'ট্রাম্প প্রণালী খুলে দিতে হবে!' যুদ্ধের মধ্যে এ কী বললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট! নেপথ্যে কোন ইঙ্গিত?

মায়ামিতে সৌদি আরবের ওয়েলথ ফান্ডের আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ইরানকে 'ট্রাম্প প্রণালী' খুলে দিতে হবে।

Published on: Mar 28, 2026, 22:23:17 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো বা ঘাঁটির নাম নিজের নামে রাখতে ভালোবাসেন। শুক্রবার, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতি যখন ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছিল, তখন আরও এক ধাপ এগিয়ে তিনি জোর দিয়ে বলেন, শান্তি চুক্তি সম্পাদনের স্বার্থে ইরানকে অবশ্যই হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহনের পথ উন্মুক্ত করে দিতে হবে। আর এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি তিনি 'ট্রাম্প প্রণালী' বলে উল্লেখ করেছেন।

যুদ্ধের মধ্যেই বিস্ফোরক মার্কিন প্রেসিডেন্ট (AP)
যুদ্ধের মধ্যেই বিস্ফোরক মার্কিন প্রেসিডেন্ট (AP)

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন হরমুজ প্রণালী কেন্দ্রিক সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। বর্তমানে ইরান এই পথটি কার্যকরভাবে অবরোধ করে রাখায় প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেলের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, যা বিশ্ব বাজারে জ্বালানির দামে ঐতিহাসিক অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট কী বললেন?

মায়ামিতে সৌদি আরবের ওয়েলথ ফান্ডের আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ইরানকে 'ট্রাম্প প্রণালী' খুলে দিতে হবে। ট্রাম্পের নিজের নামকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ডিংয়ে ব্যবহার করার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। গত ডিসেম্বরেই হোয়াইট হাউস ঘোষণা করেছিল যে, ওয়াশিংটনের বিখ্যাত কেনেডি সেন্টারের নাম পরিবর্তন করে ‘ট্রাম্প-কেনেডি সেন্টার’ রাখা হচ্ছে। এর আগে সোশ্যাল মিডিয়া ট্রুথ সোশ্যালেও তিনি রসিকতা করে কেনেডি সেন্টারকে নিজের নামে ডাকার চেষ্টা করেছিলেন। শুক্রবার মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ প্রসঙ্গে রসিকতার সুরে ট্রাম্প বলেন, 'আমরা এখন আলোচনা করছি, আর যদি কিছু করা যেত তাহলে দারুণ হত। কিন্তু ওদের এটা খুলে দিতে হবে। ওদের ট্রাম্প প্রণালী, মানে হরমুজ খুলে দিতে হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট এমনটা বলেতেই দর্শকরা হাসতে শুরু করেন। ট্রাম্প বলেন, ‘মাফ করবেন, আমি দুঃখিত। এত বড় ভুল করলাম।’ পাশাপাশি, ট্রাম্প যোগ করেন, 'ফেক নিউজগুলো বলবে যে তিনি দুর্ঘটনাবশত 'ট্রাম্প প্রণালী' বলেছেন। না, আমার সঙ্গে কোনও দুর্ঘটনা নেই। খুব বেশি না।'

ইরানকে খুব শিগগিরই হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে বলেছেন ট্রাম্প। না হলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ধ্বংস করে দেবেন বলেও হুমকি দিয়েছেন। এরই মধ্যে দেশটির জ্বালানি অবকাঠামোগুলোয় হামলা আরও ১০ দিন স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর মতে যুদ্ধ বন্ধে তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের আলোচনা চলছে। তাই হামলা বন্ধ থাকবে। হামলা স্থগিত রাখার কথা বললেও, শুক্রবারের অনুষ্ঠানেই ট্রাম্প বলেছেন, আঘাত হানার জন্য ইরানে এখনও ৩ হাজার ৫৫৪টি লক্ষ্যবস্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তালিকায় রয়েছে। সেগুলোতে খুব শিগগিরই হামলা চালানো হবে। ইরান এক সময় শক্তিশালী এক দেশ থাকলেও, এখন একদমই শক্তিশালী নয়।

হরমুজ প্রণালী বন্ধ

গত ২৮ ফেরুয়ারি ইরানে ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রর আগ্রাসন শুরু হওয়ার কয়েকদিন পরই হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নেয় ইরানের সামরিক বাহিনী। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বে সরবরাহ করা মোট তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ পরিবহন হয়। সংঘাতের আগে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ছিল। ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসনের প্রেক্ষিতে প্রাণালীটি কার্যত বন্ধ করে দেয় ইরান। যার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও মূল্যে এক ঐতিহাসিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে। তেহরান বলছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা ইজরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়-এমন জাহাজের জন্য প্রণালী খোলা আছে। তবে তেহরান এই জলপথে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার কথা বলছে। সেই সঙ্গে ইরান সতর্ক করে বলেছে, ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের মিত্র দেশগুলোর জাহাজগুলোর হামলা চালানো হবে।