Garba Controversy: মহারাষ্ট্রে গরবা-ডান্ডিয়া উৎসবে মুসলিম প্রবেশ নিষেধ! আর্জি VHP-র, বিস্ফোরক মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রী

Maharashtra Garba Controversy: সম্প্রতি মহারাষ্ট্রে নবরাত্রির (Navratri festival) গরবা ও ডান্ডিয়া অনুষ্ঠানে (garba-dandiya) মুসলিমদের অংশগ্রহণ না করানোর ডাক দিয়েছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (Vishva Hindu Parishad)।

Published on: Sep 9, 2026, 19:06:06 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Maharashtra Garba Controversy: মহারাষ্ট্রে আসন্ন নবরাত্রির গরবা-ডান্ডিয়া উৎসবকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মুসলিমদের এই অনুষ্ঠানে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ার দাবি তুলেছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (VHP)। আয়োজকদের কাছে পাঠানো নির্দেশিকায় পরিচয়পত্র যাচাইয়ের পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীদের কপালে তিলক থাকা বাধ্যতামূলক করার দাবিও জানানো হয়েছে। এই অবস্থানকে ঘিরে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে বিরোধীরা। এই চলমান বিতর্কের মাঝে এবার নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশের স্ত্রী অমৃতা ফড়নবীশ।

মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশের স্ত্রী অমৃতা ফড়নবীশ (PTI)
মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশের স্ত্রী অমৃতা ফড়নবীশ (PTI)

অমৃতা ফড়নবীশ স্পষ্ট জানান, উৎসব সবার এবং কোনও মুসলিম ব্যক্তি যদি এই উৎসবে অংশ নিয়ে আনন্দ উপভোগ করেন, তবে তাতে তিনি অন্যায়ের কিছু দেখছেন না। আগামী ১১ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে নবরাত্রি। তার আগেই মহারাষ্ট্রে গরবা-ডান্ডিয়া অনুষ্ঠানের আয়োজকদের উদ্দেশে একাধিক নির্দেশ দিয়েছে ভিএইচপি। ভিএইচপি ঘোষণা করেছে, মহারাষ্ট্রের কোথাও কোনও গরবা বা ডান্ডিয়া অনুষ্ঠানে মুসলিমদের অংশ নিতে দেওয়া হবে না। বিজেপি নেতা তথা মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী নীতেশ রানে ভিএইচপির এই ঘোষণাকে সমর্থন করে বলেন, উৎসবের আড়ালে 'লাভ জিহাদ'-এর ঘটনা বৃদ্ধি পায়।

তবে এই কট্টর অবস্থানের বিপরীতে হেঁটে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অমৃতা ফড়নবীশ বলেন, 'যদি কোনও মুসলিম ব্যক্তিও সেখানে এসে যথাযথভাবে উৎসব উপভোগ করেন, তাহলে আমি এতে কোনও ভুল দেখছি না।' একই সুরে এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন অভিনেতা শ্রেয়স তলপাড়েও। তিনি বলেন, 'আমরা এত বছর ধরে একসঙ্গে সমস্ত উৎসব উদযাপন করে আসছি... আমি নিজে সবসময় প্রতিটি উৎসবের আনন্দ মন খুলে উপভোগ করেছি এবং ভবিষ্যতেও তা-ই করব।'

ভিএইচপির পাশে নীতেশ রানে

সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভিএইচপির সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন বিধায়ক নীতেশ রানে। তিনি দাবি করেন, গরবা উৎসবে প্রবেশের আগে পরিচয়পত্র যাচাই করার পাশাপাশি আগতদের হনুমান চালিশা পাঠ করানো উচিত। রানে বলেন, 'যারা মূর্তিপূজায় বিশ্বাস করে না, তাদের হিন্দু ধর্মের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া উচিত নয়। যারা গরবায় অংশ নিতে আসবেন, তাঁদের পরিচয়পত্র দেখাতে হবে এবং প্রবেশাধিকার পাওয়ার আগে হনুমান চালিশা পাঠ করতে হবে।' এর পাশাপাশি ডিজে ও সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহারের নিয়মের ক্ষেত্রে গণেশ উৎসব ও ইদের শোভাযাত্রায় একই নীতি প্রয়োগ করার দাবি জানান তিনি।

কী বলছে ভিএইচপি?

সম্প্রতি মহারাষ্ট্রে নবরাত্রির (Navratri festival) গরবা ও ডান্ডিয়া অনুষ্ঠানে (garba-dandiya) মুসলিমদের অংশগ্রহণ না করানোর ডাক দিয়েছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (Vishva Hindu Parishad)। শুধু তাই নয়, অনুষ্ঠানে কারা ঢুকছেন, তা যাচাই করতে আধার কার্ড দেখার মতো একাধিক নির্দেশিকাও দিয়েছে সংগঠনটি। কপালে তিলক পরানোর পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। ভিএইচপি-র মুখপাত্র তথা যুগ্মসচিব শ্রীরাজ নায়ার জানিয়েছেন, মুসলিমদের গরবা ও ডান্ডিয়া অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দেওয়া হবে না। তাঁর যুক্তি, নবরাত্রি শুধুমাত্র গান-বাজনা বা নাচের উৎসব নয়, এই উৎসব মূলত হিন্দু দেবীর আরাধনাকে কেন্দ্র করে। তাই হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে সম্পর্কিত এই অনুষ্ঠানে মুসলিমদের অংশগ্রহণ নিয়ে আপত্তি রয়েছে তাঁদের। ভিএইচপি-র বক্তব্য, এই সিদ্ধান্ত কোনও নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নয়, বরং হিন্দু উৎসবের সাংস্কৃতিক চরিত্র বজায় রাখার জন্যই ‘সতর্কতামূলক ব্যবস্থা।’