয়ার কারণে কয়েক লক্ষ বছর পুরনো হাড় থেকে ডিএনএ (DNA) উদ্ধার করা প্রায় অসম্ভব। তাই আন্তর্জাতিক গবেষকদের একটি দল প্রাচীন প্রোটিন বিশ্লেষণের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ‘প্যালিওপ্রোটিওমিক্স’ (Paleoproteomics)-এর সাহায্য নেন। বিজ্ঞানীরা গুহা থেকে উদ্ধার হওয়া ২০টি ভিন্ন হোমো নালেডি কঙ্কালের ২৩টি দাঁতের নিখুঁত পরীক্ষা করেন।
তাঁরা লক্ষ্য করেন, দাঁতের এনামেলে থাকা বিশেষ প্রোটিন ‘অ্যামেলোজেনিন’ (Amelogenin)-এর পুরুষ সংস্করণের জন্য দায়ী ক্রোমোজোম ‘AMELY’ বা ওয়াই (Y) ক্রোমোজোম সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। সবকটি দাঁতেই কেবল এক্স (X) ক্রোমোজোমের জন্য দায়ী ‘AMELX’ প্রোটিন মিলেছে, যা প্রমাণ করে এই গুহায় পাওয়া সমস্ত কঙ্কালই ছিল আসলে জৈবিকভাবে নারী। এমনকি পূর্বে আকৃতি দেখে যে কঙ্কালগুলোকে পুরুষ ভাবা হয়েছিল (যেমন ‘নিও’ নামক কঙ্কালটি), সেগুলোও আসলে নারী ছিল বলে প্রমাণিত হয়েছে।
সংস্কৃতি নাকি অদ্ভুত জিনঘটিত মিউটেশন?
হঠাৎ একটি নির্দিষ্ট গুহা কক্ষে কেবল নারীদের কঙ্কাল পাওয়ার ঘটনাটি নিয়ে বিজ্ঞানীরা প্রধানত দুটি তত্ত্ব বা কারণ সামনে এনেছেন:
১. লিঙ্গভিত্তিক অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া বা সাংস্কৃতিক প্রথা:
গবেষক দলের প্রধান লি বার্জারের মতে, এটি হোমো নালেডিদের একটি অত্যন্ত জটিল ও প্রতীকী সাংস্কৃতিক আচরণের দিকে ইঙ্গিত করে। হতে পারে সেই প্রাচীন সমাজে মৃত্যুর পর লিঙ্গ বা জেন্ডারের ওপর ভিত্তি করে আলাদাভাবে মৃতদেহ সৎকারের প্রথা ছিল। গুহার এই নির্দিষ্ট চেম্বারটি হয়তো কেবল নারীদের মৃতদেহ রাখার জন্যই সংরক্ষিত রাখা হতো। যদি এই তত্ত্বটি সত্যি হয়, তবে আধুনিক মানুষের বহু আগে আজ থেকে ৩ লক্ষ বছর পূর্বেই হোমো নালেডিদের মধ্যে জটিল সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বোধ তৈরি হয়েছিল।
২. বিশেষ মিউটেশন বা জিনের বিলুপ্তি:
অন্য একটি জৈবিক ব্যাখ্যায় বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন যে, এমনও হতে পারে হোমো নালেডিদের একটি নির্দিষ্ট বড় গোষ্ঠীর পুরুষদের মধ্যে কোনো মিউটেশনের কারণে ওয়াই (Y) ক্রোমোজোমের ওই নির্দিষ্ট ‘AMELY’ জিনটি সময়ের সাথে সাথে বিলুপ্ত বা ডিলিট হয়ে গিয়েছিল। এর ফলে তারা পুরুষ হওয়া সত্ত্বেও আধুনিক প্রযুক্তির পরীক্ষায় তাদের দাঁতে পুরুষ প্রোটিনের খোঁজ মেলেনি।
তাহলে পুরুষরা গেল কোথায়?
এই আবিষ্কারের পর প্যালিওঅ্যানথ্রোপোলজিস্টদের মনে এখন সবথেকে বড় প্রশ্ন—"যদি রাইজিং স্টার গুহার সমস্ত কঙ্কালই নারী হয়ে থাকে, তবে পুরুষ হোমো নালেডিদের কঙ্কালগুলো কোথায় গেল?" ক্লিভল্যান্ড মিউজিয়াম অফ ন্যাচারাল হিস্ট্রির গবেষক এলিজাবেথ সাওচুক লাইভ সায়েন্সকে জানান, "এমনিতেই অদ্ভুত এক আদিম মানুষের থেকে এটি আরও একটি অদ্ভুততম ফলাফল।" যদি তারা সত্যিই কেবল নারী হয়ে থাকে, তবে পুরুষদের জন্য নিশ্চয়ই অন্য কোনো গুহা বা সৎকার ক্ষেত্র ছিল, যা এখনো আবিষ্কার করা বাকি।
ক্ষুদ্র মস্তিষ্কের অধিকারী একটি বিলুপ্ত মানব প্রজাতি নিজেদের সমাজকে এভাবে পুরুষ ও নারীতে ভাগ করে মৃতদেহ সংরক্ষণ করত—তা ভাবাই আধুনিক বিজ্ঞানীদের কপালে ভাঁজ ফেলে দিয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার এই অন্ধকার গুহায় লুকিয়ে থাকা রহস্য আমাদের নিজেদের বিবর্তন ও সামাজিক বিবর্তনের ইতিহাসকে নতুন করে লিখতে বাধ্য করছে।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


