Pakistan amid Iran War: ইরান যুদ্ধে মহা-ফ্যাসাদে পাকিস্তান! US নয়, কার দিকে ঝোল টানতে বাধ্য হচ্ছে পাক?
ইরান যুদ্ধ পাকিস্তানকে কেন বড় বিপাকে ফেলেছে? কী ঘটছে?
একদিকে প্রতিবেশী ইরান, অপরদিকে কূটনৈতিক সঙ্গী সৌদি আরব। কোনদিকে যাবে পাকিস্তান? এই বিপুল সংকটের মাঝেই আবার পাকিস্তানের নয়া কূটনৈতিক সঙ্গী আমেরিকার, করাচির কনস্যুলেটে ব্যাপক হামলা হয়। সেই মার্কিন কনস্যুলেটে হামলায় ১২ জনের মৃত্যুও হয়। ইরানে খামেনি হত্যা ঘিরে পাকিস্তানের একাংশ ক্ষোভে ফুঁসছে। এদিকে, ইরান হামলা চালিয়ে দিয়েছে আরব বিশ্বের একের পর এক তাবড় দেশে। তাদের মধ্যে রয়েছে সৌদি আরবও। এই সৌদি আরবের সঙ্গেই পাকিস্তানের বিশেষ প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে। ফলত, তুলকালাম বিপাকে পড়ে গিয়েছে ইসলামাবাদ।

‘ফিনান্সিয়াল টাইমস’র খবর অনুসারে, এমন এক সংকটের সময়ে পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী ইশহাক দার বলছেন, তিনি ইরানের বিদেশমন্ত্রীকে সতর্কতার সুরে জানিয়ে দিয়েছেন যে, পাকিস্তানের সঙ্গে কিন্তু সৌদির একটি প্রতিরক্ষা সন্ধি রয়েছে। যে সন্ধি অনুযায়ী, যদি সৌদি আরব বা পাকিস্তান দুটির মধ্যে কোনও এক দেশকে তৃতীয় কোনও দেশ আগ্রাসন দেখায়, তাহলে তা দুটি দেশের বিরুদ্ধেই আগ্রাসনের শামিল বলে মনে করা হবে। সেই জায়গা থেকে পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী ইশহাক দার বলছেন,' আমি তাদের (ইরান) বোঝাতে পেরেছি যে আমাদের একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি আছে।' এই প্রথম কোনও পাকিস্তানি কর্মকর্তা স্পষ্ট করে বললেন যে প্রতিরক্ষা চুক্তিটি ইরান যুদ্ধের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে, যে ইরান গত সপ্তাহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজরায়েলের যৌথ হামলার পর শুরু হয়েছিল। দার উল্লেখ করেন যে পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে প্রতিরক্ষা চুক্তি রিয়াদের উপর ইরানের তীব্র আক্রমণ প্রতিরোধে সহায়তা করেছে।তাঁর যুক্তি, ‘অন্যান্য সকল দেশের বিপরীতে, সৌদি আরব সবচেয়ে কম আক্রমণের সম্মুখীন হয়েছে।’ একদিকে দেশের ভিতর, ইরানের খামেনি হত্যা নিয়ে ইজরায়েল, আমেরিকার বিরুদ্ধে ফুঁসছে পাকিস্তানের একাংশ, অন্যদিকে, মার্কিন মুলুকের সঙ্গে সখ্যতায় পাকিস্তানি সরকার। এমন এক অবস্থায় ইরান হামলা করেছে সৌদিতে। ফলত, প্রতিরক্ষা সন্ধির বশবর্তী হয়ে, প্রতিবেশী ইরানকে ফেলে সৌদির দিকেই ঝুঁকতে বাধ্য হচ্ছে পাকিস্তান।
এরই মাঝে আবার পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর আরও এক চিন্তা! তিনি যুক্তি দিচ্ছেন, যদি পাকিস্তানের প্রতিবেশী দেশ ইরানে ইজরায়েলের প্রভাবিত সরকার থাকে, তাহলে আবার পাকিস্তানের জন্য তা ভালো ফল হবে না! কারণ, ইজরায়েলের সঙ্গে আবার পাকিস্তানের সখ্যতা নেই। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা এক্ষত্রে দোষারোপ করতে ভারতকেও টেনে এনে এনেছেন তাঁর মন্তব্যে। একদিকে, পাকিস্তানের সঙ্গে আফগানিস্তানের সংঘাত, ভারতের সঙ্গে পাকের সম্পর্ক কোনও দিনও ভালোর দিকে যায়নি, তাতে যদি পাকিস্তানের প্রতিবেশি ইরানে ইজরায়েলের প্রভাবের সরকার আসে তাতে নিশ্চিন্ত হতে পারবে না ইসলামাবাদ। সেক্ষেত্রে পাকিস্তান তিন দিক থেকে কার্যত বিরোধী কূটনীতির ঘেরাটোপের আশঙ্কা করছে।
ABOUT THE AUTHORSritama Mitraশ্রীতমা মিত্র হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন চিফ কনটেন্ট প্রোডিউসার। ২০২১ সাল থেকে তিনি এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক সংবাদের পাশাপাশি শ্রীতমার আগ্রহের জায়গা ক্রিকেট। এছাড়াও তিনি জ্যোতিষ বিভাগ দেখাশোনা করেন এবং জীবনযাপন সংক্রান্ত প্রতিবেদন লিখতেও তাঁর আগ্রহ রয়েছে। পেশাদার জীবন: পেশাদার জীবনের শুরুতে শ্রীতমা আকাশবাণী, শান্তিনিকেতনে উপস্থাপিকা হিসেবে কাজ করেছেন। ২০১০ সালে তিনি ইটিভি নিউজ বাংলায় কপি এডিটর হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ওয়ানইন্ডিয়া-সহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কাজ করার পর তিনি হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগ দেন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: শ্রীতমা মিত্র ইংরেজিতে স্নাতক (বি.এ.) এবং বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, শান্তিনিকেতন থেকে সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগে স্নাতকোত্তর (এম.এ.) ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: সাংবাদিকতার বাইরে শ্রীতমা একজন সাহিত্যপ্রেমী, ভ্রমণও তাঁর অন্যতম নেশা। ছুটির দুপুরগুলো তাঁর কাটে গল্পের বই নিয়ে। একটু লম্বা ছুটি পেলে তিনি দেশের ভিতর বা কখনও সখনও দেশের বাইরেও বেড়াতে যেতে ভালোবাসেন। তবে তাঁর প্রতিটা বেড়ানোর পিছনেই কাজ করে কোনও না কোনও বই বা সিনেমা থেকে তৈরি হওয়া কৌতূহল। অজানাকে জানার আগ্রহই তাঁকে বার বার নিয়ে গিয়ে ফেলে নানা অচেনা শহরে। সেই সব অভিজ্ঞতাকে লেখার রূপ দিতেও পিছপা হন না শ্রীতমা।Read More
E-Paper











