Muslim QUAD: ইরান-মার্কিন বৈঠক ঘিরে জল্পনার মাঝেই ইসলামাবাদে বসল 'মুসলিম কোয়াড'
Muslim QUAD: চলতি সপ্তাহে সৌদি আরব ও তুরস্ক সফরে যাচ্ছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। এদিকে সৌদি, মিশর, তুরস্কের বিদেশমন্ত্রীদের সঙ্গে পাক বিদেশমন্ত্রীর বৈঠক হওয়ার কথা তুরস্কে। তার আগে ইসলামাবাদে তুরস্ক, মিশর, সৌদি এবং পাকিস্তানের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা একটি বৈঠক করলেন।
মার্কিন-ইরান যুদ্ধে মধ্যস্থতাকারী হওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে অবস্থা খরাপ হয়েছে পাকিস্তানের। এরই মাঝে ইসলামাবাদে ফের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হল। প্রথম দফার আলোচনার পরে কোনও ইস্যুতে সমঝোতা হয়নি আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে। এই আবহে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এদিকে রিপোর্ট অনুযায়ী, পাকিস্তানের বদলে জেনেভাতে দ্বিতীয় দফার আলোচনা করার বিষয়ে ভাবনাচিন্তা করছে ইরান এবং আমেরিকা। এরই মাঝে আবার চলতি সপ্তাহে সৌদি আরব ও তুরস্ক সফরে যাচ্ছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। মনে করা হচ্ছে, নিজেদের শক্তিশালী মধ্যস্থতাকারী হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করার প্রচেষ্টার অংশ হবে এই সফর। তার আগে ইসলামাবাদে তুরস্ক, মিশর, সৌদি এবং পাকিস্তানের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা একটি বৈঠক করলেন।
উল্লেখ্য, সৌদি, মিশর, তুরস্কের বিদেশমন্ত্রীদের সঙ্গে পাক বিদেশমন্ত্রীর বৈঠক হওয়ার কথা তুরস্কে। তার আগে, গতকাল ১৪ এপ্রিল এই চার দেশের আধিকারিকরা ইসলামাবাদে একটি বৈঠকে বসেন। জানা গিয়েছে, এই বৈঠকে যে সব বিষয় উঠে এসেছে, তা তুরস্কে অনুষ্ঠিত হতে চলা বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকে উত্থাপন করা হবে। পশ্চিম এশিয়ায় অশান্তির আবহে এই 'মুসলিম কোয়াড' গোষ্ঠী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে চাইছে এবং এই অঞ্চলে প্রভাব বিস্তার করতে চাইছে।
এদিকে ১৪ এপ্রিল পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বলেন, অন্যান্য দেশের সঙ্গে সংলাপ এবং আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে পাকিস্তান প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। এই আবহে শান্তি প্রক্রিয়া জোরদার করার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের কৌশল সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করেছেন শেহবাজ শরিফ। তিনি আরও বলেন, সংলাপ অব্যাহত রাখতে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও অন্যান্য বড় শক্তিগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা জরুরি।
পাক মিডিয়া দাবি করেছে, ইরান-মার্কিন দ্বিতীয় দফা আলোচনার জন্য কঠোর পরিশ্রম করছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, উপ-প্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার এবং ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। উল্লেখ্য, শোনা যাচ্ছে, আবারও আলোচনার টেবিলে বসতে পারে ইরান এবং পাকিস্তান। উল্লেখ্য, চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী ২১ এপ্রিল পর্যন্ত। এই আবহে আগামী ১৬ এপ্রিল ফের মুখোমুখি হতে পারেন ইরান এবং মার্কিন প্রতিনিধিরা। প্রসঙ্গত, এর আগে পাকিস্তানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান শান্তি আলোচনা ২১ ঘণ্টা ধরে চললেও শেষ পর্যন্ত তা ব্যর্থ হয়। আর এবার ইরান দাবি করেছে, আলোচনার সময় ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোন কথা হয়েছিল মার্কিন প্রতিনিধিদের। এরপরই মাঝপথে আলোচনা লাইনচ্যুত হয়েছিল।
বৈঠক ব্যর্থ হওয়া নিয়ে ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি বলেন, 'বৈঠকে নেতানিয়াহু ভ্যান্সকে ফোন করেন। এরপরই আলোচনার ফোকাস মার্কিন-ইরান আলোচনা থেকে ইজরায়েলের স্বার্থের দিকে সরে যায়। তিনি বলেন, 'যুদ্ধের মাধ্যমে আমেরিকা যা অর্জন করতে পারেনি, আলোচনার টেবিলে সেটাই তারা অর্জন করার চেষ্টা করেছে।' আরাগচি বলেন, ইরান সরল বিশ্বাসে আলোচনায় অংশ নিয়েছে এবং তার বিদায়ের আগে ভ্যান্সের ওই সংবাদ সম্মেলন অপ্রয়োজনীয় ছিল। তিনি বলেন, ইরান তার দেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং প্রস্তুত। এদিকে আলোচনার মাঝে নেতানিয়াহু ভান্সকে ফোন করেছিলেন কি না, সেই বিষয়টি ওয়াশিংটন না নিশ্চিত করেছে না অস্বীকার করেছে। এর আগে আরাগচি বলেছিলেন, '৪৭ বছরের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ছিল এটি। যুদ্ধ শেষ করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সততার সাথে কাজ করেছে ইরান। কিন্তু যখন আমরা 'ইসলামাবাদ চুক্তি'র খুব কাছাকাছি ছিলাম, তখন আমাদের কাছে বড় দাবি উপস্থাপন করা হয়েছিল। দাবি পরিবর্তন করা হয়েছিল।'
অপরদিকে ইসলামাবাদে বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পরে ভান্স বলেছিলেন, 'আমরা কোনও সমঝোতা ছাড়াই ফিরে যাচ্ছি। আমরা আমাদের ‘লক্ষ্মণরেখার’ বিষয়ে ইরানকে জানিয়েছি। কোন বিষয়ে ছাড় দেওয়া যায়, কোন বিষয়ে দেওয়া যায় না, সবটাই পরিষ্কারভাবে জানিয়েছি। কিন্তু তারা আমাদের শর্ত মেনে নেয়নি। যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান স্পষ্টভাবে প্রতিশ্রুতি দিক যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র বানানোর চেষ্টা করবে না।'
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


