Anil Menon in Space: মহাকাশে ভারতীয় বংশোদ্ভূত অনিল মেনন, ভারতের কোথায় রয়েছে তাঁর শিকড়?
Anil Menon in Space: কাজাখস্তানের ঐতিহাসিক বৈকানুর কসমোড্রোম থেকে রাশিয়ার সয়ুজ এমএস-২৯ মহাকাশযানে চেপে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন অনিল মেনন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই বৈকানুর থেকেই ১৯৮৪ সালে মহাকাশে যাত্রা করেছিলেন ভারতের প্রথম নভশ্চর রাকেশ শর্মা।
Anil Menon in Space: মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে ফের উজ্জ্বল হল ভারতের নাম। ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নভশ্চর অনিল মেনন আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের (আইএসএস) উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছেন। সুনীতা উইলিয়ামসের পরে আরও এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিজ্ঞানীর এই মহাকাশ অভিযান ঘিরে গোটা বিশ্বের পাশাপাশি ভারতেও তৈরি হয়েছে প্রবল উৎসাহ। বিশেষ করে কেরলে, যেখানে অনিল মেননের পারিবারিক শিকড়, সেখানে এই সাফল্য ঘিরে উচ্ছ্বাস চোখে পড়ার মতো।
মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার এই নভশ্চর কাজাখস্তানের ঐতিহাসিক বৈকানুর কসমোড্রোম থেকে রাশিয়ার সয়ুজ এমএস-২৯ মহাকাশযানে চেপে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই বৈকানুর থেকেই ১৯৮৪ সালে মহাকাশে যাত্রা করেছিলেন ভারতের প্রথম নভশ্চর রাকেশ শর্মা। সেই ঐতিহাসিক উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকেই আবার এক ভারতীয় বংশোদ্ভূতের মহাকাশযাত্রা নতুন করে আবেগ জাগিয়েছে।
বর্তমান অভিযানে অনিল মেনন আইএসএস-এ প্রায় আট মাস কাটাবেন বলে জানা গিয়েছে। এই দীর্ঘ সময় ধরে তিনি ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। মহাকাশ স্টেশনে বৈজ্ঞানিক গবেষণা, প্রযুক্তিগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং ভবিষ্যতের দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পরীক্ষায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবেন। উৎক্ষেপণের পর মাত্র তিন ঘণ্টার মধ্যেই সয়ুজ মহাকাশযানটি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের প্রিচাল মডিউলের সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
অনিল মেননের জীবনপথও কম চমকপ্রদ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপলিসে তাঁর জন্ম। তাঁর বাবা ভারতীয় এবং মা ইউক্রেনীয়। শৈশব থেকেই পড়াশোনায় অসাধারণ মেধার পরিচয় দেন তিনি। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিউরোবায়োলজিতে ডিগ্রি অর্জনের পর ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সাস মেডিক্যাল ব্রাঞ্চ থেকে অ্যারোস্পেস মেডিসিনে উচ্চশিক্ষা নেন। পাশাপাশি মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ও নিউরোবায়োলজিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিও অর্জন করেছেন। তিনি একাধারে প্রশিক্ষিত চিকিৎসক, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার এবং দক্ষ নভশ্চর—এই বিরল সমন্বয় তাঁকে নাসার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্যে পরিণত করেছে।
এই অভিযানে অনিল মেননের সঙ্গে রয়েছেন রাশিয়ার অভিজ্ঞ নভশ্চর পিওতর দুব্রভ এবং মহিলা মহাকাশচারী আন্না কিকিনা। দুই রুশ নভশ্চরের এটি দ্বিতীয় মহাকাশ সফর হলেও অনিলের কাছে এটি প্রথম মহাকাশ অভিযান। ফলে এই মিশন তাঁর জীবনের এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে দীর্ঘ সময় অবস্থান ভবিষ্যতের চাঁদ ও মঙ্গল অভিযানের প্রস্তুতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে পরিচালিত নানা বৈজ্ঞানিক গবেষণার ফল মানবসভ্যতার ভবিষ্যৎ মহাকাশ অনুসন্ধানে নতুন দিশা দেখাতে পারে। সেই গবেষণারই অংশ হতে চলেছেন অনিল মেনন।
ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই বিজ্ঞানীর সাফল্য শুধু ভারতীয়দের কাছেই নয়, বিশ্বের বিজ্ঞানমহলেও গর্বের বিষয়। রাকেশ শর্মা থেকে সুনীতা উইলিয়ামস, আর এবার অনিল মেনন—মহাকাশ অভিযানে ভারতীয় শিকড়ের এই ধারাবাহিক সাফল্য আগামী প্রজন্মকে বিজ্ঞান ও মহাকাশ গবেষণার প্রতি আরও অনুপ্রাণিত করবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


