AMCA Engine Pact: যুদ্ধবিমানের ইঞ্জিনে তৈরি হবে ভারতেই, রোলস-রয়েসের সঙ্গে হাত মেলাল রিলায়েন্স, ঘুম উড়ল পাকিস্তানের
প্রস্তাবিত অংশীদারিত্বে ভারতে যুদ্ধবিমান ইঞ্জিনের ডিজাইন, উন্নয়ন, উৎপাদন এবং সরবরাহের সক্ষমতা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। দুই সংস্থা ভারতে একটি Aerospace Gas Turbine Complex তৈরির সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখবে।
AMCA Engine Pact: ভারতের যুদ্ধবিমান কর্মসূচিতে বড় খবর। রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ এবং ব্রিটেনের রোলস-রয়েস ভারতে পরবর্তী প্রজন্মের যুদ্ধবিমান ইঞ্জিন তৈরির জন্য অংশীদার হওয়ার কথা জানিয়েছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ভারতের Advanced Medium Combat Aircraft বা AMCA-র জন্য শক্তিশালী দেশীয় কমব্যাট ইঞ্জিন তৈরি করা। দুই সংস্থা আপাতত কৌশলগতভাবে একসঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা জানিয়েছে। ভবিষ্যতে সরকারি প্রক্রিয়া, প্রযুক্তিগত মূল্যায়ন এবং আনুষ্ঠানিক চুক্তির পর বিষয়টি পুরোপুরি স্পষ্ট হবে।

প্রস্তাবিত অংশীদারিত্বে ভারতে যুদ্ধবিমান ইঞ্জিনের ডিজাইন, উন্নয়ন, উৎপাদন এবং সরবরাহের সক্ষমতা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। দুই সংস্থা ভারতে একটি Aerospace Gas Turbine Complex তৈরির সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখবে। অর্থাৎ শুধু বিদেশি ইঞ্জিন এনে ভারতে জোড়া লাগানো নয়। লক্ষ্য আরও বড়। ইঞ্জিনের ডিজাইন থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং, উৎপাদন এবং সরবরাহ ব্যবস্থা পর্যন্ত পুরো পরিকাঠামো ভারতে তৈরি করা।
রিলায়েন্স তার উৎপাদন এবং বড় প্রকল্প পরিচালনার ক্ষমতা কাজে লাগাবে। অন্যদিকে রোলস-রয়েস দেবে বিমান ইঞ্জিন এবং উন্নত প্রপালশন প্রযুক্তিতে তাদের অভিজ্ঞতা। এই উদ্যোগের কেন্দ্রবিন্দু AMCA। এটি ভারতের প্রস্তাবিত টুইন-ইঞ্জিন পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমান। অত্যাধুনিক সেন্সর, স্টেলথ প্রযুক্তি, অভ্যন্তরীণ অস্ত্র বহনের ক্ষমতা এবং নেটওয়ার্ক-কেন্দ্রিক যুদ্ধের মতো বৈশিষ্ট্য এতে থাকার কথা।
কিন্তু AMCA-র সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলির একটি হল ইঞ্জিন। ভারত এখনও উচ্চ-থ্রাস্ট জেট ইঞ্জিন তৈরিতে পুরোপুরি আত্মনির্ভর হয়নি। কাবেরী ইঞ্জিন প্রকল্প প্রত্যাশা অনুযায়ী সাফল্য না পাওয়ার পর বিদেশি সংস্থার উপর নির্ভরতা তৈরি হয়েছে।
AMCA-র ভবিষ্যৎ সংস্করণের জন্য প্রায় ১২০ কিলোনিউটন বা তার বেশি থ্রাস্টের ইঞ্জিন প্রয়োজন হতে পারে। রোলস-রয়েস এর আগে এই ক্ষমতার ইঞ্জিন যৌথভাবে তৈরি করার প্রস্তাব দিয়েছে। সংস্থার পরিকল্পনা অনুযায়ী, চুক্তি হলে আগামী দশকের শুরুতে ইঞ্জিন কোরের পরীক্ষা এবং পরে উড়ান ও উৎপাদনের দিকে এগোনো যেতে পারে।
এখানে রিলায়েন্সের প্রবেশও গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে এবার বেসরকারি সংস্থাগুলিকে আরও বড় ভূমিকা দেওয়া হচ্ছে। AMCA প্রকল্পেও সরকারি এবং বেসরকারি সংস্থার অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। AMCA-র ইঞ্জিন নিয়ে রোলস-রয়েসের পাশাপাশি ফরাসি সংস্থা Safran-ও প্রতিযোগিতায় রয়েছে। ফলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও বাকি। প্রযুক্তি, খরচ, স্থানীয় উৎপাদন এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। AMCA-র প্রথম দিকের সংস্করণের ক্ষেত্রে GE Aerospace-এর F414 ইঞ্জিন ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। পরে AMCA-র উন্নত সংস্করণে আরও শক্তিশালী দেশীয় ইঞ্জিন ব্যবহারের লক্ষ্য রয়েছে।
এদিকে এই খবর নিয়ে পাকিস্তানেও যথেষ্ট চর্চা হচ্ছে। পাক সংবাদমাধ্যমে রিলায়েন্স-রোলস-রয়েস অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কারণ AMCA শুধু ভারতের একটি যুদ্ধবিমান প্রকল্প নয়। ভবিষ্যতে এটি দক্ষিণ এশিয়ার আকাশসীমায় ভারতের সামরিক ক্ষমতার উপরও প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই উদ্যোগের সাফল্য শুধু একটি ইঞ্জিন তৈরিতে নয়। আসল লক্ষ্য হল ভারতে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ইঞ্জিন তৈরির প্রযুক্তি ও শিল্পক্ষমতা গড়ে তোলা। সেই লক্ষ্য পূরণ হলে ভারতের প্রতিরক্ষা আত্মনির্ভরতায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


