Flydubai Flight FZ1073: 'আমি মে-ডে দেখি!' টেলিভিশনে দেখা অভিজ্ঞতায় বিমান নিয়ন্ত্রণ করেছিলেন প্লাম্বার

Flydubai Flight FZ1073: ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলাপকালে গোটা ঘটনার বর্ণনা দেন ওই যাত্রী ইয়ানিভ হায়ুন।

Published on: Oct 1, 2026, 18:12:28 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

Flydubai Flight FZ1073: দুবাই থেকে তেল আভিভের দিকে যাওয়ার সময়ে মাঝ আকাশে ‘ফ্লাইদুবাই এফজেড১০৭৩' বিমানে (Flydubai FZ1073) তখন মৃত্যুঘণ্টা বাজছে। ওমানি কো-পাইলট হঠাৎই আক্রমণাত্মক হয়ে ককপিটে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করেন ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছরকে। বিমানটিকে ক্র্যাশ করানোর জন্য ককপিটের নিয়ন্ত্রণও ছিনিয়ে নেন তিনি। কিন্তু রক্তক্ষরণের মধ্যেও সংজ্ঞাহীন হওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে দরজাটি খুলে দেন ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর। আর তাতেই বিমানে থাকা কয়েকজন যাত্রী অদম্য সাহস নিয়ে এগিয়ে গিয়ে ভেস্তে দিলেন এক বড়সড় বিপর্যয়ের সম্ভাবনা। পরিস্থিতির এক পর্যায়ে পৌঁছয় যে বিমানের নিয়ন্ত্রণও সাময়িকভাবে নেন তাদেরই একজন, পেশায় যিনি প্লাম্বার। টেলিভিশন থেকে শেখা কৌশল কাজে লাগান তিনি।

'আমি মে-ডে দেখি!' টেলিভিশনে দেখা অভিজ্ঞতায় বিমান নিয়ন্ত্রণ করেছিলেন প্লাম্বার (via REUTERS)
'আমি মে-ডে দেখি!' টেলিভিশনে দেখা অভিজ্ঞতায় বিমান নিয়ন্ত্রণ করেছিলেন প্লাম্বার (via REUTERS)

ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলাপকালে গোটা ঘটনার বর্ণনা দেন ওই যাত্রী ইয়ানিভ হায়ুন। সংবাদমাধ্যম টাইমস অফ ইজরায়েল-এর তথ্য অনুসারে, হায়ুন জানান, তিনি ককপিটে প্রবেশ করে সন্দেহভাজন হামলাকারীকে বিমানের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা থেকে সরিয়ে দেন এবং এরপর বিমানটি সঠিক পথে পরিচালনায় সহায়তা করেন। তিনি আরও বলেন, যাত্রীরা যখন ককপিটের দরজার কাছে পৌঁছান, তখন সেটি তালাবদ্ধ ছিল না। তাঁর ধারণা, ভারতীয় পাইলট হয়তো আগেই দরজাটি খুলে রেখেছিলেন। তাঁর কথায়, 'আমার ধারণা, জ্ঞান হারানোর ঠিক আগ মুহূর্তে অসাধারণ উপস্থিত বুদ্ধির পরিচয় দিয়ে তিনি আমাদের জন্য দরজাটি খুলে দিয়েছিলেন।' হায়ুনের সংযোজন, ভেতরে ঢুকে আমি দেখি, দুই আসনের মাঝখানে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কাছে ওই সন্ত্রাসী অবস্থান করছে। কিন্তু আসনগুলোতে কোনও পাইলট ছিলেন না।'

এ সময় তিনি জানান যে, তিনি কো-পাইলটকে ধরে টেনে বাইরে বের করে আনেন। হামলাকারীর কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে হায়ন বলেন, 'বিমানটিকে অকেজো করে দেওয়ার জন্য সে এর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ধ্বংস করার চেষ্টা করছিল।' টেলিভিশনে কানাডিয়ান ডকুমেন্টারি থেকে শেখা কৌশল কাজে লাগিয়ে হায়ন বিমানের নিয়ন্ত্রণ দণ্ডটি (yoke) পেছনের দিকে টেনে বিমানটিকে সোজা বা সমান্তরাল অবস্থায় আনার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, 'আমি 'মে-ডে' অনুষ্ঠানটি দেখি।'

ফ্লাইট এফজেড১০৭৩-এ কী ঘটেছিল?

ফ্লাইদুবাইয়ের তথ্য মতে, বুধবার সকালে ফ্লাইট এফজেড১০৭৩ দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দিকে যাওয়ার সময় ককপিটে (ফ্লাইট ডেকে) এক বিবাদের সূত্রপাত হয়। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক ভিডিও বার্তায় জানান, আকাশে ওড়ার সময় এক পাইলট বিমানের সিস্টেমে নাশকতা চালানোর চেষ্টা করেছিলেন। ক্যাপ্টেন মচ্ছর তাঁকে প্রতিহত করার চেষ্টা করলে তিনি আহত হন। তিনি বলেন, 'বিমানটি যখন ইজরায়েলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল, তখন এক পাইলট অন্য পাইলটকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন এবং বিমানে থাকা সবাইকে নিয়ে বিমানটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা চালান।' তবে বিমানের এক কর্মী ও এক যাত্রী ককপিটে ঢুকে পড়েন এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে নিবৃত্ত করেন।

ককপিটে ধস্তাধস্তির সময় বিমানটি দুই মিনিটের মধ্যে ১৭,৪০০ ফুটেরও বেশি নীচে নেমে গিয়েছিল। তবে নেতানিয়াহু জানান যে, ক্রু-এর এক সদস্য ককপিটে প্রবেশ করে বিমানটিকে স্থিতিশীল করেন। বিমানটিকে গতিপথ পরিবর্তন করে সৌদি আরবের একটি বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করতে বাধ্য করা হয়। ওই বিমানের সকল যাত্রী নিরাপদ আছেন। অন্যদিকে, সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং সৌদি কর্তৃপক্ষ তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।