Rajasthan University: প্রশ্নপত্রের বদলে হাতে উত্তরপত্র! বাতিল পরীক্ষা, রাজস্থানে ক্ষোভে ফুঁসছে পড়ুয়ারা
Rajasthan University: জানা গেছে, মঙ্গলবার ছিল এমএ সমাজবিজ্ঞানের দ্বিতীয় সেমিস্টারের পরীক্ষা। প্রায় ৩০০ জন পড়ুয়া পরীক্ষা দেওয়ার জন্য নিবন্ধিত ছিল। কিন্তু পরীক্ষা হল সিল করা খাম খোলার পরপরই দেখা যায়, তাতে প্রশ্নপত্র নেই, বরং রয়েছে গোটা উত্তরপত্র।
Rajasthan University: গত ৩ জুনের নিট-ইউজি পরীক্ষা নিয়ে বিস্তর বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সেই আঁচ এখনও গনগনে। প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের পর সেই পরীক্ষা বাতিল করে আজ, রবিবার ফের একবার নিট পরীক্ষা হয়েছে। তবে তার মধ্যেই রাজস্থানের শিক্ষামহলে এক নজিরবিহীন ঘটনা ঘটল। জয়পুরের রাজস্থান বিশ্ববিদ্যালয়ে এমএ সমাজবিজ্ঞানের দ্বিতীয় সেমিস্টারের পরীক্ষা চলাকালীন ঘটে গেল এক চরম হাস্যকর ও দায়িত্বজ্ঞানহীন ঘটনা। পরীক্ষা কেন্দ্রে ৩০০ জন ছাত্রছাত্রী যখন প্রশ্নপত্র পাওয়ার অপেক্ষায় ছিল, তখন তাঁদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয় পরীক্ষার 'উত্তরপত্র।' প্রশ্নপত্রের বদলে উত্তরপত্র দেখা মাত্রই হতবাক হয়ে যান পরীক্ষার্থীরা। মুহূর্তের মধ্যে পুরো পরীক্ষা কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।

জানা গেছে, মঙ্গলবার ছিল এমএ সমাজবিজ্ঞানের দ্বিতীয় সেমিস্টারের পরীক্ষা। প্রায় ৩০০ জন পড়ুয়া পরীক্ষা দেওয়ার জন্য নিবন্ধিত ছিল। কিন্তু পরীক্ষা হল সিল করা খাম খোলার পরপরই দেখা যায়, তাতে প্রশ্নপত্র নেই, বরং রয়েছে গোটা উত্তরপত্র। প্রথমে বিষয়টিকে মডেল পেপার মনে করলেও, পরে বিষয়টি স্পষ্ট হতেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। পরীক্ষা দিতে অস্বীকার করেন পড়ুয়ারা এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের চরম গাফিলতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদে শামিল হন। ছাত্রনেতা লক্ষ্যরাজ লুহারিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'পরীক্ষার মতো সংবেদনশীল প্রক্রিয়ায় এমন অবহেলা মেনে নেওয়া যায় না। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে সরাসরি আঘাত করেছে। আমরা অবিলম্বে দোষী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।'
এই প্রশ্নপত্র কীভাবে তৈরি হয়েছিল, তা নিয়েই শুরু হয়েছে বিতর্ক। কিছু পড়ুয়ার অভিযোগ, প্রশ্নপত্রটি সম্ভবত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর কোনও সরঞ্জামের সাহায্যে তৈরি করা হয়েছিল এবং তা যথাযথভাবে যাচাই না করেই ছাপানো হয়। যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে এমন কোনও তথ্য জানানো হয়নি, যাতে নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে প্রশ্নপত্র তৈরিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করা হয়েছিল। ফলে বিষয়টি এখন অভিযোগ ও তদন্তের পর্যায়েই রয়েছে। তবে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মুদ্রণ বিভ্রাটের জেরেই এই বিপত্তি। প্রশ্নপত্র প্রস্তুতকারী সংস্থা থেকে সিল করা খামে করে প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র আলাদাভাবে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু মুদ্রণের সময় ভুলবশত উত্তরপত্রের খামগুলোকেই প্রশ্নপত্র ভেবে ছাপানো হয় এবং সিল করা খামগুলো পরীক্ষা কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরীক্ষা কেন্দ্রে সিল খোলার আগ পর্যন্ত এই গুরুতর ত্রুটি কারোরই নজরে আসেনি। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে রাজস্থান বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি পরীক্ষাটি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয়। ওই পরীক্ষার নতুন দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী ২৭ জুন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক রাকেশ রাও জানান, পুরো বিষয়টি তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠে গেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই খবর দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ায় নিন্দার ঝড় উঠেছে।
E-Paper

