Ambani's Reliance on Musk's Starlink: রুবিওর জামনগর সফরের আবহে মাস্কের স্টারলিঙ্ক নিয়ে বড় বার্তা আম্বানির রিলায়েন্সের
রিলায়েন্স স্পষ্ট জানিয়ে দিল, ভারতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের বাজারে স্টারলিঙ্কের প্রবেশ নিয়ে তাদের কোনও আপত্তি নেই। বরং প্রতিযোগিতাকে স্বাগত জানায় সংস্থা। তবে একই সঙ্গে মনে করিয়ে দিয়েছে, জিওর নিজস্ব স্যাটেলাইট পরিষেবাও কেন্দ্রীয় সরকারের প্রয়োজনীয় ছাড়পত্রের অপেক্ষায় রয়েছে।
ইলন মাস্কের একের পর এক আক্রমণ। কখনও মুকেশ আম্বানিকে ‘ভারতের আসল ক্ষমতাধর’ বলে কটাক্ষ, কখনও ভারতে স্টারলিঙ্কের প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ। এত দিন নীরব থাকার পরে অবশেষে মুখ খুলল আম্বানির রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ। স্পষ্ট জানিয়ে দিল, ভারতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের বাজারে স্টারলিঙ্কের প্রবেশ নিয়ে তাদের কোনও আপত্তি নেই। বরং প্রতিযোগিতাকে স্বাগত জানায় সংস্থা। তবে একই সঙ্গে মনে করিয়ে দিয়েছে, জিওর নিজস্ব স্যাটেলাইট পরিষেবাও কেন্দ্রীয় সরকারের প্রয়োজনীয় ছাড়পত্রের অপেক্ষায় রয়েছে।

আমেরিকার বিদেশসচিব মার্কো রুবিওর আসন্ন জামনগর সফরের আবহে রিলায়েন্সের এই বক্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ১৭ থেকে ২২ অক্টোবর ভারত সফরে আসছেন রুবিও। সেই সফরে মুম্বইয়ের পাশাপাশি গুজরাতের জামনগরে রিলায়েন্সের তেল শোধনাগার পরিদর্শনের কথা রয়েছে তাঁর। জ্বালানি ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা বাড়ানোই এই সফরের অন্যতম লক্ষ্য। তার ঠিক আগে মাস্কের অভিযোগের জবাবে আম্বানির সংস্থার বক্তব্য সামনে আসায় স্বাভাবিক ভাবেই চর্চা শুরু হয়েছে ব্যবসায়িক মহলে। তবে রুবিওর সফরের সঙ্গে স্টারলিঙ্ক বিতর্কের সরাসরি যোগ রয়েছে, এমন কোনও তথ্য সামনে আসেনি।
‘প্রতিযোগিতাকে ভয় পাই না’
শুক্রবার সমাজমাধ্যমে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে রিলায়েন্স জানায়, দেশি বা বিদেশি, যে সংস্থাই বিনিয়োগ ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার উন্নতি ঘটাতে চায়, ভারত তার জন্য উন্মুক্ত। তবে সেই স্বাধীনতার ভিত্তি হল আইনের শাসন। ভারতীয় ও বিদেশি, সব সংস্থার জন্যই কেন্দ্রের একই নিয়ম প্রযোজ্য হওয়া উচিত।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আমরা কখনও প্রতিযোগিতাকে ভয় পাইনি।” উদাহরণ হিসাবে নিজেদের যাত্রার কথা তুলে ধরেছে রিলায়েন্স। ২০১৬ সালে টেলিকমের বাজারে প্রবেশের সময় জিওর কোনও গ্রাহক ছিল না। অথচ এক দশকের মধ্যে সেই সংস্থার গ্রাহকসংখ্যা ৫৩ কোটির গণ্ডি ছাড়িয়েছে। এ বার স্যাটেলাইট যোগাযোগের বাজারেও প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে প্রস্তুত জিও। স্টারলিঙ্ক-সহ সব সংস্থাকেই স্বাগত জানানো হবে, যদি তারা ভারতের আইন ও নীতি মেনে চলে।
মাস্কের নিশানায় আম্বানি
ভারতের বাজারে স্টারলিঙ্কের বাণিজ্যিক পরিষেবা চালু করা নিয়ে সম্প্রতি সরব হয়েছেন মাস্ক। তাঁর অভিযোগ, দেশের কিছু প্রভাবশালী ব্যবসায়িক গোষ্ঠী নিজেদের বাজারের আধিপত্য বজায় রাখতে স্টারলিঙ্কের প্রবেশে বাধা দিচ্ছে। সেই প্রসঙ্গে আম্বানিকে সরাসরি কটাক্ষও করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, স্টারলিঙ্ক এলে ভারতীয় গ্রাহকেরা আরও বেশি বিকল্প পাবেন। প্রতিযোগিতা বাড়লে জিওর মুনাফা কমতে পারে, কিন্তু তাতে সংস্থার ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে না। রিলায়েন্সের এই বিবৃতি মাস্কের অভিযোগের পরে সংস্থার প্রথম প্রকাশ্য জবাব। যদিও বিবৃতিতে মাস্কের নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি।
ছাড়পত্রের অপেক্ষায় তিন সংস্থাই
কেন্দ্রের বক্তব্য, স্টারলিঙ্ককে একতরফা ভাবে আটকে রাখা হচ্ছে না। জিও, ভারতী এয়ারটেলের সহযোগী ওয়ানওয়েব এবং স্টারলিঙ্ক—তিন সংস্থারই স্যাটেলাইট পরিষেবা চালুর ক্ষেত্রে নিরাপত্তা সংক্রান্ত ছাড়পত্রের প্রক্রিয়া চলছে। স্টারলিঙ্ককে ভারতে পরিষেবা চালু করতে স্থানীয় পরিকাঠামো গড়ে তোলার মতো কিছু নিয়মও মানতে হবে।
অতএব, আম্বানির সংস্থা নিজেরাও যখন ছাড়পত্রের অপেক্ষায়, তখন মাস্কের অভিযোগের জবাবে সেই বিষয়টিকেই সামনে আনল রিলায়েন্স। স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের বাজারে শেষ পর্যন্ত কার পরিষেবা আগে চালু হবে, কত খরচে গ্রাহকেরা ইন্টারনেট পাবেন এবং প্রতিযোগিতায় কে এগিয়ে থাকবে, এখন সেটাই দেখার।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


