Delhi protest: দিল্লির বিক্ষোভের মাঝে সক্রিয় আইনজীবীরা! আন্দোলনকারীদের হদিস পেতে জারি এসওপি, নজর...
Delhi protest: রবিবার সুপ্রিম কোর্ট বিশেষ শুনানিতে নির্দেশ দেয় যে, শান্তিপূর্ণ, নিরস্ত্র জমায়েতের ক্ষেত্রে আইননির্ধারিত পদ্ধতি মেনেই পদক্ষেপ করতে হবে।
Delhi protest: রবিবার রাত প্রায় ১১টার দিকে আসে একটি জরুরি এসওএস (SOS) বার্তা। দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লির নজফগড়ে ৩০ থেকে ৪০ জনকে আটকে রাখা হয়েছে, যাঁদের মধ্যে ৫-৬ জন নাবালক এবং বেশ কয়েকজন আহত। কয়েক মিনিটের মধ্যে আইনজীবীদের গ্রুপে বার্তা ছড়িয়ে পড়ে। দিল্লির আইনজীবী শোভিত চৌধুরী স্থানীয় পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকের সঙ্গে যোগাযোগ করার আগেই নজফগড়ের কাছাকাছি থাকা আইনজীবীদের চিহ্নিত করে ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

দিল্লির স্বাধীন আইনজীবী শোভিত চৌধুরী জানান, 'আমরা মূলত আইনজীবীদের জন্য একটি দ্রুত পদক্ষেপকারী ব্যবস্থা (Rapid response system) তৈরি করেছি। এটি কাজ করছে ঠিকই, কিন্তু সত্যি বলতে এমন একটা ব্যবস্থা কাজ করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়াই উচিত ছিল না।' মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে প্রতিবাদের জেরে রাজধানীতে লাগাতার গণ-আটকের মুখে আন্দোলনকারীদের আইনি সহায়তা দিতে দিনরাত কাজ করে চলেছে আইনজীবীদের এই স্বেচ্ছাসেবী দল। রবিবার সুপ্রিম কোর্ট বিশেষ শুনানিতে নির্দেশ দেয় যে, শান্তিপূর্ণ, নিরস্ত্র জমায়েতের ক্ষেত্রে আইননির্ধারিত পদ্ধতি মেনেই পদক্ষেপ করতে হবে। বিশেষত, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা যেখানে কার্যকর নয়, সেই এলাকায় এমন জমায়েতের কারণে আইনসম্মত প্রক্রিয়া ছাড়া কাউকে আটক করা যাবে না। একই সঙ্গে শীর্ষ আদালত মেট্রো ও রেল পরিষেবা স্বাভাবিক রাখা, ব্যারিকেড বসানোর প্রয়োজনীয়তা পর্যালোচনা এবং ইন্টারনেট পরিষেবা অক্ষুণ্ণ রাখার নির্দেশ দেয়।
তবে শীর্ষ আদালতের সেই নির্দেশের পরেও ধরপাকড় থামেনি। রবিবার সন্ধ্যায় কনট প্লেসের কাছ থেকে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (AISA)-র সভানেত্রী নেহা বোরা এবং সিপিআই(এম) সাংসদ জন ব্রিটাস-সহ প্রায় ১০০ জনকে আটক করা হয়। শনিবার দিল্লি পুলিশ হাজার হাজার মানুষকে আটক করেছিল; মধ্য দিল্লিতে প্রবেশের সময় তল্লাশি চৌকিগুলিতেই বহু মানুষকে আটকে দেওয়া হয়, যাঁদের মধ্যে ছাত্র সংগঠন এবং রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারাও ছিলেন।
শোভিত চৌধুরী জানান, জুলাই মাসে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে হওয়া বিক্ষোভের সময় একাই আটক ব্যক্তিদের সহায়তার কাজ শুরু করেছিলেন তিনি। ধীরে ধীরে অন্য স্বাধীন আইনজীবীরা এগিয়ে আসেন এবং একটি সংগঠন গড়ে ওঠে। বর্তমানে মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, অসম এবং দিল্লি এনসিআর মিলিয়ে এই নেটওয়ার্কে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জন আইনজীবী সক্রিয় রয়েছেন। প্রত্যেক আইনজীবী তাঁদের নিজস্ব বন্ধু, সহপাঠী ও সহকর্মীদের নেটওয়ার্ক যুক্ত করেছেন। ফলে কোনও জায়গায় কাউকে আটকের খবর আসা মাত্রই সবচেয়ে কাছের আইনজীবীকে দ্রুত সেখানে পাঠিয়ে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। শোভিত বলেন, 'এটি মূলত একটি বার্তা আদান-প্রদান ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে কোনও নির্দিষ্ট এলাকার সবচেয়ে কাছের আইনজীবীকে খুঁজে বের করা যায়।'
এই নেটওয়ার্ক হোয়াটসঅ্যাপ এবং ইনস্টাগ্রামে ফোন নম্বর ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি দুটি সংক্ষিপ্ত বার্তা প্রচার করছে। একটি বার্তায় বলা হচ্ছে, কেউ আটক হলে তাঁর করণীয় কী। অন্য বার্তায় বলা হচ্ছে, কাউকে আটক হতে দেখলে কী করতে হবে—পুলিশের বাসের ভিডিও রেকর্ড করা এবং গাড়ির নম্বর প্লেট লিখে রাখা। পাশাপাশি আটক ব্যক্তিদের আন্দোলনের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে নিজেদের লাইভ লোকেশন শেয়ার করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যাতে বাসে কতজন আছেন এবং তাঁদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তা স্পষ্টভাবে জানা যায়।
শোভিত চৌধুরীর মতে, আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে পাওয়া অভিযোগগুলি উদ্বেগজনক। অনেকের অভিযোগ, আনুষ্ঠানিক পুলিশি হেফাজতের তুলনায় বাসে বা অস্থায়ী আটক কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার সময়ই অতিরিক্ত আগ্রাসন দেখানো হচ্ছে। একাধিক কেন্দ্রে আটক ব্যক্তিদের ধাক্কা দেওয়া ও শারীরিক আঘাত করার অভিযোগও উঠেছে। এছাড়া দুটি প্রধান অভিযোগ বারবার সামনে আসছে। প্রথমত, বিক্ষোভস্থলে পৌঁছানোর আগেই অথবা ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (BNSS) ১৬৩ ধারার আওতায় ১৪৪ জারি থাকা এলাকার বাইরে থেকেই সাধারণ মানুষকে আটক করা হচ্ছে। আইনজীবীদের কথায়, 'এই ধরনের আগাম প্রতিরোধমূলক আটক সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত এবং বেআইনি।'
দ্বিতীয়ত, আটক ব্যক্তিদের দীর্ঘক্ষণ অভুক্ত রাখা হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি জানান, আনন্দ বিহার থেকে ২০-২২ জন যুবকের একটি দলকে তুলে নিয়ে গিয়ে একটি ভবনে আটকে রাখা হয়। দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত তাঁদের কেবল কলা ছাড়া আর কিছুই খেতে দেওয়া হয়নি এবং মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। এমনকি আউটার দিল্লির একটি কেন্দ্রে বেশ কয়েকজন নাবালকের সন্ধান পাওয়া গেছে এবং মুক্তি পাওয়া অনেকের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে।
রবিবার সকালে সুপ্রিম কোর্টের শুনানির আগে পর্যন্ত আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে আইনি পরামর্শ করতে দেওয়াই ছিল সবচেয়ে বড় বাধা। অভিযোগ, আইনজীবীদের দেখা করতে দেওয়া হচ্ছিল না এবং যাঁরা দেখা করার চেষ্টা করেছিলেন, তাঁদের অনেককেও আটক করা হয়। বর্তমানে বেশ কয়েকজন প্রবীণ আইনজীবী এই লড়াইয়ে যুক্ত হয়েছেন এবং দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে জবাব চেয়ে মামলাটি আদালতে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে। শোভিত চৌধুরী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, 'এই ঘটনা ভুলে যাওয়ার মতো নয়। আজ যদি এটি সমস্যা হয়, তবে কাল বা পরশুও এটি বড় সংকট হিসেবে ফিরে আসবে।'
E-Paper

