Modi to Opposition on GDP: বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তার মাঝেও ভারতের GDP বৃদ্ধি ৭.৮%, ‘অঙ্ক হজম হয়নি’, বিরোধীদের তোপ মোদীর

GDP বৃদ্ধির পরিসংখ্যান নিয়ে সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'কিছু লোকের এই অঙ্ক হজম হয়নি।' তাঁর এই মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। সরাসরি কোনও দলের নাম না নিলেও, GDP বৃদ্ধির পরিসংখ্যান নিয়ে যারা প্রশ্ন তুলছেন, তাঁদের দিকেই মোদীর এই মন্তব্য বলে মনে করা হচ্ছে।

Updated on: Sep 5, 2026, 21:34:32 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

বিশ্ব অর্থনীতিতে যখন একের পর এক অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের পরিস্থিতি অব্যাহত এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও নানা বাধা রয়েছে, সেই সময়েও ভারতের অর্থনীতির ৭.৮ শতাংশ GDP বৃদ্ধিকে দেশের শক্তি ও সক্ষমতার প্রতিফলন বলে দাবি করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার দিল্লির শ্রী রাম কলেজ অফ কমার্সের (SRCC) শতবর্ষ উদ্‌যাপন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি একদিকে যেমন দেশের অর্থনৈতিক শক্তির কথা তুলে ধরেন, তেমনই পরোক্ষে বিরোধীদেরও নিশানা করেন।

GDP বৃদ্ধির পরিসংখ্যান নিয়ে সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'কিছু লোকের এই অঙ্ক হজম হয়নি।' ( )
GDP বৃদ্ধির পরিসংখ্যান নিয়ে সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'কিছু লোকের এই অঙ্ক হজম হয়নি।' ( )

GDP বৃদ্ধির পরিসংখ্যান নিয়ে সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'কিছু লোকের এই অঙ্ক হজম হয়নি।' তাঁর এই মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। সরাসরি কোনও দলের নাম না নিলেও, GDP বৃদ্ধির পরিসংখ্যান নিয়ে যারা প্রশ্ন তুলছেন, তাঁদের দিকেই মোদীর এই মন্তব্য বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতের ৭.৮ শতাংশ অর্থনৈতিক বৃদ্ধি এমন একটি সময়ে হয়েছে, যখন পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ চলছে এবং বাণিজ্য সংক্রান্ত একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে দেশকে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও এই ধরনের বৃদ্ধির হার ভারতের অর্থনীতির শক্তি, স্থিতিস্থাপকতা এবং সম্ভাবনাকেই তুলে ধরে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মোদীর বক্তব্যে উঠে আসে পূর্বের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গও। তাঁর দাবি, যারা একসময় ভারতকে ‘Fragile Five’-এর তালিকায় ঠেলে দেওয়ার জন্য পরিচিত হয়েছিলেন, তাঁদের কাছে বর্তমান বৃদ্ধির পরিসংখ্যান গ্রহণ করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ, বর্তমান সরকারের অধীনে ভারতের অর্থনীতির যে পরিবর্তন হয়েছে, সেটিই তিনি তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে তুলে ধরতে চান।

এদিন SRCC-এর শতবর্ষ উদ্‌যাপন উপলক্ষে প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘ ঐতিহ্য ও অবদানেরও ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, কোনও ব্যক্তি ১০০ বছর বাঁচলে তাঁকে গভীর জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার অধিকারী হিসেবে দেখা হয়। একইভাবে কোনও প্রতিষ্ঠান ১০০ বছর পূর্ণ করলে তা হয়ে ওঠে সাফল্য, অভিজ্ঞতা ও অর্জনের এক বিশাল ভাণ্ডার।

SRCC কীভাবে প্রজন্মের পর প্রজন্মের পড়ুয়াদের তৈরি করেছে, সেই কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, এই প্রতিষ্ঠান বহু তরুণকে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের সঙ্গে যুক্ত করেছে এবং দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য তাঁদের প্রস্তুত করেছে।

কলেজের প্রাক্তনীদের বিশেষভাবে উল্লেখ করেন মোদী। তরুণ প্রজন্মের ভাষা ব্যবহার করে তিনি SRCC-এর প্রাক্তনীদের ‘OGs’ বলে অভিহিত করেন। তাঁর বক্তব্য, এই প্রাক্তনীরা শুধু অর্থনীতির ক্ষেত্রেই নয়, সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে SRCC-এর নাম উজ্জ্বল করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর মতে, কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাফল্য শুধু তার শ্রেণিকক্ষ বা পরীক্ষার ফলাফলে সীমাবদ্ধ থাকে না। সেই প্রতিষ্ঠান থেকে বেরিয়ে আসা মানুষজন সমাজ ও দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কতটা প্রভাব ফেলছেন, তার উপরও প্রতিষ্ঠানের সাফল্য নির্ভর করে। সেই দিক থেকে SRCC-এর অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সব মিলিয়ে, একদিকে দেশের ৭.৮ শতাংশ GDP বৃদ্ধিকে অর্থনৈতিক শক্তির প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী, অন্যদিকে SRCC-এর শতবর্ষ উদ্‌যাপনের মঞ্চ থেকে দেশের তরুণ প্রজন্ম এবং প্রতিষ্ঠানের গৌরবময় ঐতিহ্যকেও সামনে আনলেন। তাঁর বক্তব্যে অর্থনীতি ও শিক্ষার পাশাপাশি রাজনৈতিক বার্তাও স্পষ্ট হয়ে উঠল।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More