Tibet Earthquake: নেপালে হড়পার রেশ কাটতে না কাটতেই ভূমিকম্প তিব্বতে! বাড়ছে উদ্বেগ, ফের বিপদের শঙ্কা?

Tibet Earthquake: ঠিক এক সপ্তাহ আগেই, গত ২৬ অগাস্ট তিব্বত-নেপাল সীমান্ত সংলগ্ন অঞ্চলে এক হিমবাহ ধসে পড়ার ফলে সৃষ্টি হয় প্রলয়ংকরী হড়পা বান। সেই জলপ্লাবনের তোড়ে ভেসে যায় বিস্তীর্ণ জনপদ।

Published on: Sep 3, 2026, 20:56:08 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Tibet Earthquake: নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানের রেশ এখনও কাটেনি (Nepal Flash Flood)। এরই মাঝে এবার জোরাল ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল তিব্বত (Tibet Earthquake)। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৫। ভূমিকম্পের জেরে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। নতুন করে বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ভূমিকম্পের পর নতুন কোনো বিপর্যয় দেখা দিতে পারে কি না, তা নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে তাঁদের। পাহাড়ি এলাকায় ভূমিকম্পের পর ভূমিধস কিংবা অন্য কোনও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা থাকায় পরিস্থিতি সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

নেপালে হড়পার রেশ কাটতে না কাটতেই ভূমিকম্প তিব্বতে (AFP)
নেপালে হড়পার রেশ কাটতে না কাটতেই ভূমিকম্প তিব্বতে (AFP)

জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেস (GFZ)-এর তথ্য অনুযায়ী, মাটি থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে ছিল এই ভূকম্পনের উৎসস্থল। তবে এখনও পর্যন্ত বড় ধরনের কোনও ক্ষয়ক্ষতির বা হতাহতের খবর মেলেনি। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। কয়েক দিন আগেই ভয়াবহ হড়পা বানে কার্যত বিপর্যস্ত হয়েছিল তিব্বত ও নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকা। পাহাড়ি অঞ্চলে আকস্মিক জলস্রোত নেমে এসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে। সেই বিপর্যয়ের রেশ কাটার আগেই নতুন করে মাটির কম্পন স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক বাড়িয়েছে। এই কম্পনের জেরে আরও কোনও প্রাকৃতিক বিপর্যয় ধেয়ে আসতে পারে কিনা, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন স্থানীয়রা।

ঠিক এক সপ্তাহ আগেই, গত ২৬ অগাস্ট তিব্বত-নেপাল সীমান্ত সংলগ্ন অঞ্চলে এক হিমবাহ ধসে পড়ার ফলে সৃষ্টি হয় প্রলয়ংকরী হড়পা বান। সেই জলপ্লাবনের তোড়ে ভেসে যায় বিস্তীর্ণ জনপদ। এখনও পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, নেপালে এই বিপর্যয়ে অন্তত ১,২৫২ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন ৪,২০০ জনেরও বেশি মানুষ। অন্যদিকে, চিনের তিব্বত অংশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ এবং নিখোঁজ ৫৪৬ জন। নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন ১০৪ জন নেপালি নাগরিক, ৪৯ জন ভারতীয় এবং ৩৩ জন লাটভিয়ান পর্যটক। এই নিখোঁজ ভারতীয়দের বড় অংশই কৈলাস মানস সরোবর যাত্রার পুণ্যার্থী ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।

হড়পা বানের কারণে তিব্বতের গ্যিরং সীমান্ত পারাপারের প্রধান রাস্তাটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। তবে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় তা আবার সচল করেছে চিন। দুর্গত এলাকায় ভারী যন্ত্রপাতি পৌঁছানোর পাশাপাশি মোতায়েন করা হয়েছে উদ্ধারকারী দল, স্নিফার ডগ এবং অত্যাধুনিক জীবন-অনুসন্ধানকারী যন্ত্র। তবে অবিরাম বৃষ্টি, বিপজ্জনক পাহাড় এবং খরস্রোতা নদী উদ্ধারকাজে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। উদ্ধার ও ত্রাণকাজে সর্বাত্মক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে বেজিং। নেপালের পাশে দাঁড়িয়ে অতিরিক্ত ডিএনএ শনাক্তকরণ বিশেষজ্ঞ, বেইলি ব্রিজ এবং জরুরি যোগাযোগ সরঞ্জাম পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে চিনের পক্ষ থেকে। ভয়ংকর দুর্যোগে কত বাড়ি, অফিস, সেতু, দোকান-বাজার ভেঙেছে, তার স্পষ্ট হিসাব এখনও প্রশাসনের কাছে নেই। মনে করা হচ্ছে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক লক্ষ কোটি টাকা। ভঙ্গুর অর্থনীতি মধ্যে এত বড় বিপর্যয়ে কার্যত দিশাহারা বলেন্দ্র শাহ সরকার। এই অবস্থায় বুধবার ভারত ও চিনের কাছে ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছিল নেপাল। পরে অবশ্য সুরও নরমও করে তারা। তবে বারবার ঘটে চলা এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে হিমালয় সংলগ্ন এই অঞ্চলে এখন চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।