ফিট থাকলেই দামী-দামী ব্র্যান্ডের গিফট! এই দেশের চাকরির কথা ফাঁস ভারতীয় তরুণীর
South Korea: সোশ্যাল মিডিয়ায় কোটি কোটি বার দেখা হয়েছে ভিডিওটি। অজস্র ভালোবাসার চিহ্ন জমা পড়েছে তাতে।
South Korea: সরকারি সংস্থা হোক বা বেসরকারি, যে কোনও ক্ষেত্রেই কঠোর পরিশ্রম করলে মেলে উন্নতির চাবিকাঠি। সহজ পথে কখনওই সাফল্য আসে না। আর এই করতে গিয়ে বহু মানুষই স্বাস্থ্যের দিকে নজর রাখতে ভুলে যান। সারা দিনের পরিশ্রমের পর আর আলাদা করে নিজের দিকে নজর দেওয়া হয়ে ওঠে না। আবার ভোরবেলা উঠে শরীরচর্চা করতেও জাগে আলস্য আসে। এমন পরিস্থিতিতেই দক্ষিণ কোরিয়ার (রিপাবলিক অফ কোরিয়া) এক সংস্থার শরীরচর্চা সংক্রান্ত অভিনব উদ্যোগের কথা তুলে ধরে নেটিজেনদের নজর কেড়েছেন ভারতীয় তরুণী।

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও থেকে ঘটনাটি প্রকাশ্যে এসেছে। এক ভারতীয় তরুণী তাঁর অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন সেখানে। তিনি জানিয়েছেন, দক্ষিণ কোরিয়ার এক সংস্থায় কর্মরত তিনি। সেখানে টানা দু'মাস নিয়মিত শরীরচর্চা বা ওয়ার্কআউট করলেই কর্মীদের নামী ব্র্যান্ডের দামি উপহার দেওয়া হয়। ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করা ভিডিওতে মানসী অরোরা জানান, দক্ষিণ কোরিয়ার একটি সংস্থায় যোগ দেওয়ার পর তিনি এই উদ্যোগের কথা জানতে পারেন। তিনি বলেন, যে সকল কর্মীরা টানা দু'মাস নিয়মিত শরীরচর্চা করবেন এবং প্রমাণ হিসেবে তাঁদের টিম লিডার বা ম্যানেজারকে প্রতিদিনের ছবি কিংবা ভিডিও পাঠাবেন, তাঁদের এই উপহার দেবে সংস্থা।
ভিডিওতে মানসী অরোরা বলেন, 'আর এগুলো কোনও সাধারণ ছোটখাটো উপহার নয়। গুচি, চ্যানেল, প্রাডার মতো সব নামিদামি ব্র্যান্ডের উপহার।' তিনি ব্যাখ্যা করে জানান, কাজের ব্যস্ততার মধ্যেও কর্মীরা যাতে নিজেদের স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেন, সেই উদ্দেশ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, 'এমনটা করা হচ্ছে কারণ সংস্থা চায় আপনার জীবনে কাজের চাপ যতই থাকুক বা আপনি যে কাজই করুন না কেন, তার পাশাপাশি যেন নিজের স্বাস্থ্যের যত্নও নেন।' মানসী অরোরা আরও যোগ করেন, এই উদ্যোগের কথা জানার পর থেকেই তিনি শরীরচর্চা শুরু করার অনুপ্রেরণা খুঁজে পেয়েছেন। তিনি বলেন, 'বিষয়টি জানার পর থেকে আমার মনে হয়েছে, ওয়ার্কআউট শুরু করার জন্য হয়তো এই অনুপ্রেরণাই আমার দরকার ছিল এবং অবশেষে আমি তা পেয়ে গেছি।'
সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়া
সোশ্যাল মিডিয়ায় কোটি কোটি বার দেখা হয়েছে ভিডিওটি। অজস্র ভালোবাসার চিহ্ন জমা পড়েছে তাতে। ওই সংস্থার উদ্যোগকে প্রশংসায় ভরিয়েছেন নেটাগরিকেরা। অনেকে আবার দক্ষিণ কোরিয়ায় এই সংস্কৃতির সঙ্গে ভারতের কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতার তুলনা করতে শুরু করেন। এক ব্যবহারকারী রসিকতার সুরে বলেন, 'গত মাসেই আমার ভারতীয় ম্যানেজারের সঙ্গে এই বিষয়ে কথা বলেছিলাম, তিনি বললেন সব এআই (AI)!' অন্য একজন মন্তব্য করেন, 'আর এখানে ভারতে সংস্থাগুলো চায় আপনি এমনভাবে কাজ করুন যেন আপনার পুরো জীবনটাই কোম্পানিকে ঘিরে ঘোরে।'
তৃতীয় এক ব্যবহারকারী লেখেন, 'একবার দেখুন ওরা কতটা বুদ্ধিমান.. কেউ যদি টানা ২ মাস নিজের শরীরের যত্ন নেয়, তবে তা অভ্যাসে পরিণত হয় যা সে আর কখনও ছাড়বে না এবং এরপর তার আর কোনও মোটিভেশনেরও প্রয়োজন পড়বে না।' আরেকজন লেখেন, 'এদিকে ভারতে জিমে যাওয়ার জন্য সময়মতো অফিস থেকে বেরোলেই মানুষ আপনাকে নিয়ে হাজারটা সমালোচনা শুরু করে দেবে।' আর একজন ভারতীয় কর্মসংস্কৃতিকে কটাক্ষ করে লিখেছেন, 'ভারতীয় কর্মসংস্কৃতি যে একমাত্র ‘ওয়ার্কআউট’ বোঝে, তা হলো ‘ওয়ার্ক আউটপুট’ (কাজের ফলাফল)।'
E-Paper

